বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আমরা ২০১৬ সাল থেকে ‘এক্সপ্লোরিং সুন্দরবন’ নামের এক নিয়মিত আয়োজনে কয়েকজন ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার সুন্দরবনে যাই। ১০ নভেম্বরও ছিল এমনই এক আয়োজন।

ভোর তখন, চা-কফি পান শেষে জাহাজের সবাইকে ডাক দিলাম। দিনের পরিকল্পনা সবাইকে জানিয়ে ঘোষণা দিলাম, ‘বাঘ দেখাইলে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার!’

এরপর জাহাজের ছাদে বসে গল্প জমে উঠল। সবাই আয়েশি মেজাজে। জাহাজ চলছে। ছবি তোলার তেমন কোনো উপাদান আশপাশে নেই। তাই কারও হাতে ক্যামেরাও নেই।

আচমকা বাঘ বাঘ বলে উঠল কে যেন! শুনে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করল। আরে, তাই তো, ওই তো বাঘ! আমি বাঘ নিয়ে বেশিই আবেগপ্রবণ ছিলাম, চোখে পড়ামাত্র ক্যামেরায় ক্লিক করা শুরু করলাম। এটা কোকিলমনির আগে পশুর নদ। বাঘ নদ পার হচ্ছে। বড় নদ। ওর পার হতে অনেক সময় লাগছে। আমরা চেষ্টা করছি যতটা দূরে থেকে ওকে বিরক্ত না করে ছবি তোলা যায়। প্রায় ২৯ মিনিট লেগেছে তার নদ পার হতে। এর মধ্যে যে যার মতো ছবি তুলে নিয়েছি।

default-image

যাকে অতিকায়, দানবীয় সৌন্দর্যের প্রতীক ভেবে এতগুলো বছর কাটিয়েছি। সেই বাঘ যখন নদ পার হয়ে পাড়ে গিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়েছিল, তখন তার ক্লান্তি ভরা চোখ দেখে মনে হচ্ছিল, এ তো নিতান্তই নিরীহ প্রাণী! ওর নির্বাক চোখ যেন আমার সঙ্গে কথা বলেছে। আহ্বান জানাচ্ছে আমাকে, তাকে দেখতে সুন্দরবনে যেতে বলেছে!

বন্য প্রাণীর আলোকচিত্র তুলি এ জন্য নয়, একজন আলোকচিত্রী হিসেবেও এ তো পরম পাওয়া।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন