বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাড়ির স্বত্বাধিকারী হওয়ার স্বপ্নই যে কেবল থাকে, তা কিন্তু নয়। স্বপ্নের বাড়ি সুন্দরভাবে সাজানোর ইচ্ছাটাও থাকে মনের গহিনে। সেই ঘরের প্রবেশপথে নিজের নামটা অনেকেই রাখতে চান, মনের মতো করে। অতিথি তো বটেই, বাড়ির বাসিন্দারাও সারা দিনের কাজের পর বাড়িতে ঢোকার পথে এমন একটা নামফলক দেখে ভুলতে পারেন ক্লান্তি। সুখের নীড় তৈরি করার জন্যই তো কষ্ট করা সারাটা দিন। সেই নীড়েরই প্রবেশপথটায় মনকাড়া নামফলক বসানো প্রসঙ্গে এমনটাই বলছিলেন ডোর নেমপ্লেট ও উড কার্ভের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহেদ রেজা। তাঁর কাছেই জানা গেল নামফলকের নানা দিক।

উপকরণে ভিন্নতা, নকশায়-বর্ণে নতুনত্ব

default-image

কাঠ, বোর্ড, ধাতব উপাদান কিংবা রঙিন অ্যাক্রিলিকের (ক্রিস্টাল কাচের মতো দেখতে) ত্রিমাত্রিক নামফলক তৈরি করেন তাঁরা। প্লাস্টিক, ক্রিস্টাল, কাচ, প্লাইউড, স্টিলের নামফলকও লাগাতে পারেন। লেকার বার্নিশ করা নামফলকগুলো পাঁচ বছরের মধ্যে নষ্ট হয় না। কাঠে খোদাই করে লেজারের সাহায্যে বর্ণ আর নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। নামফলকের কাঠামোর নকশা, ফলকে ফুটিয়ে তোলা বর্ণের ধাঁচ (ফন্টের বৈচিত্র্য বা ক্যালিগ্রাফি)—সবটা মিলিয়েই আপনার বাড়ির প্রবেশপথটা হয়ে উঠতে পারে অনন্য। নামফলক যেহেতু সচরাচর পরিবর্তন করা হয় না, তাই প্রথমেই টেকসই নামফলক লাগানো ভালো। বাড়ির বাইরে মূল গেটে ফলক লাগানো হলে তা এমন উপকরণে তৈরি হতে হবে, যা রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। পিতল, তামা বা অ্যাক্রিলিকের ফলক এসব জায়গার উপযোগী।

বর্ণে ফোটা শান্তিটুকু

হোম, সুইট হোম, হ্যাপি ফ্যামিলি কিংবা স্বাগত জানানো কোনো বার্তা থাকতে পারে নামফলকে। চাইলে এমন বার্তা লিখতে পারেন প্রাণের ভাষা বাংলাতে। পাশ্চাত্য ধাঁচের সামগ্রীতে বাঙালিয়ানার ছাপ আনে দরজার নামফলকও। অন্দরের প্রবেশমুখের অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন, নামফলকটি যেন তার সঙ্গে মানানসই হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক। মো. শাহেদ রেজা জানালেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে ক্রেতারা তাঁদের বাড়ির প্রবেশমুখের ছবি পাঠিয়ে দিলে তাঁরা মানানসই প্রাথমিক নকশা তৈরি করেন, এরপর ক্রেতা সেটি দেখে তাতে আনতে পারেন আরও পরিবর্তন। ফেসবুক পেজ ডোর নেমপ্লেটের মাধ্যমেই ক্রেতারা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন খুব সহজে।

default-image

কাঠের নামফলক তৈরি করে লাভল্যান্ড স্টোর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সালাউদ্দীন শাওন জানালেন, অনলাইন সেবার পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুর-১–এর শাখা থেকেও করা যাবে কেনাকাটা। ফেসবুক পেজ ‘লাভল্যান্ড স্টোর’ থেকে অনায়াসেই ঘরে বসে ফরমাশ দেওয়া যাবে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকার-আকৃতির নামফলক তৈরি করে দেন তাঁরা। পছন্দ অনুযায়ী নকশা তো করিয়ে নেওয়া যাবেই। এ ছাড়া কাঠ ও কাঠজাতীয় উপকরণের নামফলক পাবেন ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোগ ‘গিফট মেড লাভ’ আর ‘উড আর্ক বিডি’ থেকেও।

আরও যা

default-image

নামফলক লাগাতে পারেন দরজায় কিংবা দরজা লাগোয়া স্থানে। দরজার কোনার দিকে না লাগানোই ভালো। নামফলকের অবস্থান হওয়া উচিত চোখ বরাবর, যাতে তা পড়তে ঘাড় উঁচু করতে কিংবা নুইতে না হয়। বেশ দূর থেকে দৃশ্যমান হোক আপনার বাড়ির নামফলক। চাইলে সেখানে একটি স্পটলাইটের ব্যবস্থা করতে পারেন। আবার নামফলকের চারপাশ সাজাতে পারেন স্ট্রিং লাইট দিয়েও।

দরজার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নামফলক বাছাই করলে সুন্দর দেখায়। নামফলক যেন অনেক দূর থেকেও দৃশ্যমান হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

পরিচয় গোপন রাখতে চাইলে নাম-পরিচয় ছাড়া কেবল স্বাগত বার্তাই রাখতে পারেন। কেবল বাড়ি বা ফ্ল্যাটের নামও লেখা থাকতে পারে নামফলকে। পুরোনো দিনের আমেজ পাবেন।

বাড়ির সামনে বাগান থাকলে সেখানে প্ল্যাকার্ডের মতো করে নামফলক রাখতে পারেন। নামফলক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা আবশ্যক।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন