default-image

এ দুর্ঘটনায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যায় সালেহীন। কোমরের হাড়সহ শরীরের নানা হাড় ভেঙে যায়, মারাত্মকভাবে জখম হয় শরীর। প্রিয় বন্ধুদের মৃত্যুর শোক ওকে মানসিকভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে। শারীরিক ও মানসিক এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সালেহীন আর কখনো পাহাড়ে বা অভিযানে যাবে, অনেকেই সে সময় সেটা কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু সালেহীনের স্বভাব নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া। দুর্ঘটনা থেকে সেরে উঠে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলে আরও বেশি উদ্যমে পর্বত অভিযান আর অ্যাডভেঞ্চার কর্মকাণ্ড শুরু করে। সহ-অভিযাত্রী বন্ধুদের হারিয়ে কিছুটা একা একাই অসমাপ্ত প্রজেক্টটি শেষ করার লড়াইয়ে নামে। এক এক করে বাকি চূড়াগুলোর তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে এবং শুরুর এক যুগ পরে গত বছর দেশের তিন হাজার ফুটের ওপরের সব কয়টি পাহাড়চূড়ার তথ্য সংগ্রহের প্রজেক্টটি সফলভাবে শেষ করে।

সালেহীনদের উদ্যোগগুলোর মধ্যে আমার খুব পছন্দের একটি হলো ‘অদ্রি’। এটি বাংলাদেশে পাহাড়-পর্বতবিষয়ক জানাশোনা ও চিন্তাভাবনার একটা বুদ্ধিবৃত্তিক মঞ্চ। দেশের একমাত্র পাহাড়–পর্বতবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ও ম্যাগাজিন। তবে এটা অদ্রির অনেকগুলো কাজের একটা মাত্র।

এত সব কাজের মধ্যেও সালেহীন তার প্যাশন লেখালেখির জন্য ঠিকই সময় বের করে নেয়। পর্বতারোহণ ও অ্যাডভেঞ্চার বিষয়ে ওর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ট্রেকিংয়ের হাতেখড়ি নামে ওর দারুণ একটি বই আছে, যা বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

সালেহীনের মাথায় সব সময় অ্যাডভেঞ্চার, পর্বতারোহণ কিংবা এ–সংক্রান্ত বিষয়ে আইডিয়া ঘুরতে থাকে। কিছুদিন ধরে সালেহীন ‘ক্লাইম্ব ফর আর্থ’ নামে এটা নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের দুর্গম পাহাড়ে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, পাহাড়ের প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং প্রকৃতি পুনরুদ্ধার নিয়ে ইতিবাচক কাজ করা হবে। এ ছাড়া ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’ সম্পূর্ণ করা, পামির অঞ্চলের পর্বতগুলোয় অভিযানের মতো দারুণ সব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার রয়েছে। আমার বিশ্বাস, নিজেকে এবং নানা প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করে ভবিষ্যতে সালেহীন তার জীবনযাত্রায় বারবার নিজের সীমানা অতিক্রম করে উঠতে থাকবে নতুন উচ্চতায়। সালেহীনের জন্য অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা।

লেখক: উপদেষ্টা, ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি)

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন