বাড়ির ছাদেই হতে পারে চড়ুইভাতির নান্দনিক আয়ােজন। মডেল: বাপ্পা, জল,  ঋতি ও হৃদি। কৃতজ্ঞতা: শুভাগতা গুহ রায়। সাজ : শোভন মেকওভার স্যালন।
বাড়ির ছাদেই হতে পারে চড়ুইভাতির নান্দনিক আয়ােজন। মডেল: বাপ্পা, জল, ঋতি ও হৃদি। কৃতজ্ঞতা: শুভাগতা গুহ রায়। সাজ : শোভন মেকওভার স্যালন। ছবি: সুমন ইউসুফ

আবহাওয়াই যেন ঘুরে বেড়ানোর। মিষ্টিমধুর একটা চড়ুইভাতি কিংবা বনভোজন করার। পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করার। কিন্তু মহামারি দুঃসময়, বদলে গেছে সবই। ঘোরাঘুরি বন্ধই। তবে করোনাকালের এত মাস পেরিয়ে একঘেয়ে জীবনে এক বিন্দু স্বস্তির খোঁজে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে আপন আলয় থেকে এদিক-ওদিক ঘুরতে যাচ্ছেন কেউ কেউ। তবে এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের তরফ থেকে তাতে জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

তাহলে কি মনমরা হয়ে পড়ে থাকাই নিয়তি? একই ধারায় চলতে থাকা জীবনে খানিকটা বৈচিত্র্য না হলে কি চলে? কিছুই কি করা যায় না পরিবারের সবার মন ভালো রাখার জন্য? নিশ্চয়ই যায়।

একটু অন্যভাবেই না হয় হোক ‘নিও নরমাল’ চড়ুইভাতি। আনন্দে কাটুক কিছু সময়, মনও পাক তার খোরাক। আর শিশুরা মেতে উঠুক ভিন্নধারার আয়োজনে।

default-image

ছাদে চড়ুইভাতি

বাড়ির ছাদটাই হতে পারে করোনাকালের ‘বন’। বনভোজন কিংবা চড়ুইভাতির স্থান। চড়ুইভাতির নান্দনিক আয়োজনের নানান দিক নিয়ে কথা বললেন রান্নাবিদ শুভাগতা গুহ রায়। ছাদে হয়তো সবুজ ঘাস নেই, সাদা চাদর তো বিছিয়ে নিতে পারেন। পাটি বিছিয়েও নেওয়া যায়। অনেকেরই ছাদে ফুলগাছ বা বাহারি পাতার গাছ থাকে। ছাদবাগানকেও কাজে লাগাতে পারেন এই আয়োজনে। না হয় কিছু ফুল তুলে আনলেন কাছেপিঠে কোথাও থেকে, কিনেও আনতে পারেন।

বাঁশের ঝুড়ি, ধাতব জগ, কেতলি—হাতের কাছে থাকা এমন কিছু, যা অন্য কাজে লাগছে না। এ রকম যেকোনো কিছুকেই বানিয়ে নিতে পারেন চড়ুইভাতির ‘ফুলদানি’, তাতে ফুল সাজিয়ে নিন নান্দনিকভাবে। ছাদে দোলনা থাকলে সেটাও সাজিয়ে নিন সুন্দরভাবে। পছন্দের অডিও বা ভিডিও ক্লিপ চালানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করতে পারেন ছাদে। ভালো লাগলে মনের মতো একটা বইয়ের কয়েকটা পাতাই না হয় আয়েশ করে ওল্টালেন ছাদে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নান্দনিক পরিবেশন

সাধারণ খাবারই পরিবেশনের গুণে হয়ে ওঠে অসাধারণ। কাচ বা সিরামিকের তৈজসপত্র চড়ুইভাতির জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র হতে পারে এগুলোর বিকল্প। বেত, বাঁশ বা কাঠের উপকরণের তৈজসপত্রে পাবেন অনন্য আমেজ। কলাপাতায় খাওয়ার চল তো হারিয়েই গেছে। কলাপাতা ভাঁজ করেই না হয় পাকোড়া সাজিয়ে দিলেন। ঝামেলা কমাতে কেবল একবার ব্যবহারযোগ্য থালা, গ্লাস, চামচ, কাপও কাজে লাগানো যায় অবশ্য।

default-image

খেলাধুলায়, হাসি-মজায়

একপাশে একটা বোর্ড থাকতে পারে, তাতে হয়তো কেউ কিছু লিখলেন (লেখা হতে পারে রান্নার ‘মেন্যু’ও)। শিশুরা মজা পেতে পারে। চড়ুইভাতিতে খেলুক ওরা ওদের মতো। পুতুল খেলা, রান্নাবাটি, ছোট্ট খেলনা নিয়ে হুটোপুটি—চলুক না। বড়দের জন্যও খেলাধুলার নানান আয়োজন করতে পারেন। সঙ্গে নিতে পারেন পছন্দের খেলার জন্য ছোটখাটো সামগ্রী। বালিশখেলা, একটি শব্দের শেষ অক্ষর দিয়ে অন্য একটি শব্দ বলতে পারা, একজন মনে মনে ভাবা একটি শব্দকে বাকিরা কয়েকটি প্রশ্ন করে বুঝে নেওয়ার খেলা—এমন নানান কিছুই হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সম্প্রতি বাড়ির ছাদে কয়েকটি পরিবারকে নিয়ে একটি আয়োজন করেছিলেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা ফারজানা ইয়াসমিন। চড়ুইভাতির মতোই অনেকটা হয়েছিল সেই আয়োজন। ছাদটা একটু সাজানো হয়েছিল, রান্নাটা অবশ্য বাসাতেই করা হয়েছিল। শিশুদের দুষ্টুমি যেমন ছিল, তেমনি ছোটদের সঙ্গে বড়দের নিয়েও ছিল মজার খেলা। বসতে বলা হলে যিনি দাঁড়িয়ে থাকছেন, তিনি হচ্ছেন ‘বোকা’, দাঁড়াতে বলা হলে যিনি বসে পড়ছেন, তিনিও তা-ই। যিনি ‘বোকা’, তিনি বাদ পড়লেন খেলা থেকে। কে বুদ্ধিমান, আর কে বোকা—এই খেলাতেই সবাই পেল সরলসোজা আনন্দ। আপনিও ভেবে বের করতে পারেন এমন মজার কোনো খেলা।

তা ছাড়া চড়ুইভাতিতে সঙ্গে নিতে পারেন আদরের পোষা প্রাণীটিকেও। একটু হাঁটতে পারে সে আপনার পাশে পাশে, বল বা মোচড়ানো একটা সাদা কাগজ নিয়ে খেলতেও পারে। চড়ুইভাতির আনন্দে যুক্ত হোক ওরাও, সময়টা বেশ অন্য রকমই অনুভব করতে পারেন এমন আনন্দে।

মন্তব্য করুন