ভালোবাসার ভেসপা

পুরান চাল ভাতে বাড়ে আর পুরান ভেসপা স্কুটারে বাড়ে আভিজাত্য! প্রচলিত বাংলা প্রবাদবাক্যটির সঙ্গে ভেসপা মিলিয়ে ফেলার উপলক্ষ খুঁজে পেলাম এক প্রদর্শনীতে গিয়ে। প্রদর্শনীটি ইতালির ভেসপা ব্র্যান্ডের মোটরবাইকচালক আর সংগ্রাহকদের। ভেসপাপ্রেমী এই মানুষেরাই একত্র হয়েছিলেন প্রদর্শনীতে।

৬ নভেম্বর রাজধানীর বেরাইদ এলাকায় ‘১০০ ফুট’ রাস্তার পাশে বসেছিল দিনব্যাপী ভেসপা প্রদর্শনী। ভেসপা ওয়ার্ল্ড ডেজ ২০২০ নামে এই আয়োজন করেছিল ভেসপা ক্লাব বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ। ২০১৯ সাল থেকে সংগঠনটি এই আয়োজন করে আসছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে ঢুকতেই আমন্ত্রণ জানাল দেড় শতাধিক বাইক। প্রতিটি বাহনই সচল রয়েছে। এগুলো মূলত ইতালি আর ভারতে তৈরি বিভিন্ন সময়ের ভেসপা। এত বাহনের মধ্যে ২০টি ভেসপা আলাদা করে রাখা হয়েছিল। প্রদর্শনীর সবচেয়ে পুরোনো আর ব্যয়বহুল এগুলো। বয়স ৫০ বছরের বেশি। সবচেয়ে পুরোনো ভেসপাটি নিয়ে এসেছিলেন সংগ্রাহক দিদারুল ইসলাম। ১৯৬২ সালের ভিভিবি মডেলের এই স্কুটার সম্পর্কে দিদারুল জানালেন, এর বিশেষত্ব হলো, এর আদি রং ও বাহ্যিক কাঠামোতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি। বছর দশেক আগে এটি সংগ্রহ করেন তিনি।

গাজীপুর থেকে প্রদর্শনীতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম। বাবা ও ছেলে দুজনেই এসেছেন ভেসপা স্কুটারে চেপে। আব্দুল কাইয়ুম জানালেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভেসপা চালান তিনি। আশির দশক থেকে তাঁর সংগ্রহে থাকা তিনটি ভেসপা এখন পরিবারের অন্যতম সদস্য।

default-image

ভেসপা ক্লাব বাংলাদেশ ফেসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রূপক রহমান। ২০১১ সালে ফেসবুকে তিনি গ্রুপটি চালু করেন। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে ভেসপার যন্ত্রপাতি ও মেরামতকারীর সংখ্যাও খুব কম। ক্ল্যাসিক এই বাহন চালানোর চল ধরে রাখতেই গ্রুপটি খোলা হয়।’

এই গ্রুপের বর্তমান সদস্য ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। ভেসপাচালক ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভেসপা মেরামতকারীরাও যুক্ত আছেন গ্রুপে। গেল বছর মিলনমেলা ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি ভেসপা নিয়ে কুমিল্লায় আনন্দভ্রমণের আয়োজন করেছিল ভেসপা ক্লাব বাংলাদেশ। রূপক রহমান বলেন, ‘এ বছর করোনা মহামারির কারণেই সীমিত পরিসরে মিলনমেলার আয়োজন করা হলো।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0