default-image

এই তরুণদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। স্বপ্ন দেখেন পেশাদার সংগীতশিল্পী হওয়ার। পাঁচজন মিলে গানের জন্য ধরনা দিয়েছেন দ্বারে দ্বারে। কেউ আস্থা রাখেনি। আজ তাঁরাই কাজ করছেন একটি আন্তর্জাতিক সংগীত প্রকল্পে। তা–ও আবার পুলিৎজার পাওয়া সাংবাদিক ইয়ান আরবিনার সঙ্গে।

সমুদ্র নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান করেছিলেন ইয়ান। সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়। পরে সেগুলো নিয়ে বই হলো দ্য আউট’ল ওশান বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার তৈরি হচ্ছে সংগীত। দ্য আউট’ল ওশান মিউজিক প্রজেক্টের অধীনে তৈরি হবে ৪০০টি গানের অ্যালবাম।

তারই দুটি অ্যালবামে কাজ করেছেন গানের দল লেজার ওয়েব রেকর্ডসের পাঁচ সদস্য—আয়ান আদিয়াত, আবির আহমেদ, আরাফাত হোসাইন, আদৃত আলী ও শাহরিয়ার নাফিস। এরই মধ্যে দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। একই প্রকল্পের অন্য একটি অ্যালবামে কাজ করেছে আরেকটি বাংলাদেশি ব্যান্ড এপিরাস।

বিজ্ঞাপন

দ্য আউট’ল ওশান মিউজিক প্রকল্প

দীর্ঘ পাঁচ বছর সমুদ্রকেন্দ্রিক বিভিন্ন বেআইনি কাজ, অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন সাংবাদিক ইয়ান আরবিনা। তাঁর প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে সমুদ্রে অস্ত্র পাচার, মানব দাসত্ব, সন্ত্রাসী হামলা, সমুদ্রদূষণ, জাহাজ চুরি, অবৈধভাবে বেশি মাছ ধরার মতো অপরাধের চিত্র।

প্রতিবেদনগুলো থেকে ২০১৯ সালে প্রকাশিত বইটি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও আমাজনে সর্বোচ্চ বিক্রীত (বেস্টসেলার) বইয়ের তালিকায় রেকর্ড করে। মোট ১০টি ভাষায় বইটি প্রকাশিত হয়। এরপর বই থেকে সংগীত প্রকল্পের কাজ শুরু। ইয়ান নিজে প্রকল্পটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন।

সংবাদ প্রতিবেদন থেকে সংগীত নির্মাণের ধারণাটি অভিনব। ইয়ান মনে করেন, একজন সাংবাদিক যেমন গল্প বলেন, তেমনি একজন সংগীতশিল্পীও গল্প বলেন। মাধ্যম দুটো হলেও দুজনের কাজ এক। সুতরাং এ দুই মাধ্যম একসঙ্গে চলতে পারে।

ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিতেই ইয়ান কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে তৈরি করেন দ্য আউট’ল ওশান মিউজিক প্রজেক্ট। প্রকল্পটির ট্যাগলাইন দেওয়া হয়েছে ‘মেকিং মিউজিক ফ্রম জার্নালিজম’।

এ প্রকল্পে ৬০টি দেশের ৪০০ জন শিল্পী কাজ করছেন। তৈরি করছেন ৪০০ মিউজিক অ্যালবাম। এরই মধ্যে ২০০টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশিত হবে আরও ২০০।

শুধু তা-ই নয়, হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ তৈরির জন্য ইয়ান আরবিনার বইটির স্বত্ব কিনে নিয়েছেন।

বাংলাদেশি তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার কারণ কী? ই–মেইলে এ প্রশ্নের উত্তর দেন ইয়ান আরবিনা, ‘আমরা সারা পৃথিবীর শিল্পীদের এ প্রকল্পে একত্র করেছি। কারণ, বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ও বিস্তৃত। প্রত্যেক শিল্পীকে প্রতিবেদনগুলো তাঁদের নিজস্ব ধারায় ব্যাখ্যা করার স্বাধীনতা দিয়েছি, যাতে তাঁরা নিজের গল্প দিয়ে মূল বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন।’ সংগীত প্রকল্পের প্রকাশিত সব অ্যালবাম পাওয়া যাবে theoutlawoceanmusic.com/albums ঠিকানার ওয়েবসাইটে।

পাঁচ তরুণের যুক্ত হওয়া

পেশাদার সংগীত করার ইচ্ছা নিয়ে নানা জায়গায় গেছেন তাঁরা। ঢুঁ মেরেছেন বিদেশি সংগীত–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছেও। কিন্তু কোনো আশা নেই। এমন সময়ে সাংবাদিক ইয়ান আরবিনার ই–মেইল সুযোগ তৈরি দেয় গানের দল লেজার ওয়েব রেকর্ডসের জন্য। দলটির অন্যতম পরিচালক আবির আহমেদ জানান, তাঁরা বিদেশি কিছু গানের প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেছিলেন। যেগুলো সারা বিশ্ব থেকে তরুণ মেধা খুঁজে বের করে। যদিও সেসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাননি, তবে তাঁদের ধারণা, ইয়ান হয়তো সেখান থেকেই খোঁজ পেয়েছেন।

আবির বলেন, ‘ইয়ান প্রথম যখন ই–মেইল করেন, আমাদের বিশ্বাস হয়নি। পরে যাচাই করে দেখেন। ইয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় অনলাইনে। এভাবেই প্রকল্পটিতে যুক্ত হয় লেজার ওয়েব রেকর্ডস।’

এ প্রকল্পের অধীনে দলটির প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর। অ্যালবামের নাম লিপ ইন ওশান। অ্যালবামের চারটি গানই গেয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস, যাঁর ‘স্টেজ নেম’ মৃদ। প্রযোজনা ও সংগীতের কাজ করেছেন আয়ান আদিয়াত, আবির আহমেদ ও আদৃত মাহির। ইংরেজি গানগুলো লিখতে সহযোগিতা করেছেন ফারহান মাসুদ চৌধুরী, আশরাফুল আলম ও মায়াবি আজিজ। সহযোগিতায় ছিলেন শাহরিয়ার ইসলাম।

আয়ান আদিয়াত বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধীনে নতুন আরেকটি অ্যালবামেও কাজ করছি আমরা। নতুন অ্যালবামটির নাম “ট্র্যাজেডি অব দ্য কমনস।”’ এটি প্রকাশিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। আবির আহমেদ জানালেন, খুব শিগগির তাঁরা ইয়ানের সঙ্গে অন্য একটি প্রকল্পে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। নতুন প্রকল্পের নাম ‘নোয়াম চমস্কি মিউজিক প্রজেক্ট’।

বিজ্ঞাপন

ছিল এপিরাস

default-image

দ্য আউট’ল ওশান মিউজিক প্রজেক্টে কাজ করেছে আরেকটি বাংলাদেশি গানের দল এপিরাসও। দলটি তৈরি করেছে ‘কাম সি দ্য সানরাইজ’ অ্যালবাম, যা এরই মধ্যে প্রকাশিত। অ্যালবামে আছে আটটি সংগীত।

এপিরাস চালান দুই ভাই শেখ সামি মাহমুদ ও শেখ শাফি মাহমুদ। শাফি বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইয়ান আরবিনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর একাধিক অনলাইন সাক্ষাৎকারের পর এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হই আমরা। আমরা এর আগে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছি। এর মধ্যে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা। এবার আমরা ইয়ান আরবিনার সঙ্গে কাজ করেছি। এ প্রকল্পে কাজ করা আমাদের জন্য সত্যিই রোমাঞ্চকর ছিল।’

এপিরাসের অ্যালবামটিতে কাজ করেছেন বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী সাব্বির নাসির, পালবাশা সিদ্দিকী, লামিয়া চৌধুরী ও আয়েশা হোসাইন।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন