কলেজে ভর্তির সময় আবার বিপত্তি বাধল। মেয়ে হয়ে ছেলেদের সঙ্গে এক কলেজে পড়াশোনা করবে, এটা মেনে নিতে নারাজ বাবা-মা। ভর্তি নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা, তখনই খবর আসে, বগুড়ার মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। ১৯৬৫ সালে এই কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন রওশন আরা। একই কলেজে স্নাতক কোর্স চালু হলে সেখানেই স্নাতকে ভর্তি হন।

১৯৬৬ সালে বিয়ে। পরের বছর বগুড়া সিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। স্বামী, সংসার, শিক্ষকতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান রওশন আরা বেগম। টানা ২৬ বছর একই প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন তিনি। শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। নানা সৃজনশীল কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রেখেছেন। বাল্যবিবাহের খবর পেলেই শিক্ষার্থীর বাড়িতে ছুটে গেছেন, ঝরে পড়া থেকে ছাত্রীদের রক্ষা করেছেন। বয়ঃসন্ধিকালে ছাত্রীদের সমস্যার সমাধানে বন্ধুর মতো পাশে থেকেছেন। ২০০০ সালে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বগুড়া জিলা স্কুলে বদলি হন রওশন আরা। ২০০৪ সালে শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানেন।

default-image

তবে আনুষ্ঠানিক পাঠদানের ইতি টানলেও আলো ছাড়ানোর পেশা ছাড়েননি রওশন আরা। ২০১৭ সালে নিজের বাড়িতেই সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের জন্য খুলেছেন ‘সাফল্য শিশু পরিবার’। আবাসিক এই বিদ্যালয়ে তিনি ছাড়াও আছেন আরও চারজন শিক্ষক। তিন বেলা খাবার, পোশাক, বই-খাতা—সবকিছু বিনা মূল্যে পাচ্ছে শিশুরা। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে শিশুরা। প্রতিষ্ঠা করেছেন নাজমুস সাকিব ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে অধ্যয়ন করছে।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন