বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম অবস্থায় শিল্পীর চিকিৎসক ছিলেন আতা এলাহী। কিন্তু যাঁর কারণে শিল্পী আবার নবজন্ম পেলেন, তিনি প্রয়াত প্রখ্যাত নিউরোসার্জন ডা. রশিদ উদ্দিন। রশিদ উদ্দিনের সুখ্যাতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পড়েছিল আরও দূরে। আপাতচোখে আপনভোলা মানুষটি ঢাকা ক্লাবের লন টেনিস কোর্টে কিংবা দাবার চালে একবার মেতে উঠলে ভুলেই যেতেন তাঁর জটিল অস্ত্রোপচারের সময়সূচি (আনিসের বড় বোন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন টেনিস কোর্টের পাশে)। আবার সেই মানুষই রোগীর খুলি ভেঙে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিখুঁত কারুশিল্পীর মতো অস্ত্রোপচার করে ফিরিয়ে দিতেন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের নতুন জীবন। চমকে দিতেন স্বজনদের। শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় আনিসকে পাঠানো হয়েছিল পূর্ব জার্মানিতেও। দেশে-বিদেশে মিলিয়ে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার হয় ১১ বার। মাথার পেছনে ভালভ লাগিয়ে আনিস দেশে ফিরে এসেছিলেন যমের অতিথিশালা থেকে। কিন্তু তাঁর শরীরের ডান দিকে শক্তি গেল কমে।

default-image

বিশেষ করে ডান হাতের কার্যকারিতা গেল হারিয়ে। মুষড়ে পড়লেন তিনি। ঠিক সেই সময় পরিবারের একজন বন্ধু গুরুজন তাঁর হাতে তুলে দেন নিকোলাই অস্ত্রোভস্কির লেখা বই ইস্পাত। অস্ত্রের মতোই যেন কাজ করলেন অস্ত্রোভস্কি। গুঁড়িয়ে দিলেন আনিসের মনের হতাশা। এর সঙ্গে যুক্ত হলো পরিবারের কারও কারও সহানুভূতি। আবার সেই জগৎ—রং, তুলি, কাগজ, ক্যানভাস, ইজেল, প্যালেট। কখনো জলরং, কখনো তেলরং। আনিস আবার ছবি আঁকা শুরু করলেন। চাকরিতেও যোগ দিলেন। তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাঁর সৃজনশীলতার মাধ্যম গেল পাল্টে। ডান হাতে নয়; ছবি আঁকা, নকশা করা সবই তাঁর বাঁ হাতে। মনের জোরে কী না হয়?

default-image

আশা করি, এবার আর বুঝতে অসুবিধা নেই কেন আনিসুর রহমানের প্রথম একক প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন ডা. রশিদ উদ্দিন। এরপর আনিস দেশ-বিদেশ মিলিয়ে আরও বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী করেছেন। গ্যালারিগুলোতে অন্যের প্রদর্শনী দেখতে গেছেন। হাঁটাচলায় অসুবিধা হলেও তার তোয়াক্কা করেননি। কারও সহযোগিতায় ঠিকই পৌঁছে যেতেন প্রদর্শনীর হলে। শিল্পীর ছবিতে দেখেছি অনেক মুখ। নিষ্পাপ কিশোরীর মুখ। মুক্তিযোদ্ধার মুখ। মায়ের মুখ। উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে ভরে যেত ক্যানভাস। দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে, চিন্তার অন্ত ছিল না শৌখিন মানুষটির।

গত বছরের ১২ অক্টোবর পৃথিবী ছেড়ে চলে যান আনিসুর রহমান। আমাদের বড় মামা। ১৯৭৭ সালে ব্রেন টিউমার আক্রান্ত হয়েও হেরে না যাওয়া মানুষটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ছিলেন পৃথিবীর বুকে। তাঁর লড়াই সহজ লড়াই ছিল না। যদিও পরিবার ছিল পাশেই। অগ্রজ শিল্পী রফিকুন নবীও অনুজ বুলবুলের (আনিসুর রহমানের ডাকনাম) চলে যাওয়ায় তাই ফোন করে বলেন—বুলবুলের বাঁ হাতের ছবি আঁকা অনেকের জন্যই প্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন