default-image

‘আমি স্বেচ্ছাসেবক! কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’

প্ল্যাকার্ডে লেখা এই কথাগুলো তাঁদের আন্তরিকতার পরিচয় দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে একদল স্বেচ্ছাসেবক এমন প্ল্যাকার্ড হাতেই দাঁড়িয়ে থাকেন। কারও সাহায্য প্রয়োজন মনে হলেই তাঁরা এগিয়ে যান। কখনো অ্যাম্বুলেন্স থেকে অসুস্থ মানুষকে নামাতে কিংবা ওঠাতে সাহায্য করেন। কখনো হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে সহায়তা করেন দূরে থেকে আসা অসহায় রোগীকে। কখনো নিজেদের ইজিবাইকে করে রোগীকে পৌঁছে দেন তাঁর গন্তব্যে। নানাভাবে রোগী ও রোগীর স্বজনদের পাশে থাকা এই স্বেচ্ছাসেবকেরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বৃহন্নলার সদস্য।

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে তৎপর হয়ে ওঠেন বৃহন্নলার সদস্যরা। নিজেদের স্বল্প তহবিল থেকে মানুষকে সহযোগিতা করেন। কিন্তু তাঁরা চেয়েছিলেন আরও বেশি কিছু করতে। কিন্তু সেই আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। তখন নিজেরাই শারীরিক শ্রমের মাধ্যমে দাঁড়িয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের পাশে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বৃহন্নলার সদস্যরা মূলত ট্রান্সজেন্ডারদের মূল ধারায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। এ জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে থাকেন সংগঠনের সদস্যরা। হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকদের দলেও রয়েছেন কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার মানুষ। বৃহন্নলার অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁরা সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ১০ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল এ দায়িত্ব পালন করছে।’

গত বছরের এই সময়ও বৃহন্নলার উদ্যোগে ১৪ সদস্যের একটি দল রাজধানীর মানুষের প্রয়োজনে কাজ করেছে। বাজার করা, জরুরি ওষুধ সরবরাহ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, বিপন্ন মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করাসহ জরুরি সেবা দিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া সংগঠনের স্বল্প তহবিল থেকে অসহায় মা ও শিশুর খাদ্য জোগান এবং সংকটাপন্ন মানুষকে ত্রাণসামগ্রী, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারও বিতরণ করছে বৃহন্নলা।

default-image

সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর আমরা ১০০ দিনের মতো মানুষের সহায়তায় কাজ করেছি। এবার লকডাউন শুরু হলে সচেতনতামূলক মাইকিং করেছি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। এখন হাসপাতালে কাজ করছি।’

হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাও হয়েছে এই তরুণদের। হয়তো কাউকে সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছি, ভেবে নিয়েছেন দালাল চক্রের সদস্য। সাদিকুল বলেন, ‘তখন তাদের বোঝাতে হতো। এখন অবশ্য ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অনেকে চেনেন, নিজেরাই সহায়তা চান।’

বিজ্ঞাপন
প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন