default-image

সূর্য ডুবে যাওয়ার আগে আর পরে অনেকক্ষণ আকাশে মায়া ছড়ানো আলো থাকে। দিনের আলো বিদায় নিতে চায় রাতের অন্ধকারের কাছে। পাড়ার ছেলেমেয়েদের বদন, খেলার গতি বেড়ে যায়। পাখিরা ঘরে ফিরতে থাকে। আর আমি পশ্চিমের জানালার পাশে এসে দাঁড়াই। আনমনে দেখি বুলবুলি পাখিটার ডিমগুলো ফেটে গেছে, মা পাখিটা উষ্ণতা দিচ্ছে।

ইংরেজি অক্ষর ‘এল’ আকৃতির ডালের ফাঁক দিয়ে দূরের সাদা বাড়ির যে জানালাটা দেখা যায়, সেখানে কেউ একজন লম্বা সময় নিয়ে অপেক্ষা করে। আমার ভাবতে ভালো লাগে, সে আমারই জন্য অপেক্ষা করছে। নিজেকে অচেনা লাগে। বুকের মধ্যে অপরিচিত শূন্যতা। চোখের আগ্রহকে শাসন করে ফিরিয়ে আনি বুলবুলি পাখিদের বাসায়। যেন খুঁজি উষ্ণতা পাখির পালকের নিচে।

বিজ্ঞাপন

দিন-রাতের মাঝের এই সময়টুকুতেই আমার এমন হয়। কে যেন হাত ধরে নিয়ে আসে এখানে। বুকের মধ্যে বিগ ড্রাম, সাইড ড্রাম বাজতে থাকে। চারপাশটা মায়াবী আলোয় ভরে যায়। সে আলোয় আলোকিত আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি।

আজ আমি এসে দাঁড়াতেই সে চলে গেল। অভিমান হলো খুব। আমার আইরিশ প্রসারিত করে খুঁজতে থাকি তাকে। খুঁজে যখন পেলাম, তখন সরে এলাম শুধু এটা বোঝাতে যে হুট করে চলে গেলে কেমন লাগে। চায়ের কাপ নিয়ে ফিরে দেখি সেও চা খাচ্ছে। না বলা যত কথা যেন বলছি দুজনে কিছু না বলে। হাতে হাত রেখে ছুটছি যেন পাহাড়, সমুদ্রতট আর তেপান্তরের মাঠে।

আজ খুব ভোরে ঘুম ভেঙেছে আমার। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি বাড়িগুলোকে স্টিমারের মতো লাগছে। চারপাশে থই থই পানি। পাখির বাচ্চাগুলোর কথা মনে হতেই দেখি বাসাটা নেই। বুকের মধ্যে চিনচিনে ব্যথা দলা পাকাতে থাকে। দূরে তাকিয়ে দেখি সেই সাদা বাড়িটার সব জানালা বন্ধ। আজ অবধি বন্ধ। আমি ঘর অন্ধকার করে বসে থাকি আর ভাবি, সে থাকলে আমার বুকের ভেতরের পাখিটার কথা জানাতাম তাকে।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন