default-image

এখন যেন নাসিমা বেগমের দুঃসময়। এই তো কিছুদিন আগেও রোজ যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো তাঁর, গত দুই সপ্তাহ ধরে তা নেমেছে ২০ কি ৩০ টাকায়। এদিকে ঘরে বাজার নেই, পবিত্র রমজান মাসে খেয়ে না খেয়ে রোজা রাখছেন। তাই তো বললেন, ‘ছোট ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে কষ্টেই আছি, আপা।’

২০ এপ্রিল মিরপুর ১ নম্বর মূল সড়কের ফুটপাতে দেখা পেয়েছিলাম নাসিমা বেগমের। সেখানেই তিনি সাইকেল-রিকশা সারাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে বসেন। সাইকেল-রিকশার ছোটখাটো ত্রুটি সারান। প্রায় সময় রিকশাচালকেরা নিজেরাই টায়ারে হাওয়া দেন, অনেকে আসেন রিকশার চেইনে তেল দিয়ে ঠিকঠাক করতে। লকডাউন শুরুর পর এখন কাজ কমে গেছে। তাই উপার্জনও নেই বললেই চলে।

বিজ্ঞাপন

স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর নাসিমা বেগম নিজেই উদ্যোগী হয়ে মিরপুরের ফুটপাতে কাজ শুরু করেন। প্রায় তিন বছর রিকশা-সাইকেল সারাইয়ের কাজ করছেন তিনি। ফুটপাতের পাশে যে বস্তি, সেখানেই দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন।

নাসিমার সঙ্গে গতকাল যখন দেখা হলো, তখন দুপুর। প্রখর রোদে ফুটপাতের এক কোণে বসে দুটি টার্কি মুরগিকে শাক খাওয়াচ্ছেন তিনি। জমানো টাকা নেই, টার্কি দুটি বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প দেখছেন না নাসিমা।

কথায় কথায় জানালেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই তাঁর, ভয় দুমুঠো ভাতের সংস্থান করা নিয়ে। তাই হয়তো আয় হবে না জেনেও রোজ সাইকেল-রিকশা সারাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে ফুটপাতে বসেন, তপ্ত রোদে পোড়েন।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন