নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়াড় গাড়ফা গ্রামে জন্ম নেওয়া হায়দার আলী পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে অষ্টম। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অন্য ভাইবোনেরা পড়ালেখা করতে পারেননি। একসময় সাধারণ শিক্ষা ছেড়ে মাদ্রাসায় ভর্তি হন হায়দার। ১৯৯৪ সালে প্রথম বিভাগে দাখিল পাস করেন। ১৯৯৬ সালে বনপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ২০০৩ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে গণিতশাস্ত্রে স্নাতক করেন। একই বছর গ্রামের দিয়াড় গাড়ফা খৈরাশ (ডিকে) উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

হায়দার আলী শুরুতেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে তৎপর হন। গঠন করেন ‘ডিকে ছাত্র ইউনিট’। গ্রামের যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের শিক্ষামূলক স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনে যুক্ত করেন। সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা ও শিক্ষানুরাগীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ডিকে উচ্চবিদ্যালয়ে অস্থায়ী ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানান। যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য মনোনীত হতো, পরীক্ষা পর্যন্ত এই ছাত্রাবাসে রেখে তাদের পড়ালেখা করানো হতো। নিজে ছাত্রাবাসে থেকে তাদের তত্ত্বাবধান করতেন হায়দার আলী। নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ধার দিতেন। সুবিধামতো সময়ে তারা সে ঋণ পরিশোধ করত।

সবার প্রিয় শিক্ষক হায়দার আলীর এসব প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে।

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন