করোনাকালেও সময়োপযোগী রেসিপি ছাপা হয়েছে নকশায়
করোনাকালেও সময়োপযোগী রেসিপি ছাপা হয়েছে নকশায়খালেদ সরকার

প্রথম আলোর পাঠক তাসমিন নাহার জানালেন নকশার প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা।

বিজ্ঞাপন

‘ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি ছিল বিশেষ আগ্রহ। বাসায় দেখতাম সানন্দা রাখা হতো, সেখানে রেসিপি দেখে মা প্রায়ই বাসায় রান্না করতেন। ১৯৯৮ সালে যখন প্রথম আলো প্রকাশিত হয়, তখন আমরা এই পত্রিকার নিয়মিত পাঠক হয়ে যাই। আর সানন্দার জায়গা তখন নিয়ে নেয় নকশা।’ কথাগুলো বলছিলেন প্রথম আলোর পাঠক তাসমিন নাহার। জানালেন, প্রতি মঙ্গলবার অপেক্ষায় থাকতেন নকশার জন্য। যেহেতু রান্নার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ, তাই খাবারের রেসিপিগুলো বেশি টানত তাঁকে। বড় হওয়ার পর ছুটির দিনগুলোতে সেই রেসিপি দেখে একটি বা দুইটি পদ রান্না করতেন বাসায়। বর্তমানে অনলাইনে ঘরোয়া খাবারের ব্যবসা করছেন তিনি। জানালেন এই কাজ শুরু করার পেছনে নকশার অনুপ্রেরণার কথা।

এদিকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বিবি মরিয়ম যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠল, তখন তার বাবা জেএসসি পরীক্ষার জন্য প্রথম আলো রাখা শুরু করলেন। এর আগে তেমন একটা খবরের কাগজ রাখা হতো না তাদের বাসায়। যদিও পড়াশোনা পাতার জন্য রাখা হতো প্রথম আলো, কিন্তু বিবি মরিয়মের নকশা পড়তেই বেশি ভালো লাগে। প্রতি মঙ্গলবার স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আগে নকশার খোঁজ করে সে। বিবি মরিয়ম বলে, ‘বেশি ভালো লাগে নকশার রান্নার রেসিপি। নকশায় ছাপা হওয়া এই রেসিপির কাটিং করে রাখি আমি। গত এক বছরের প্রায় সব রেসিপি আমার সংগ্রহে আছে। নকশা দেখেই রান্না শিখেছি। সঙ্গে ছিল মায়ের সহযোগিতা।’ রান্নার পর আবার বান্ধবীদের কাছে নকশার সেসব রেসিপি পাঠায় সে। জানাল, নকশা তার মনে অন্য রকম এক অনুভূতি জাগায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে করোনার সংক্রমণ এড়াতে যখন সাধারণ ছুটি চলছিল সারা দেশে, তখন নকশাই ছিল অর্পিতা ফারজানার একমাত্র ভরসার জায়গা। অর্পিতা বলেন, ‘সে সময় বাইরে বাজার করতে যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কীভাবে কী দিয়ে রান্না করব, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সে সময় নকশায় মিলল সমাধান। বরাবরের মতো করোনাকালেও সময়োপযোগী রেসিপি ছাপা হতো নকশায়। তাই ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই রান্না করাটা তখন সহজ হয়েছিল।’

অর্পিতা আরও জানালেন, নকশা দেখেই বাসার সবার জন্য সে সময় ইফতারে তৈরি করেছিলেন চিকেন বান। ‘বাইরে এই খাবারের দাম প্রচুর। কিন্তু নকশায় এত সহজ করে এই রেসিপি ছেপেছিল, তাতে করে এই বান বানাতে খুব একটা খরচ পড়েনি। আর তা খেতেও হয়েছিল বেশ।’

মন্তব্য পড়ুন 0