বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শেহেরীনের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা এখনো মনে আছে। সেটা কলেজে ভর্তি হয়ে। আমরা একই কলেজের ছাত্রী ছিলাম। পরিচয় থেকে একসময় বন্ধুত্ব হয়। উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর দুজনেই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে ভর্তি হই। দুজনের কত স্মৃতি, কত প্রিয় মুহূর্ত। এসব মনে পড়লে এখন শুধু কান্না পায়।

আমাদের মিডটার্ম পরীক্ষা চলছে। দুটি পরীক্ষা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা। তার আগের দিন সন্ধ্যায় বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবাই আলাপ করছিলাম, পরীক্ষা নিয়ে কথা হচ্ছিল। হুট করে খেয়াল করলাম, শেহেরীনের উপস্থিতি নেই। ওকে অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না। সবাই বলাবলি করছিল, শেহেরীন হয়তো পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। অথচ কেউ ভাবতেই পারিনি, অল্প সময়ের ব্যবধানে ও আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবে। আর কখনো বন্ধুদের আড্ডায় শরিক হবে না।

২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় নালায় পড়ে গিয়েছিল শেহেরীন। সাড়ে চার ঘণ্টা পর যখন ওকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা, ততক্ষণে ও আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে।

চট্টগ্রামে নালা-খালে পড়ে শেহেরীনের মতো মানুষের এমন মৃত্যু নতুন নয়। এর আগেও এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এক মাস আগেও খালে পড়ে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হারিয়ে গেছেন।

তাঁদের মতো আমারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারতাম। ভবিষ্যতে যে হব না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওই দিন যদি নালাটি উন্মুক্ত অবস্থায় না থাকত, তাহলে শেহেরীনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেখতে হতো না। সংশ্লিষ্ট সবার গাফিলতির কারণে আজ এই করুণ মৃত্যু দেখতে হলো। শেহেরীন মারা গেছে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায়। আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অনেক মৃত্যুফাঁদ। কখন কার বিপদ ঘটে, কেউ জানে না।

বন্ধুকে তো ফিরে পাব না, তবে এই অব্যবস্থাপনার একটা বিহিত হোক—এটাই চাওয়া।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন