default-image

এবার ব্যক্তি তাওকীরে ফিরে আসা যাক। সাদাসিধে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। অনেকের মতো ছোটবেলায় দেশি আর হলিউড-বলিউডের সাধারণ সিনেমা শুধু দেখার সুযোগ হয়েছে। শৈশবে নাকি মাটি নিয়ে ঘরবাড়ি বানাতেন আপন মনে। প্রতি পয়লা বৈশাখে পাড়ায় একটা অনুষ্ঠান হতো, ছোট থেকে সেখানে নাটক করতেন, যুক্ত থাকতেন নানা আয়োজনে। এভাবেই মনের মধ্যে সংস্কৃতির বীজ বপন। এরপর শিশু একাডেমি থেকে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি (সিএফএস) হয়ে বড় হতে হতে তাঁর মাথায় ঢোকে সিনেমা বানানোর পোকা। সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশ নিতে নিতে শর্টফিল্ম বানানোর হাতেখড়ি।

তাওকীরের প্রথম শর্টফিল্ম ২০০৯ সালে বানানো কঙ্কপুরাণ। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তারপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে শর্টফিল্ম বানিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই মনস্থির করলেন, সিনেমা নিয়েই পড়বেন। ভর্তি হলেন ভারতের এশিয়ান স্কুল অব মিডিয়া স্টাডিজে।

রাজশাহী শহরে তাওকীরের বেড়ে ওঠা। সেখানকার মানুষ থেকে নদী, বৃক্ষ, পথ সব চেনা। ছোটবেলা থেকে যে দল নিয়ে কাজ করতেন, অর্থাৎ তাওকীরের ‘ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন’, সেটিও আস্তে আস্তে বড় হয়েছে। এসব মানুষ তার ভেতরের কথা জানে, বুঝতে পারে। তাই গল্পগুলো রাজশাহীর ছায়ায় বেড়ে ওঠে। চরকির শতভাগ লোকাল অরিজিনাল সিরিজ শাটিকাপ রাজশাহীতে বসে বানানোর অন্যতম কারণ আসলে এটাই।

শাটিকাপ তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। এত লম্বা সময় টিম স্পিরিট ধরে রাখাটা চাট্টিখানি কথা নয়। মূল টিমের সবাই আসলে শাটিকাপ-এ প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। কোনোরকম আর্থিক নিশ্চয়তা ছাড়া, সিরিজটির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা ছাড়া তাঁরা কাজ করে গেছেন পুরোটা সময়।

সিনেমা নিয়ে ভবিষ্যতের ভাবনাটা তাঁর কাছে এখন আর শুধু পেশায় আটকে নেই, নেশায় পরিণত হয়েছে। আরও দক্ষ হতে চান তিনি, যেন সিনেমাটা আরও ভালোভাবে বানানো যায়। তাঁর মতে, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের গল্প মন থেকে বলতে শুরু করলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সিনেমার জয় সুনিশ্চিত।

শাটিকাপ ২ নির্মাণের জন্য এখন তাওকীরকে মাঝেমধ্যে চাপ দিই। কিন্তু ওর একটাই কথা, ‘বও ভাই (আমাকে ও এই নামেই ডাকে), আরেকটু সময় নিই, তাড়াহুড়া না করি, দর্শকের চাপটা না নিই, মনের চাপটা আসুক। তার আগে অন্য কিছু বানাই, তারপর আবার না হয় শাটিকাপ বানাব।’

তাওকীরকে আমিও ‘বও ভাই’ ডাকি, মনের দুনিয়ায় ছেড়ে দিই আমার বও ভাইকে। নিশ্চয়ই আবার তিনি বাংলাদেশের গর্ব করার মতো নতুন নির্মাণ নিয়ে হাজির হবেন যেকোনো সময়।

লেখক: নির্মাতা ও সিওও, চরকি

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন