বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রিকার্ভের মিশ্র দলগত ইভেন্টে সব সময় দলের সেরা পুরুষ ও নারী আর্চার খেলেন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এই ইভেন্টে কখনো ইতি খাতুন, কখনো শ্রাবণী আক্তারের সঙ্গে খেলেছি। তবে সবচেয়ে বেশি খেলেছি দিয়ার সঙ্গে জুটি গড়ে। আমার মনে হয় দিয়ার সঙ্গেই আমার বোঝাপড়াটা ভালো। কারণ, এমনও অনেক সময় গেছে, যখন দলের প্রয়োজনে আমার চেয়ে ভালো স্কোর করেছে দিয়া। যেটা আমি পারিনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ওর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে দল জিতেছে।

নেপালে সর্বশেষ এসএ গেমসে আমরা আর্চারিতে দশে দশ পেয়েছিলাম। মানে দশটি ইভেন্টের সবকটিতেই সোনা জিতি আমরা। কিন্তু ওই দলে খেলার সুযোগ পায়নি দিয়া। এটা নিয়ে ওর মনে অনেক কষ্ট ছিল। ওই সময় সে দলে থাকলেও স্কোর ভালো করতে পারছিল না। অনেকে বলতেন, দিয়া হারিয়ে গেছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা ও নিয়েছিল। সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে।

টোকিও অলিম্পিকে আমরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। জানতাম, দুজন ভালো স্কোর করতে পারলে অলিম্পিকের প্রাথমিক পর্ব পার করে আমরা চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারব এবং সত্যিই দিয়াকে সঙ্গী করে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটা মাইলফলক রচনা করেছি। বাংলাদেশের কেউ এর আগে অলিম্পিকে গিয়ে কখনো কোনো খেলায় বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারেনি। আর্চারিতে আমি আর দিয়া সেটা করে দেখিয়েছি। অলিম্পিকে কখনো পদক জিততে পারব কি না, জানি না। তবে কখনো হাল ছাড়ব না। দিয়ারও একই লক্ষ্য।

default-image

দিয়ার ঝুলিতে থাকে বিশেষ একটা তির। ছোড়ার পর সাধারণত নিজেদের তির নিজেরাই কুড়িয়ে আনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এটাই রীতি। কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা চলার সময় দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না বাংলাদেশের কে কোন তির ছুড়ছে। সবার জার্সির রং এক। কিন্তু দিয়া ব্যতিক্রম। আমাদের দলের মধ্যে সহজেই ওকে চিনে নেওয়া যায়। কাঁধে থাকা ঝুলিতে আমরা শুধুই তির রাখি। কিন্তু দিয়ার ঝুলিতে থাকে বাড়তি তির, ওই বিশেষ তিরের মাথায় বাঁধা থাকে বাংলাদেশের লাল–সবুজের পতাকা। দূর থেকে লাল–সবুজ পতাকা চোখে পড়লেই বোঝা যায়, ওই যে আমাদের দিয়া যাচ্ছে। আমাদের জার্সিতে বাংলাদেশের পতাকা থাকে। কিন্তু দিয়া যেন এতটুকুতে সন্তষ্ট নয়। ও বাড়তি পতাকা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। আমার স্বপ্ন, একদিন দিয়ার হাত ধরেই অলিম্পিকে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা।

লেখক: আর্চারি বিশ্বকাপে রুপাজয়ী আর্চার

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন