বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পড়াশোনা তাঁর কম্পিউটার সায়েন্সে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলে বসে বন্ধুর সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘অ্যানালাইজেন’। নিজের পড়াশোনার খরচ আর কিছুটা পরিবারকে সহায়তা করতে ‘কিছু একটা করা’র তাগিদ থেকেই এই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। আর এভাবেই উদ্যোক্তা রিদওয়ানের যাত্রা শুরু। যদিও সফটওয়্যার আর অ্যাপ বানানোর কাজ দিয়ে শুরু করেও কীভাবে যেন অ্যানালাইজেন হয়ে গেল শীর্ষ ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থা।

সেখান থেকে গোযায়ান। এবার নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে করেছেন? হেসে বলেন রিদওয়ান, ‘আগের মতোই। নতুন কিছু করতে চাচ্ছিলাম। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আমাকে ঘন ঘন বিদেশ যেতে হতো। তখন দেখতাম, অনলাইনে নিজের মতো করে টিকিট কাটা খুব কঠিন। বিশেষ করে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে নানান জটিলতা। ওই সমস্যা থেকেই মূলত গোযায়ানের চিন্তা। দেখলাম ভ্রমণের ক্ষেত্রটা অনেক বড়। এখানে নতুন কিছু করার সুযোগ আছে। কিছুদিনের মধ্যে প্রাথমিক বিনিয়োগও পেয়ে গেলাম। সহজেই উড়োজাহাজের টিকিট আর হোটেল বুকিংয়ের সুযোগ। গ্রাহকবান্ধব প্ল্যাটফর্ম আর আপসহীন প্রযুক্তি নিয়ে গোযায়ান দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠল। এখন বাসের টিকিটও কাটা যায়। তবে একটু ভিন্ন আদলে ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা দেওয়ার বিষয়টাকে আমরা আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

default-image

পর্যটনের চেনা জায়গাগুলোকে একটু অন্যরকম করে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে গোযায়ান। যেমন কক্সবাজারে আমরা অনেকেই যাই। কিন্তু জেলেদের নৌকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা কিংবা সৈকতের ঝাউবনে তাঁবু খাঁটিয়ে থাকার মতো অন্যরকম ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা গোযায়ানকে চেনাচ্ছে আলাদা করে।

এখন কেমন করছে গোযায়ান? রিদওয়ানের কাছ থেকে জানা গেল, ‘এ বছর মাঝ-এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে এক লাখ মানুষ আমাদের মাধ্যমে ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং করে দেশ–বিদেশ ভ্রমণ করেছে। গোযায়ানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে মাসে সাত লাখের বেশি মানুষ ভিজিট করেন।’ সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে গোযায়ান এখন দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন ট্রাভেল অ্যাগ্রিগেটর (ওটিএ)। তাঁর সঙ্গে কাজ করেন ১২৫ তরুণের একটা দল। প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েভমেকার পার্টনারস’ থেকে সম্প্রতি ২৬ লাখ ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে গোযায়ান। পাকিস্তানের ভ্রমণ-স্টার্টআপ ‘ফাইন্ড মাই অ্যাডভেঞ্চার’কে অধিগ্রহণ করেছে গোযায়ান। স্টার্টআপটি এখন গোযায়ান নামেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের গোযায়ান পাকিস্তানেও বেশ সাড়া ফেলতে শুরু করেছে। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রিদওয়ান হাফিজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার অনেক যৌক্তিক উপলক্ষ আর সম্ভাবনা রয়েছ। পর্যটনে বিশ্বজয়ের মূল সাহস এখান থেকেই।

লেখক: হেড অব বিজনেস, প্রথম আলো ডিজিটাল

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন