বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কারা পাবেন

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একজন গ্রাহক ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবেন। নগদ টাকার পরিবর্তে গ্রাহক এ কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত টাকা খরচ করা যাবে। চাইলে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলনও করতে পারেন একজন গ্রাহক। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। আবার ক্রেডিট লিমিট বা কত টাকা পর্যন্ত খরচ বা উত্তোলন করা যাবে, সেটি সাধারণত গ্রাহকের মাসিক আয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো ঠিক করে। তবে ভিন্ন ভিন্ন নীতি থাকার কারণে ক্রেডিট লিমিট সব ব্যাংকের একই না–ও হতে পারে।

যেকোনো প্রয়োজন

অনলাইনে কেনাকাটা বা সরাসরি দোকানে গিয়ে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে। ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকেরা ঘরে বসেই ই-কমার্সের মাধ্যমে যেকোনো লাইফস্টাইল পণ্য, টিকিট, খাবার কেনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকেরা বিভিন্ন মার্চেন্ট আউটলেটে, হোটেলে, রেস্তোরাঁয়, আসবাব ও বৈদ্যুতিক কেনাকাটায় ছাড় পাবেন। সঙ্গে রয়েছে ৩ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদ ও কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ।

default-image

এ ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো সুদ ছাড়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাবেন। ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকেরা কার্ড চেকের মাধ্যমে দরকারি সময়ে নগদ অর্থ ওঠাতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয়, হোটেল বুকিং, বিদেশে শিক্ষা গ্রহণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ ফি দেওয়া যাবে।

আপনার জন্য কোন কার্ড

কার্ড নেওয়ার আগে কোন কার্ডে কী সুবিধা আছে, জেনে নেওয়া ভালো। জেনে-বুঝে সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি আপনার কার্ডটি বেছে নেবেন। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কার্ডের বিভিন্ন সুবিধার কথা জানাতে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্ড ব্যবহারকারীদের খুদে বার্তা বা ই-মেইল করে থাকে। আরও অফার জানতে আপনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে পারেন। দেশে ভিসা কার্ড, মাস্টারকার্ড, অ্যামেক্স কার্ডের ব্যবহার বেশি।

কেনাকাটায় সতর্কতা

ক্রেডিট কার্ডের দিকে কিন্তু অপরাধীদেরও নজর আছে। এ জন্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সতর্ক থাকলে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি বা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। এ জন্য অনলাইনে কেবল পরিচিত ওয়েবসাইট থেকেই কেনাকাটা করা উচিত। সাইবার ক্যাফে, কম্পিউটার ল্যাব বা এমন কোনো কম্পিউটার থেকে কোনো ধরনের কেনাকাটা করা উচিত নয়, যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবহার করে থাকে। একইভাবে দোকানে বা উন্মুক্ত স্থানে বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই থেকেও একই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের স্থানে অনলাইন লেনদেন এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

default-image

যে পণ্য বা সেবার জন্য টাকা পরিশোধ করছেন, ঠিক সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মেশিনে ওঠানো হয়েছে কি না, তা মিলিয়ে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি টাকা পরিশোধ করার যে নিশ্চিতকরণ ই-মেইল ও এসএমএস পেয়েছেন, সেটির সঙ্গেও মূল্য পরিশোধের পরিমাণ একই আছে কি না, দেখে নিন। পয়েন্ট অব সেল মেশিনে টাকা প্রদানের সময় নেটওয়ার্ক বা অন্যান্য সমস্যার কারণে যদি লেনদেন সম্পন্ন না হয়, তবে পুনরায় চেষ্টা করার আগে ব্যাংকে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। কখনো যদি একই লেনদেনের জন্য একাধিকবার টাকা প্রদানের ঘটনা ঘটে, তবে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনলাইনে বা অফলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেখানেই টাকা প্রদান করা হোক না কেন, মূল সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ক্রেডিট কার্ডের বিল যাচাই করার অভ্যাসটি রাখুন। কখনো কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে ক্রেডিট কার্ডটি যে ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন