default-image

ছোটবেলায় দেখতাম মানুষের বিপদ দেখলেই আমার বাবা সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যেতেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ সন্তানের বিয়ে দিতে পারছেন না­—মানুষের এমন বিপদে হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি। পেশায় বাবা একজন ব্যবসায়ী। নিজের ব্যবসার কাজ ফেলেও অনেক সময় মানুষের ডাকে বেরিয়ে পড়তেন। যখন ছোট ছিলাম তখন বাবার এই পাগলামি খুব বিরক্ত লাগত।

তবে একটি ঘটনায় আমার চিন্তাধারা পাল্টে যায়। ১৪-১৫ বছর আগে আমাদের গ্রামের এক কুষ্ঠ রোগীর জন্য দুর্লভ ‘এ’ নেগেটিভ রক্ত জোগাড় করে দিলেন বাবা। তখন গ্রামের সবাই বাবাকে বাহবা দিল। ওই দিন থেকেই বাবার কাজগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করতে শুরু করল। একপর্যায়ে আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম আমিও মানুষের সেবায় কাজ করব।

বিজ্ঞাপন

এরপর থেকে আমার গ্রামের অসচ্ছল পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত বিনা মূল্যে পড়াতাম। গ্রামের আমার বয়সী তরুণদের নিয়ে আমি গড়ে তুলেছি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সংগঠন। আমাদের এই সংগঠনের বিস্তৃতি এখন ছড়িয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জ জেলায়। এমনকি আমাদের জেলা থেকে কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ বা ঢাকা গেলে, আমরা সেখানেও প্রয়োজনে রক্তদাতার খোঁজ দিই। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিই। শীতকালে আমরা অসহায়দের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ারও চেষ্টা করি।

করোনাকালেও আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। লকডাউনের সময় আমরা প্রায় ৩০০ পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। এ ছাড়া সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করেছি। মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারেও জানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন