পরিবারের চাহিদা বুঝে কিছু নিত্যপণ্য সপ্তাহ বা মাসের হিসাবে কিনে রাখতে পারেন। মডেল: নেহরীন মোস্তফা
পরিবারের চাহিদা বুঝে কিছু নিত্যপণ্য সপ্তাহ বা মাসের হিসাবে কিনে রাখতে পারেন। মডেল: নেহরীন মোস্তফা ছবি: কবির হোসেন

প্রতিবছরই পবিত্র রমজান মাসের আগে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে প্রতিটি সবজির দাম বাড়ে। এবারও দাম বেড়েছে, তবে সেটা হুট করে নয়, বরং সময় নিয়ে দুই মাস ধরে একটু একটু করে বেড়েছে এসব পণ্যের দাম। ৭ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজার ঘুরে সেই চিত্রই দেখা গেল।

এদিকে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় এখন চলছে লকডাউন। আর রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে যোগ হয় আরও কিছু পণ্য। রোজার আগে প্রতিদিন পরিবারে লাগে, এমন পণ্য কিনে রাখা ভালো। করোনাকালে ৃদরকারি পণ্যের তালিকায় যোগ হয়েছে নানা রকম জীবাণুনাশক ও স্যানিটাইজ করার পণ্য। বাজারে নানা প্রতিষ্ঠানের নানা আকারের সেসব স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। তবে কাঁচাবাজারের মতো এসব পণ্যের দামে বিশেষ ওঠানামা নেই। কাঁচাবাজারের সঙ্গে এবার তো স্বাস্থ্য সুরক্ষার এসব পণ্যও কিনতে হবে।

কাঁচাবাজারের হালচাল

রমজানের আগে কাঁচাবাজারে এখন ক্রেতার লম্বা সারি। চাহিদা যেটুকু বেড়েছে, দাম তার চেয়ে বেশি বেড়েছে সবজির বাজারে। করলার দাম এখন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের একটি লাউ ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে কেজি ৩০ টাকা, লালশাক ১০ টাকা আঁটি, ডাঁটার আঁটি ৩০ টাকা (বড় ৫ পিস), কচুর লতি কেজি ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, চিচিঙ্গা কেজি ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি ২৫ টাকা, ধুন্দুল ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, বাঁধাকপি কেজি ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স কেজি ৫০ টাকা, চালকুমড়া কেজি ৩০ টাকা, শিমের কেজি ৫০ টাকা, টমেটো কেজি ৩০ টাকা, পটোল কেজি ৫০ টাকা ও কাঁচকলা হালি ৩০ টাকা।

দুই সপ্তাহ আগের বাজার হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি সবজিতেই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা ফজলু সরদার বলেন, ‘সব ধরনের শাকসবজি এখন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। লকডাউন চলছে, তাই মালামাল কম আসছে। এভাবে চলতে থাকলে রমজান মাসের আগে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।’

রমজান মাসের জন্য ছোলা, বুট, ডাল, বেসন, চিনি, মুড়ি, চিড়া, গুড়, খেজুরসহ নানা রকম ফলমূল কিনতে হয় সবারই। তাই এখন সব বাজার ও মনিহারি দোকানে এসব পণ্যের মজুত ভালোই আছে। এগুলোর দামও কমবেশি ওঠানামা করে। পরিবারের প্রয়োজন হিসাব করে রোজা শুরুর আগেই এসব কিনে রাখা ভালো।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিত্যব্যবহারে জীবাণুনাশক পণ্য

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে আবার। রোগীর সংখ্যার পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুহার। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। নিয়মিত মাস্ক পরা ছাড়াও হাতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই সাবানপানিতে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। এ ছাড়া নানা ধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে বাজারে। নানা কোম্পানির নানা ধরনের স্যানিটাইজার আছে ১০ মিলিলিটার থেকে ৫০০ মিলিলিটার আকারের স্যানিটাইজারই বেশি চলছে এই সময়ে। লাইফবয়, স্যাভলন, ডেটল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্রটেক্ট, জার্মনিল, কসমো, হ্যান্ডিরাব, সেফ লাইফ, লাইজল, স্বপ্নসহ নানা রকম ব্র্যান্ডের জীবাণুনাশক মিলবে বাজারে। এর মধ্যে কোনোটি হাত জীবাণুমুক্ত করতে, কোনোটি মেঝে, কোনোটি আসবাব পরিষ্কার রাখতে ব্যবহার করা হয়। কাচ, কাঠ, দেয়াল, সোফার গদি পরিষ্কার রাখতেও নানা ধরনের স্প্রে আছে। এমনকি সবজি, ফলমূল, পোশাক বা জুতাও জীবাণুমুক্ত করার স্প্রে মিলবে বাজারে। পণ্যের আকার ও ব্যান্ডভেদে দাম পড়বে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন