default-image

লকডাউনের কারণে বিকেলের পর পটুয়াখালী শহরের খাবার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফুটপাতে ইফতারসামগ্রীর পসরাও তেমন বসে না। মসজিদে ইফতারির আয়োজনও বন্ধ। এদিকে অসহায় মানুষেরা পেটের তাগিদে বের হন পথে। পবিত্র রমজান মাসে এমন মানুষদের জন্য ইফতারের আয়োজন করছে পটুয়াখালীর কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের সদস্যরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। কোনো সংগঠন আবার শহরের সড়কদ্বীপের ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে ইফতারির প্যাকেট সাজিয়ে রাখছে, খেটে খাওয়া মানুষেরা সেখান থেকে নিয়ে নিচ্ছেন ইফতারির প্যাকেট।

১৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গিয়েছিলাম পটুয়াখালী শহরের শেখ রাসেল শিশু পার্ক গোলচত্বরে। গোলচত্বরের আইল্যান্ডে কিছুটা দূরত্ব রেখে সাজিয়ে রাখা হচ্ছিল ইফতারির প্যাকেট ও পানির বোতল। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখে ইফতার বিতরণের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করছেন মেহেদী হাসান নামের এক তরুণ।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ সময় মেহেদী হাসান বলেন, ‘লকডাউনের কারণে তেমন রোজগার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন রিকশা ও ভ্যানচালক থেকে শুরু করে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। রমজান মাসে ইফতারি নিয়ে রোজাদার এসব শ্রমজীবীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছি। আমাকে সহযোগিতা করছেন বন্ধু জাহানারা বেগম, ইলিয়াসুর রহমান, আবু বকর মাতবরেরা।’

সেখান থেকে গিয়েছিলাম শহরের প্রবেশপথ চৌরাস্তায়। মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের নিচে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ইফতারসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ। ওদিকে ‘পটুয়াখালীবাসী’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রোজার শুরু থেকে প্রতিদিন ৫০টি ইফতারির প্যাকেট ও পানি রোজাদার শ্রমজীবীদের বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

বিকেল গড়িয়ে ইফতারি বিতরণের এমন দৃশ্য দেখা যায় পটুয়াখালী শহরের শেখ রাসেল পার্ক গোল চত্বর, সার্কিট হাউস এলাকা ও শহরের প্রবেশপথ চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাচালক ও শ্রমজীবী রোজাদার মানুষেরা ছুটে আসেন এসব স্থানে। হাসিমুখে হাতে তুলে নেন ইফতারির প্যাকেট ও পানির বোতল।

আবদুল খালেক নামের এক রিকশাচালক জানান, তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের শারিকখালী এলাকায়। লকডাউনের মধ্যে রিকশা নিয়ে নামতে হয় তাঁকে। আয় কম, ইফতারি কিনতে অনেক টাকা লাগে। কিন্তু ইফতারের আগে চত্বরে এসে পৌঁছালেই ইফতারি পাওয়া যায়।

স্বেচ্ছাসেবীরাও স্বস্তির সঙ্গে ইফতারি বিতরণ করতে পেরে খুশি। সাজিয়ে রাখা ইফতারি নিয়ম মেনে সবাই হাতে তুলে নেন। কেউ বাড়তি প্যাকেট নিচ্ছেন না, কোনো হইচই নেই।

তাই এসব স্বেচ্ছাসেবকের অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে, ‘আসুন, ইফতারির প্যাকেট নিন’।

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন