default-image

নকশার সঙ্গে মিলিয়ে রডগুলো সাজানো হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে ব্যস্ত এনামুল হক। ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পে ‘সুপারভাইজার’ তিনি। তাঁর সঙ্গেই আলাপ করব। তা জেনে অন্যদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে কথা বলতে এগিয়ে এলেন। গতকাল ৩০ এপ্রিল বিকেলে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় কথা হলো তাঁর সঙ্গে। তরুণ এনামুল জানালেন, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছেন। এর আগে রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারসহ সরকারি বেশ কিছু নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

তবে মেট্রোরেলের কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে অভিজ্ঞতা আর দায়িত্ব—দুটোই বেড়েছে। ২০১৭ সালে রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে এনামুলের কর্মজীবন শুরু হয়। আর্থিক টানাপোড়েনে এইচএসসির পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বড় ভাইয়ের হাত ধরে নির্মাণশ্রমিকের পেশায় আসেন এনামুল। বছর চারেকের মধ্যে নিজেকে পোক্ত করে তুলেছেন। এখন তাঁর অধীনে কাজ করেন ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল।

বিজ্ঞাপন

এনামুল হক বলেন, ‘আমাকে ইঞ্জিনিয়ার স্যার নকশা বুঝায় দেয়। এরপর আমি ওই নকশা আমার অধীনের ফোরম্যানদের (সহকারী) দেখায় দেই। ফোরম্যানরা তখন লেবারদের নিয়ে নকশা অনুযায়ী কাজ করে। আর আমি ওদের কাজ তদারক করি।’

সকাল আটটা থেকে কাজ শুরু হয় এনামুলের। প্রতিদিন সকালে কাজের শুরুতে সব কর্মী একত্র হন। সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে মানসম্পন্ন কাজ করা যায়, সে বিষয়ে কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে কর্মীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করে কাজে পাঠানো হয়।

এনামুল জানালেন, এখানে কাজ করতে এসে তিনি ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে অনেক সচেতন হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগে তো খালি পায়ে কাজ করতাম, হাত-পায়ে ব্যথাও পেতাম। কিন্তু এখানে জুতা, হেলমেট পরে কাজ করি। আর সব সময় নিরাপত্তার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা হয়। তাই সবাই এখানে নিরাপদে কাজ করে।’

কাজ শেষে অবসরে কর্মক্ষেত্রের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন এনামুল। স্কুলজীবনের কয়েকজন বন্ধুও এখানে এনামুলের সঙ্গে কাজ করেন। তাই অবসরটা কাটে সেই স্কুলের মাঠের আড্ডার মতোই।

সুযোগ পেলে নিজের বাড়ি নওগাঁতে মা-বাবা আর স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। কখনো কখনো ভিডিও কল দিয়ে পরিবারের লোকজনকে দেখান, কত বড় প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি! মাস্কের আড়াল থেকে ফুটে ওঠা লাজুক হাসি নিয়ে এনামুল বলেন, ‘মেট্রোরেল চালু হতে হতে আমার আড়াই বছরের মেয়েটা আরেকটু বড় হবে। আমার একটা ইচ্ছা আছে, পরিবারের সবাইকে ঢাকায় এনে মেট্রোরেলে চড়াব। ওদের বলব, দেখো, এটা (মেট্রোরেল লাইন) বানাতে আমারও শ্রম আছে!’

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন