মডেল: ইবসার
মডেল: ইবসারছবি: সুমন ইউসুফ

‘নকশার জন্য প্রথম যেদিন ফটোশুট করেছিলে, সেদিনের কথা কি তোমার মনে আছে?’

প্রশ্ন শুনে ফোনের ওপাশে ইবশার ভাবনায় পড়ে গেল।বলল, ‘তখন তো অনেক ছোট ছিলাম।’ এখন যে ‘অনেক বড়’ হয়ে গেছে বলে দাবি করছে, তার বয়স ৭।মডেল হিসেবে অভিষেক হয়েছিল আড়াই বছর বয়সে।ঢাকার আগাখান স্কুলের ক্লাস ওয়ানের এই ছাত্র এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছে। চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে পিওর ইটের বিজ্ঞাপন, নাবিলার সঙ্গে প্যারাস্যুট নারকেল তেলের বিজ্ঞাপন আর নেস্‌লের সেরিগ্রোর বিজ্ঞাপনচিত্রে তো ইবশারই ছিল মূল চরিত্র!

বিজ্ঞাপন

কথা ছিল মো. ইবশার সাদাত, ফারিস আহমেদ আর মাহ্‌দিয়া এলিজা চৌধুরীকে আমরা এক ফ্রেমে এনে ছবি তুলব। তিনজনই নকশায় মডেল হওয়ার পর বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে, ফ্যাশন হাউসে মডেলিং বা নাটকে অভিনয়ের জন্য ডাক পেয়েছে। করোনাকালে সতর্কতার কথা মাথায় রেখে তিনজনকে এক করা হলো না। খুদে মডেলদের সঙ্গে কথা হলো মুঠোফোনে।

default-image

মডেল হতে কেমন লাগে? প্রশ্ন করেছিলাম তিনজনের কাছেই। সবার সংক্ষিপ্ত উত্তর—ভালো। এলিজা যোগ করল, ‘স্মাইল দিয়ে পোজ দিতে ভালো লাগে।’ ঢাকার স্যার জন উইলসন স্কুলের ছাত্রী এলিজা এরই মধ্যে সেইলর, লা রিভসহ বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউসের পোশাকের মডেল হয়েছে। বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের প্রস্তাবও এসেছিল। কিন্তু পড়াশোনা, স্কুল সামলে সেটা আর করা হয়নি। স্কুলে বন্ধু, শিক্ষকেরা এলিজাকে ‘মডেল’ বলে ডাকে। বেশ উপভোগ করে সে। একবার একটা পারলারে গিয়ে দেখা হয়েছিল মডেল–অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার সঙ্গে। এলিজার সঙ্গে সেলফি তোলার সময় পিয়া বলেছিলেন, ‘তুমিও মডেল, আমিও মডেল’। শুনে এলিজা ‘পিয়া আপু’র ভক্ত হয়ে গেছে। ইবশারের মতো এলিজাও নকশায় প্রথম মডেল হয়েছিল আড়াই বছর বয়সে। বয়স ৮ পেরিয়েছে। এখন সে রীতিমতো ‘অভিজ্ঞ মডেল’, ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়ানোর কৌশল এলিজা জানে।

default-image
বিজ্ঞাপন

ফারিস আহমেদ পড়ে ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলের ক্লাস থ্রিতে। নকশার জন্য মডেল হওয়ার পরপরই সে চিপস, চকলেট, গুঁড়া দুধসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের টিভি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের ডাক পেয়েছে। ডানোর বিজ্ঞাপনের কথা আলাদাভাবে বলল ফারিস। কেন? ‘ওখানে গিয়ে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে। আমরা ড্রামস বাজিয়েছি।’ শুনে ভাবলাম, ফারিস হয়তো বড় হয়ে মডেল কিংবা ড্রামার হতে চায়। কিন্তু না। সে ঘোষণা দিল, ‘আমি ফুটবলার হব।’ ফারিসকে মনে করিয়ে দিলাম, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিন্তু ফুটবল খেলে, আবার মডেলিংও করে।’ শুনে ফুটবলের খুদে ভক্ত মনে হয় একটু খেপেই গেল, ‘রোনালদো না! আমি নেইমার হব।’

খুদে মডেলদের মা-বাবারা জানালেন, পত্রিকায় ছেলেমেয়েদের ছবি ছাপা হলে তাঁরাও বেশ উপভোগ করেন। মডেল কিংবা ফুটবলার, ওরা যা-ই হতে চাক না কেন, মা-বাবার আপত্তি নেই। শুধু পড়ালেখাটা ঠিক থাকলেই হলো।

মন্তব্য পড়ুন 0