দেওয়ালের তাকগুলো রং করে দেওয়া যায়
দেওয়ালের তাকগুলো রং করে দেওয়া যায়কৃতজ্ঞতা: জাকিয়া উর্মি, ছবি: নকশা

অন্দরে ছিমছাম ভাব আনতে দেয়ালে তাক বানিয়ে নেওয়া যায়

বিজ্ঞাপন

দেয়াল কি কেবল ঘরের সীমানা? নিশ্চয়ই নয়। কাঠের ছোট ছোট খোপের ফ্রেমে শোপিস সাজিয়ে রাখা দেখেছিলাম কোনো এক বাসায়। বেশ কিছুদিন আগে আরেক বাসায় দেখেছিলাম একটা দেয়ালের বেশ খানিকটা জুড়ে থাকা ফ্রেমের বিভিন্ন অংশে সাজিয়ে রাখা আছে ড্রেসিং টেবিলের নানা সামগ্রী। উপায়টা মনে ধরেছিল বেশ। কাগজপত্র কিংবা কলম গুছিয়ে রাখতে এবং সহজে খুঁজে পেতে ওয়াল হ্যাঙ্গিং খুব নতুন কিছু নয় অবশ্য। ওয়াল হ্যাঙ্গিংয়ের এক এক পকেটে এক এক ধরনের জিনিস রাখা যায় অনায়াসেই।

এসবের বাইরেও অন্দরে ছিমছাম ভাব আনতে দেয়ালটাকে কাজে লাগানো যায় নানাভাবে। শোবার ঘর, বসার ঘর, খাবার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, এমনকি করিডরের দেয়ালে কাঠ কিংবা রট আয়রনের তৈরি, কাচঘেরা কিংবা কাচ ছাড়া তাক করে নিতে পারেন। বাড়ি তৈরির সময় পরিকল্পনা করে দেয়ালে খাঁজ করেও তাক তৈরি করতে পারেন। ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত জানালেন প্রয়োজনের এবং শখের জিনিস দেয়ালজুড়ে সাজিয়ে রাখার এমন বেশ কিছু উপায়।

বিজ্ঞাপন

শোবার ঘরে

ছোট্ট পরিসরের শোবার ঘরে ড্রেসিং টেবিলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দেয়ালেই আয়না টানিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে। আয়নার দুপাশে তাক করে নিয়ে প্রসাধনী এবং অন্যান্য উপকরণ রাখতে পারেন অনায়াসেই।

শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস থাকে অনেকের। বিছানার কাছেই তাক করা থাকলে পাশ টেবিলের জায়গাটা বাঁচিয়ে সেখানেই বই, পানির গ্লাস কিংবা শোপিসও রাখা যায়।

বসার ঘরে

জ্যামিতিক নকশায় তাক তৈরি করে সেখানে বই, ম্যাগাজিন, পত্রিকা, শোপিস প্রভৃতি রাখতে পারেন। অতিথিকে বসিয়ে রেখে আপনাকে বাড়ির ভেতরে যেতে হলে ‘ওপেন’ বা খোলা ডিজাইনের তাকে রাখা বই-ম্যাগাজিনের পাতা উল্টিয়ে অতিথির সময়টা ভালোই কাটবে। পড়ার পর প্রতিদিনের পত্রিকা গুছিয়ে রাখলে প্রয়োজনে পুরোনো পত্রিকা খুঁজে বের করা সহজ হয়।

খাবার ঘরে, রান্নাঘরে

default-image

খাবার ঘরে ডিনার ওয়াগনের দুপাশে তাক কিংবা ওয়াল হ্যাঙ্গিং থাকলে সেখানে আলাদা আলাদাভাবে ন্যাপকিন, রানার বা ম্যাট, ছুরি-চামচ, টিস্যু প্রভৃতি রাখতে পারেন।

রান্নাঘরে যেখানে দাঁড়িয়ে কাজ করা হয়, সেখান থেকে নাগাল পাওয়া যায়, এমন দূরত্বে ওয়াল হ্যাঙ্গিং বা দেয়ালের তাকে গুছিয়ে রাখুন প্রয়োজনীয় জিনিস। কোথায় কী রাখছেন, তা লিখে (লেবেলিং করে) রাখুন। কাজের সময় হন্যে হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজতে হবে না। আপনার অনুপস্থিতিতে যে কেউ খুঁজে পাবে প্রয়োজনের জিনিসটি। কাজ শেষে ওখানেই রেখে দিলে আপনিও আবার তা জায়গামতোই পাবেন।

বিজ্ঞাপন

বাথরুমের সতেজতায়

আয়নার সামনে ছোট একটা তাক তো থাকেই, এর বাইরেও দেয়ালের সঙ্গে কিংবা কোণে তাক রাখতে পারেন। তাকে প্রয়োজনীয় উপকরণ তো রাখবেনই, এ ছাড়া মাটি, পিতল বা সিরামিকের পাত্রে সাজিয়ে রাখতে পারেন গাছ। বড় বাথরুমের কেবিনেট করে তোয়ালেসহ অন্যান্য উপকরণ রাখার সুযোগ থাকে।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন