পোশাকে দেখা গেছে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার
পোশাকে দেখা গেছে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার

করোনাভাইরাসের কারণে স্তব্ধ দুনিয়া। তলানিতে এসে ঠেকেছে বিশ্বের অর্থনীতি। কিন্তু থেমে নেই ফ্যাশনের দুনিয়া। করোনাকালকে জয় করে সৃষ্টির নেশায় মেতে ছিলেন ডিজাইনাররা। সেটারই ঝলক পাওয়া গেল ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে। এবার ডিজিটাল প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে উদ্‌যাপন করা হলো ‘ল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২০’। ল্যাকমের এই ডিজিটাল মঞ্চ জমজমাট ছিল নামীদামি ডিজাইনারদের সমাগমে। প্রতিবারের মতো এ আসরে তাঁরা মেলে ধরেন টেকসই পোশাকের আগামী ধারা থেকে উৎসবের জমকালো আয়োজন। ২১–২৫ অক্টোবর বসেছিল এবারের ল্যাকমের আসর।

বিজ্ঞাপন
default-image

রুহানিয়াত রাত

এবারের ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের সূচনা হয় খ্যাতনামা ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার রাজকীয় আয়োজন দিয়ে। এ রাতে তিনি ফ্যাশনপ্রেমীদের সঙ্গে পরিচয় করান ‘রুহানিয়াত’ সংগ্রহের। পাঞ্জাব, আওয়াধ, কচ্ছ ও মোগলের রাজঘরানার রাজবেশে ছিলেন মডেলরা। এই রাজকীয় পোশাককে আরও উজ্জ্বল করে মনীশ মালহোত্রার মণিমুক্তাখচিত জমকালো অলংকার। পুরুষদের জন্য মনীশের আয়োজনে ছিল লম্বা এবং খাটো ঝুলের বাহারি কুর্তা। রুহানিয়াত রাতে মনীশের নকশা করা সাবেকি কুর্তা, খাদা দোপাট্টা, ঘরারা, লেহেঙ্গা-চোলি এবং ইজার সালোয়ার পরে মঞ্চ আলোকিত করেন মডেলরা।

নবীনের আড্ডা ফ্যাশন

উৎসবের শুরু মানেই একঝাঁক নবীনের জয়গান। আইএনআইএফডি প্রতিবারের মতো এবারও ল্যাকমের ফ্যাশন আঙিনায় নিয়ে আসেন তিন নবাগত ডিজাইনারকে। আনমোল শর্মা, ভূমিকা-মীনাক্ষী ও আরুষি—এই তিন তরুণ ডিজাইনার সুতির আরামদায়ক পোশাক নিয়ে নানান শিল্পকথা পরিবেশন করেন। ভূমিকা-মিনাক্ষীর ‘শুওয়া’ কালেকশনে ছিল কলা ও কমলার উপকরণ দিয়ে তৈরি অভিনব পোশাক। আরুষি ল্যাকমের এই ডিজিটাল আঙিনায় নিয়ে আসেন হাতে বোনা সুতির সিল্ক, মটকা সিল্ক, চান্দেরির ওপর সুজনি এবং কাঁথা স্টিচের কারুকাজ।

বিজ্ঞাপন

তারামতি গৌরাঙ্গ

গৌরাঙ্গ শাহ মানেই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ল্যাকমের এবারের আসরে ৪০০-৫০০ বছর আগে গোলকোন্ডার সপ্তম সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের আমলের তারামতিকে আবার ল্যাকমের মঞ্চে জীবন্ত করেন গৌরাঙ্গ। ইক্কত, কাঞ্ছি, পাটান, কোটা, উপ্পাডা, বেনারসি, কানি, ভেঙ্কটগিরি, পৈঠানি, জামদানির ক্যানভাসে আরি, চিকনকারি, পেটিট-পয়েন্ট, কাসুটি, শিভোরি, কাঁথা, রঙিন কচ্ছ, পার্সি গারার কারুকাজ এঁকেছেন গৌরাঙ্গ।

ব্রোকেডের বাহার

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধনে ফ্যাশনের জগতে এক নতুন দিশার সন্ধান দেন ডিজাইনার সুকেত ধীর। এই ডিজাইনার ল্যাকমের মঞ্চে প্রকৃতির নানা উপাদানকে ব্রোকেডের মোটিফে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া মহারাজা, মহারানি, সখীদের নিয়ে নানা সাবেকি মোটিফ ছিল তাঁর আয়োজনে। হট প্যান্ট, কোট, ট্রাউজার, ওয়ান পিসের ওপর হাতে বোনা সিল্ক ব্রোকেড নিয়ে তাঁর আয়োজন ছিল রঙিন।

প্লাস্টিকের পুনর্জন্ম

আর-এলানের ‘গ্রিন গোল্ড’ প্রজেক্টের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ডিজাইনার পঙ্কজ-নিধি ল্যাকমের আঙিনায় এক নতুন শিল্পকথার জন্ম দেন। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল থেকে উচ্চমানের তন্তুর জন্ম দিয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে ‘আর-এলান’। পঙ্কজ-নিধি উন্নতমানের সুতি, সুতি সিল্ক আর শিফন দিয়ে পাফ হাতের ব্লাউজ, বেল্ট দেওয়া ফুল-ফ্লেয়ার ম্যাক্সি, ব্র্যালেটের সঙ্গে লম্বা স্কার্ট, স্লিম প্যান্ট, বোতাম ছাড়া জ্যাকেটসহ নানান ফ্যাশনের আরামদায়ক পোশাক নিয়ে আসেন ল্যাকমের মঞ্চে।

বিজ্ঞাপন

তত্ত্বভার তত্ত্বকথা

ডিজাইনার হেমাঙ্গ আগারওয়াল জল, বায়ু, ভূমি, চন্দ্র, সূর্য, অগ্নিসহ প্রকৃতির বারোটি উপাদানকে মোটিফের আকার দিয়ে এক রঙিন ক্যানভাস উন্মুক্ত করেন ল্যাকমের ডিজিটাল প্রাঙ্গণে। এ ছাড়া তাঁর ব্রোকেডের বাহারও সবার নজর কাড়ে।

জমকালো আয়োজন

উৎসবে জমকালো পোশাকের নানা আয়োজন নিয়ে হাজির ছিলেন কুনাল রাওয়াল, অনুশ্রী রেড্ডি, দিশা পাটিল, ঋদ্ধি মেহেরা, জয়ন্তী রেড্ডি, সুকৃতি-আকৃতিসহ আরও নামীদামি ডিজাইনাররা। কুনালের সম্ভারে ছিল সাদা, কালো, ধূসর রঙের রুচিশীল পার্টি পোশাক। অনুশ্রী রেড্ডির ‘নাজিরা’ আয়োজনে সিল্ক, অরগেঞ্জা, হাতে বোনা সুতির ওপর থ্রিডি ক্রিস্টাল, কাটদানা এবং সূক্ষ্ম সুতার কাজ ছিল চোখজুড়ানো। ঋদ্ধি উৎসবের রাতের জন্য অরগেঞ্জার ওপর গুজরাটি কাজের জাম্প স্যুট থেকে আনারকলি, শাড়ি, লেহেঙ্গার ভিন্ন আয়োজন রেখেছিলেন ল্যাকমের চতুর্থ রাতে। ডিজাইনার সুকৃতি-আকৃতি ‘নিও ফুলকারি’ সম্ভারের মাধ্যমে এক দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শন করেন। পাঞ্জাবের রঙিন ফুলকারি এমব্রয়ডারিকে জ্যাকেট, ক্রপড জ্যাকেট, শর্ট প্রিন্স কোট, লেহেঙ্গা, কুর্তা, ঘরারা, হাফ ঝুলের প্যান্ট, চোলি, দোপাট্টায় তুলে ধরেন। সুকৃতি-আকৃতির পোশাক ছুটির মেজাজকে আরও রঙিন করে তুলবে। করোনাকালের বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে জয়ন্তী বেছে নিয়েছেন লাল রং।

এবারের ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের সহযোগিতাায় ছিল নেক্সা, ট্রেসেমে, অ্যাজিও কালারস ইনফিনিটি, ন্যাচারাল ডায়মন্ড, আর–এলান, বোট, সিক্স ডিগ্রি, আইএনআইএফডি, বেমবার্গ, চিক, সেন্ট রেগিস ও ভুট।

মন্তব্য পড়ুন 0