বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

নাশতা সেরে আবার চলে যাই জামতলায়। এখানে পর্যটকদের জন্য একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। তার নিচে দেখা পেলাম বেশ বড় একটি মৌচাকের। দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় এমন জায়গায় মৌমাছি বাসা বেঁধেছে! কিছুটা এগিয়ে হরিণের চারণভূমিতে দূর থেকে বেশ কিছু হরিণের দেখা পেলাম। হরিণের তল্লাটেই হঠাৎ দেখা পেলাম বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ। আগের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হলো ছাপটা বেশ তাজা!

জামতলা থেকে ফিরে দুপুরের খাবার খেতে খেতে দেখছিলাম বনের মধ্যে হরিণের দলের উঁকিঝুঁকি। কেউ কেউ আবার জাল নিয়ে নেমে পড়েছিল সুন্দরবনে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা নিতে। খাবার শেষে আমরা কটকার অফিস এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে ট্রেইলের পাশেই চোখে পড়ল জমাটবাঁধা রক্ত ও হরিণের কঙ্কাল, এখানে বাঘের আস্তানা বুঝতে বাকি রইল না! কিছুদূর এগোতেই চোখে পড়ল মাটি ও গাছের গায়ে বাঘের আঁচড়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জায়গাটা এড়িয়ে গেলাম আমরা।

default-image

পরদিন ভোরে ট্রলারে করে রওনা হলাম কাদেরের খালে, পাখি দেখতে। খালে ঢোকার আগেই আমরা দেখা পেলাম ধলাপেট সিন্ধু ইগলের। বাংলাদেশে এই পাখি সাধারণত সুন্দরবনেই দেখা যায়। কাদেরের খালে ঢুকতেই দেখতে পেলাম সারি সারি মাছধরা ট্রলার, পাথরঘাটা থেকে এগুলো সুন্দরবনে এসেছে মাছ ধরতে, রাতে খালে বিশ্রামের জন্য অবস্থান নিয়েছিল। ট্রলারের কারণে খালে ঢুকতে না পেরে জাহাজে ফিরে রওনা দিলাম কচিখালীর উদ্দেশে। পথে ঝুম বৃষ্টি, সুন্দরবনের রূপ মুহূর্তেই পাল্টে গেল। বৃষ্টি দেখতে দেখতে দুপুরের আগেই পৌঁছে গেলাম কচিখালী। কচিখালী পৌঁছে অফিস পারের খাল ঘুরে জাহাজে ফেরত আসার সময় দেখা পেলাম বিশাল এক কুমিরের। প্রায় ডুবন্ত চরে গা এলিয়ে রোদ পোহাচ্ছিল সেটি। বিকেলে গেলাম ডিমের চর। সন্ধ্যায় জাহাজে পৌঁছে রওনা হলাম হাড়বাড়িয়ার উদ্দেশে। রাতে আমাদের জাহাজ তাম্বুলবুনিয়ায় নোঙর করল।

default-image

৪ সেপ্টেম্বর ভোরে আমরা ট্রলার নিয়ে বের হলাম তাম্বুলবুনিয়ার আশপাশের খালগুলো ঘুরে দেখতে। বন বিভাগের অফিসের সামনেই দেখা মিলল বিরল দাগীবুক বাবুইয়ের। আরও ছিল ছোট কুবো, নীল লেজ সুইচরা, মালকোহা ইত্যাদি পাখির। এরপর জাহাজে ফিরে এলাম হাড়বাড়িয়ার উদ্দেশে যাব বলে, কিন্তু ইঞ্জিনে সমস্যা হওয়ায় জাহাজ চালু করা যাচ্ছে না। জাহাজের মাস্টার উপায় না পেয়ে ট্রলারের সঙ্গে জাহাজ বেঁধে এগোনো শুরু করলেন। ধীরগতিতে জাহাজ এগোতে শুরু করল। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা! প্রায় দুই ঘণ্টা এভাবে চলার পর আরেকটি জাহাজ এসে ইঞ্জিন মেরামত করলে সচল হয়। দেরি হয়ে যাওয়ায় আমরা হাড়বাড়িয়া বাদ দিয়ে করমজলের উদ্দেশে রওনা দিই। বিকেলে করমজলের ট্রেইল ঘুরে বেশ কিছু পাখির ছবি তুলে আমরা সন্ধ্যায় মোংলায় যাই। এভাবে শেষ হলো এবারের সুন্দরবন যাত্রা।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন