default-image

হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। ফুরসত পেলেই বাড়ির পাশের মাঠে ফুটবল খেলতেন। কিন্তু ফুটবলার নয়, রাজধানীর মিরপুরের তরুণ মোহাম্মদ সুমনের স্বপ্নজুড়ে স্কোয়াশ।

বাংলাদেশে একটি অপ্রচলিত খেলা স্কোয়াশ। খেলাটা ব্যয়বহুল। খেলতে হয় স্বচ্ছ কাচের চার-দেয়াল বিশিষ্ট ইনডোরে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুমন তবু স্কোয়াশে আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন।

সুমনের বাবা লুৎফর রহমান ছিলেন মুদিদোকানি। সাত ছেলে ও দুই মেয়ের বিশাল সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। অভাবের সংসারে সুমন পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পরই। মিরপুরের কালশীতে বাবার মুদিখানায় বসতেন মাঝেমধ্যে। তবে মন পড়ে থাকত ফুটবল মাঠে। সেই ফুটবল থেকে সুমনকে স্কোয়াশ কোর্টে নিয়ে আসেন বড় ভাই স্বপন পারভেজ।

বিজ্ঞাপন

সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন স্বপন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। বড় ভাইয়ের হাত ধরে উত্তরা ক্লাবে স্কোয়াশ খেলতে যেতেন সুমন। একসময় মনোযোগী হয়ে ওঠেন স্কোয়াশ খেলায়। বর্তমানে দেশের জাতীয় র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড় সুমন। জাতীয় প্রতিযোগিতায় এককে তিনবার ও দ্বৈতে চারবার চ্যাম্পিয়ন। ২০১০ ঢাকা এবং ২০১৪ গুয়াহাটি এসএ (সাউথ এশিয়ান) গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ জেতায় বড় অবদান সুমনের। গত বছর জাপানে ইয়োকোহামা চ্যাম্পিয়নশিপে উঠেছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

এমনিতেই বাংলাদেশ স্কোয়াশ র‌্যাকেটস ফেডারেশনের সুযোগ–সুবিধা অপ্রতুল। নিজেদের কোনো স্কোয়াশ কমপ্লেক্স নেই। কখনো উত্তরা ক্লাব, কখনো বসুন্ধরা কিংবা ঢাকা ক্লাবে খেলতে হয়। গত কয়েক বছর খেলাধুলা স্থবিরই হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আবারও স্কোয়াশে গতি আনতে উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন। এসব দেখে খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সুমন, ‘আমাদের ব্রিগেডিয়ার স্যার [ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম] বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন। আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে এমন উদ্যোগ দেখিনি। উনি কাজ করলে স্কোয়াশ অনেক দূরে এগিয়ে যাবে। খেলাটা এত দিন একটা জায়গায় থেমে ছিল। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে স্কোয়াশ মানুষের কাছে দ্রুতই পৌঁছে যাবে।’

২৮ বছর বয়সী সুমনের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে কম কষ্ট করতে হয়নি। ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্তু চাকরি করতেন দেশের একটি শিল্প গ্রুপে। তিনি বলছিলেন, ‘তখন ১১ হাজার টাকায় ভাইয়ের সহকারী কোচ হিসেবে চাকরি করতাম। সকালবেলা মিরপুর থেকে বসুন্ধরার অফিসে যেতাম। ৯টা পর্যন্ত স্যারদের সঙ্গে খেলতাম। এরপর যেতাম ঢাকা ক্লাবে। ওখানকার একজন মার্কারকে (কোচ) প্রতিদিন ১০০ টাকা দিতাম এবং লাঞ্চ করাতাম। অনুশীলন শেষে বিকেল চারটায় বসুন্ধরায় ফিরতাম। রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করে বাড়িতে ফিরতে রাত হয়ে যেত। ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্যই এতটা কষ্ট করেছি। উত্তরা ও বসুন্ধরা ক্লাব না থাকলে আমি এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না।’

স্কোয়াশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন সুমনের। তিনি বলেলন, ‘ফেডারেশন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এটা ভালো দিক। একটা কমপ্লেক্স করে ভালো মানের কোচ দিলে আমরাও একদিন এসএ গেমসে সোনা জিততে পারব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0