বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরের চকবাজারে একটি ছোট্ট দোকানে বাবা সবজি বিক্রি করতেন। আমরা থাকি পটিয়ায়। বাবার যা আয় হতো, তার পুরোটাই প্রায় বাড়িতে পাঠাতেন। কষ্টেসৃষ্টে কেটে যাচ্ছিল আমাদের জীবন। বাবা চকবাজারেরই একটি মেসে থাকতেন। সময় করে বাড়ি আসতেন। আমরা বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকতাম। অভাব থাকলেও নির্ভরতার মানুষ ছিল আমাদের, স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় জীবনের তাল কেটে গেল। গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরের চশমাখালে তলিয়ে যান বাবা। আমরা তাঁর মুখটুকুও শেষবারের মতো দেখলাম না। কোথায় গেছেন, খোঁজও পেলাম না।

আমাদের পরিবারের সবার মনে যন্ত্রণা ঘিরে ধরেছে। দমবন্ধ এক পরিবেশ। এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি, কাউকে কখনো বলে কিংবা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।

আমার বাবা ছালেহ আহমেদ চশমা খালে তলিয়ে যান বেলা ১১টার দিকে। তিনি ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরিফে যাচ্ছিলেন। তখন আমি ছিলাম চকবাজারে। বাবার দোকানেই বসেছিলাম। ১২টার দিকে কয়েকজন পরিচিত লোক এসে খবর দেন, বাবা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। মুহূর্তেই ছুটে যাই সেখানে। কিন্তু বাবার দেখা পেলাম না।

বাবার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল ২২ আগস্ট। বাড়ি থেকে মা নিজের হাতে রান্না করে কিছু খাবার পাঠিয়েছিলেন। ওই খাবার নিয়েই চকবাজার গিয়েছিলাম। সেখানে টুকটাক কথা হয় বাবার সঙ্গে। কী কথা হয়েছিল তা পুরোপুরি মনে নেই। তবে যেটুকু মনে পড়ে, বাবা বলেছিলেন, ‘২৫ তারিখ তুই শহরে আসিস। দোকানে বসতে হবে। আমি মাজারে যাব।’ ও-ই শেষ দেখা, শেষ কথা। শেষ যেন সবকিছুই। আমাদের অন্ধকারে ডুবিয়ে তিনি কোথায় চলে গেলেন, তা আজও জানি না। এ দুর্ঘটনার পর আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন থমকে গেছে। একমাত্র ছোট বোন জান্নাতুল মাওয়া। হয়তো সে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। আমাদের স্বপ্ন পূরণ করবে।

এখন পরিবারের জন্য আমাকে কাজে নেমে পড়তে হবে। এর মধ্যে আগামী ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে হবে একবুক যন্ত্রণা আর হতাশা নিয়ে। একদিকে পরিবারের হাল ধরা, অন্যদিকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা কি ছিল? এ দায় কার? কেন আমি বাবাকে হারালাম? এসব প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করছে।

অনুলিখন: সুজয় চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন