বিজ্ঞাপন

এসএসসি পাস করার পর ইনজেব চাকমার পড়াশোনা আর এগোয়নি। একসময় যুক্ত হন ‘চাঙমা সাহিত্য বা’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে। এখন তিনি এই সংগঠনের সভাপতি। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বর্ণমালা শেখানোর কাজ প্রসারিত হতে থাকে। বর্তমানে সংগঠনের ৪৫ সদস্য চাকমা বর্ণমালা শেখানোর কাজ করে যাচ্ছেন। দীঘিনালাসহ খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে চলে চাকমা বর্ণমালা শেখানোর ক্লাস।

১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে ‘চাঙমা সাহিত্য বা’ কার্যালয়ে কথা হয় ইনজেব চাকমার সঙ্গে। তখন তিনি অনলাইন ক্লাসে বর্ণমালা শেখাচ্ছিলেন। পাঠদান শেষে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। বললেন, ‘করোনার কারণে বিদ্যালয় যখন বন্ধ হয়ে গেল, আমাদের কার্যক্রমও অনেকটা বন্ধ ছিল। এখন অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি।’

সপ্তাহে এক দিন বর্ণমালা শেখানোর ক্লাস নেন তাঁরা। তিন মাসের কোর্স। সহজভাবে নিজেরা বাতলে নিয়েছেন বর্ণমালা শেখানোর পদ্ধতি। ইনজেব চাকমা জানালেন, চাঙমা সাহিত্য বা সংগঠন থেকে ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫৩টি কেন্দ্রে ১৬৩টি ব্যাচে ১০ হাজার ৩ জনকে চাকমা বর্ণমালা শেখানো হয়েছে। ৪ হাজার ৮৩ জনকে সনদ দেওয়া হয়েছে। শুধু দীঘিনালার ৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে চাকমা বর্ণমালার পাঠদান দেওয়া হয়ে থাকে।

সংগঠনে ইনজেব চাকমার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকেরা চাকমা বর্ণমালা শেখান। এই সংগঠন চাকমা বর্ণমালার বই ‘সাঙু’, ‘পত্তম আদি পুদি’ প্রকাশ করেছে। শুধু বর্ণমালার বই নয়, চাকমা সাহিত্য পত্রিকাসহ গল্প, ছড়া ও কবিতার বইও প্রকাশ করে থাকে সংগঠনটি। সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক রেমি চাকমা বলেন, ‘আমি নিজেও ইনজেব চাকমার কাছে চাকমা বর্ণমালা শিখেছি। এখন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছি।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য ও চাঙমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালক আনন্দ মোহন চাকমা বলেন, ‘ইনজেব চাকমা একজন বর্ণমালাপ্রেমী। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি নিজ জাতির ভাষা ও বর্ণমালার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার কারণে এখন আমাদের নিজ জাতির অনেক ছেলেমেয়ে চাকমা বর্ণমালা লিখতে ও পড়তে পারছে।’

ইনজেব চাকমা অবশ্য বলেন, ‘মাতৃভাষাকে ভালোবাসা মানে তো দেশকে ভালোবাসা। আমি ভালোবেসে কাজটি করি।’

প্র ছুটির দিনে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন