default-image

নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি যাঁদের রোজনামচার অংশ, সংগঠনটি এমন মানুষদের। তাঁরা একাকী তো হাঁটেনই, মাসের নির্দিষ্ট দিনে দলেবলে পথে নামেন, পদভ্রমণ শেষে একসঙ্গে বসেন। চা–চক্রে স্বাস্থ্যসচেতন এই মানুষেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন ভালো কাজের। সংগঠনটির নাম ‘বাংলাদেশ ওয়াকিং ক্লাব’। দেশের ৪৮ জেলায় রয়েছে এর কার্যক্রম, সদস্যরা হাঁটতে হাঁটতেই শামিল হয়েছেন নানা মানবিক উদ্যোগে।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও আগ্রহ জাগিয়েছিল সংগঠনটি সম্পর্কে জানতে। বাংলাদেশ ওয়াকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু নোমান মু. আতাহার আলী ছিলেন সেই ভিডিওর বক্তা। প্রাণবন্ত বাচনভঙ্গিতে হাঁটাহাঁটি করা মানুষদের সংগঠন গড়ার পেছনের কথা তিনি জানাচ্ছিলেন। বলছিলেন মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে। তাঁর সঙ্গে কথা হলো ২৪ মার্চ, ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিজ্ঞাপন

শরীরচর্চার সব উপায়ের মধ্যে হাঁটাকে আপন করে নেন অনেকেই। আবু নোমান মু. আতাহার আলী আপন করে নিয়েছিলেন মানসিক চাপ কমাতে। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়ায়। পিএইচডি গবেষক। খাদ্য আইনের ওপর উচ্চতর পড়াশোনা তাঁকে ভীষণ চাপে ফেলেছে। ‘এ চাপ কমাতে আমি মাইলের পর মাইল হাঁটতাম। সেখানে আমি ওলংগংয়ের সৈকতঘেঁষা এক বাড়িতে থাকতাম। শান্ত পরিবেশ। আমি হাঁটতাম প্রশান্তির জন্য। অনেক সময় সঙ্গী হতেন পরিচিত ব্যক্তিরা।’ বলছিলেন আবু নোমান মু. আতাহার আলী।

তবে হাঁটার অভ্যাস আবু নোমানের সেই প্রথম নয়, শৈশব থেকেই হাঁটেন বেশি। পিএইচডি শেষে ২০১৪ সালে যখন ঢাকায় এলেন, থাকেন গ্রিন রোডে। সে সময়ের কর্মস্থল ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কাছেই। ফুটপাতে হাঁটতে বের হয়ে বুঝলেন, হাঁটার মতো অবস্থা নেই। কয়েক বছর বিদেশে কাটিয়ে পরিবেশটা অনেকটাই অচেনা মনে হলো। ভাবলেন, দলেবলে কোথাও গিয়ে হাঁটলে কেমন হয়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন। তাঁর স্ট্যাটাসে অনেকে আগ্রহী হলেন। একদিন একসঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন। এভাবে কখনো হাঁটলেন রমনা উদ্যানে, কখনো ধানমন্ডি লেকে, কখনো হাতিরঝিলে।

ওয়াকিং ক্লাবের গোড়াপত্তন

পথে হাঁটতে নামলেই তো পথের মানুষের কাছাকাছি যাওয়া যায়। পথশিশুদের জীবনকে কাছ থেকে আঁচ করলেন হাঁটাহাঁটি করা এই মানুষেরা। আঁচ করেছিলেন বলেই উদ্যোগী হয়েছিলেন কিছু করার। কিছু করার চেষ্টা থেকেই আবু নোমান মু. আতাহার আলী প্রতিষ্ঠা করলেন ‘ঢাকা ওয়াকিং ক্লাব’। নিজেদের অর্থে শীতবস্ত্র ও ঈদে নতুন পোশাক তুলে দিলেন অসহায় ৩০০ শিশুর হাতে। যাদের শিক্ষা উপকরণ দরকার, তাদের দিলেন সে সহযোগিতাও। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর চলতে থাকল শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর কাজ।

একসময় হাঁটাহাঁটি আর মানবিক এসব উদ্যোগে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যুক্ত হতে চাইলেন। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মো. ফারুক হোসেন তপাদার বলেন, তখন ঢাকা ওয়াকিং ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ওয়াকিং ক্লাব নামে জেলায় জেলায় কমিটি গঠন করা হলো। তাঁরাও নিজেদের মতো করে উদ্যোগী হয়ে হাঁটেন, কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন

সুস্থতার প্রত্যয়ে ‘হাঁটা দিবস’

মানুষের মধ্যে হাঁটার উপকারিতা তুলে ধরার মতো জনসচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে ‘হাঁটা দিবস’ উদ্‌যাপনের মতো ব্যতিক্রমী দিবস পালন করে সংগঠনটি। ‘সুস্থ রাখতে দেহযন্ত্র, হাঁটাই হোক মূলমন্ত্র’ প্রতিপাদ্যে ২০১৭ সাল থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয় শনিবার দিবসটি উদ্‌যাপন করছে তারা।

জানুয়ারির দ্বিতীয় শনিবার কেন? প্রশ্ন
শুনে ফারুক হোসেন তপাদার বলছিলেন, ‘জানুয়ারির শুরুতে ও শেষে অনেকের ব্যস্ততা থাকে, সবার অংশগ্রহণের কথা চিন্তা করে মাসের মাঝামাঝি সময়টা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

গত ৯ জানুয়ারি পঞ্চমবারের মতো ‘হাঁটা দিবস’ পালন করেছে বাংলাদেশ ওয়াকিং ক্লাব। সংগঠনটি চায় জাতীয়ভাবে শুধু নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও হাঁটা দিবসটি স্বীকৃতি পাক।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন