প্রথমবারের মতো মা হতে যাচ্ছেন পিয়া জান্নাতুল। নকশার আয়োজনে এ সময়ের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরলেন।
প্রথমবারের মতো মা হতে যাচ্ছেন পিয়া জান্নাতুল। নকশার আয়োজনে এ সময়ের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরলেন। সাজ: লাভিস, ছবি: সুমন ইউসুফ

প্রথম সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন মডেল ও উপস্থাপক পিয়া জান্নাতুল। তাই সময়টা বেশ উপভোগ করছেন। চেষ্টা করছেন ফিট থাকার—নিজের জন্য এবং অনাগত সন্তানের জন্য। শারীরিক ও মানসিক—দুভাবেই। নকশার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পিয়ার এখনকার একদিন

default-image
বিজ্ঞাপন

আগের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময়ই দাঁড়িয়েছিলেন কাজের কারণে। পরদিন এ কারণে ভারী কোনো কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বর আলাপচারিতার শুরুতেই তা জানিয়ে দিলেন মডেল ও উপস্থাপক পিয়া জান্নাতুল। যিনি একজন আইনজীবীও।

প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা, তাই সময়টি বেশ উপভোগ করছেন। গুরুত্ব দিচ্ছেন আরাম, পরিচর্যা আর কাজকে। কাজ তো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদিনের জন্যই, তেমনি পিয়ার কাছে নিজের যত্ন নেওয়াটাও এই সময়ে জরুরি। চেষ্টা করছেন ফিট থাকার—নিজের জন্য এবং অনাগত সন্তানের জন্য। শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও। যাতে সামনের সময়গুলো পার করতে পারেন ইতিবাচকভাবে।

লক্ষ্য ছিল ২০২০

বিয়ের সময়ই পরিকল্পনা ছিল ২০২০ সালে সন্তান নেবেন। করোনাভাইরাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই—২৯ অক্টোবর এই প্রতিবেদনের জন্য ছবি তোলার সময় হাসতে হাসতেই বললেন পিয়া জান্নাতুল। পুরো সময়টাতেই স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় ছিলেন। নানা রকম ছবি তোলার ফাঁকে ফাঁকে জানিয়েছেন মা হতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।

নকশার পাঠকদের জন্য পিয়া তুলে ধরেলেন প্রতিদিনের রুটিনও। সকালে ঘুম থেকে ওঠা এখন নির্ভর করে কাজের ওপর। প্রয়োজনে সকালে ৭টায় উঠে যান। অফিসে বা নিজের সৌন্দর্যচর্চার কেন্দ্র লাভিসে গেলে ১০টার মধ্যে বের হয়ে যান। ‘কাজের খুব চাপ থাকলে ঠিক করি পরদিন কোথাও যাব না। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘুমাব— শরীরের ওপর নির্ভর করে। কাজের চাপ নিচ্ছি না এখন। তবে তার মানে এটা না যে আমি কাজ বন্ধ রাখছি’, বললেন পিয়া।

default-image
বিজ্ঞাপন
default-image

চা আর টায়ে শুরু সকাল

সকাল শুরু হয় চা আর বিস্কুট দিয়েই। এরপর সারা দিন কী করবেন, সেটা লিখে ফেলেন। ঠিক করে ফেলেন কখন কোথায় যাবেন। সকালে কাজের চাপ কম থাকলে বিভিন্ন ডকুমেন্ট, সন্ধ্যার ক্লাসের কাগজপত্র গুছিয়ে নেন। অনলাইনে সান্ধ্য এমবিএ কোর্স করছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘরে বসে যেসব কাজ করা যায়, সেসব করে ফেলেন মূলত। একটা বইও লিখছেন নিজের জীবনের ওপর। সেটির কাজও করেন সকালের দিকে। বাড়ি থাকলে এগুলো গোছাতে গোছাতে দুপুর হয়ে যায়।

পিয়া জান্নাতুল বরাবরই বাড়ির খাবার খেতে পছন্দ করেন। যতবার তাঁর বাড়িতে যাওয়া হয়েছে কাজে, তা–ই দেখেছি। ডাল–ভাতই তাঁর পছন্দের খাবার। পিয়া জানান, ‘বংশগতভাবেই আমি খুব একটা স্বাস্থ্যবান না। যেহেতু মোটা হওয়া নিয়ে খুব একটা সমস্যায় কখনো পড়তে হয়নি, তাই কঠোর ডায়েট অনুসরণ করতে হয়নি। আইসক্রিম, চকলেট, চিনি, মিষ্টি এগুলো সাধারণত আমি খাই না। অনলাইনের মাধ্যমে দুজন ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নিচ্ছি। আগে যে ডায়েট অনুসরণ করতাম, তা থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। এ কারণে খুব বেশি বদল আসেনি আমার খাওয়াদাওয়ায়। আমি আগের ডায়েটই অনুসরণ করছি এ কারণে।’ সকালে রুটি আর নাটেলা খান। দুপুরে আর রাতে ভাতের সঙ্গে সবজি, ডাল আর আমিষ–জাতীয় খাবার থাকে। তালিকায় দিনে দুটি ডিম থাকে। তিনি কখনো খালি পেটে থাকেন না। কিছু না কিছু খেতেই থাকেন। নুডলস, ফল অথবা বিস্কুট।

default-image

যাচ্ছেন জিমেও

সপ্তাহে ৩–৪ দিন জিমে যাচ্ছেন পিয়া। আমাদের দেশে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার উৎসাহ দেওয়া হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে বেশ আলোচিত হয়েছেন পিয়া। প্রশংসা করেছেন অনেকেই। তবে প্রথম পাঁচ মাস তিনি পার্কে গিয়ে হেঁটেছেন। হাঁটার মধ্যেই বিরতি নিয়েছেন, বই পড়েছেন। তিনি বললেন, বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ীই ব্যায়াম করা উচিত।

বিকেলের দিকে তিনি জিমে যান। ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন। তবে ধীরে ধীরে। তাড়াহুড়া করেন না একেবারেই। স্ট্রেচিং করা হয় বেশি। এরপর হালকা ওয়েট নিয়ে ফ্রি হ্যান্ড করেন। ট্রেডমিল কখনোই খুব বেশি করতেন না। ওয়ার্মআপ করার জন্য ১০ মিনিটই যথেষ্ট বলে মনে করেন।

‘জিমে যাওয়াটা মা এবং সন্তান দুজনের জন্যই ভালো। এমনভাবে জিম করা উচিত না যে করার পর গাড়ি পর্যন্তই যাওয়া যাবে না। সন্তানসম্ভবা হলে জিম করা যাবে না, এটা খুবই ভুল ধারণা। আমি জিম করার ছবি দিলে অনেকে লেখেন, তখন বুঝতে পারি অনেক ভুল ধারণা আছে আমাদের এখানে। শারীরিক কাঠামো ঠিক রাখার জন্য না, জিম করি নরমাল ডেলিভারির (স্বাভাবিক প্রসব) জন্য। আমার সন্তানের জন্য। চাপমুক্ত হওয়ার জন্য,’ এভাবেই বললেন পিয়া।

default-image
default-image

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মাস ছয়েক হয়েছে পিয়ার। ঘুম এ কারণে কমে গেছে। শারীরিক বা দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনগুলো জানার চেষ্টা করেন পিয়া। প্রচুর পড়াশোনাও করছেন বিষয়টি নিয়ে। তিনি বললেন, ‘এ ক্ষেত্রে যে মাধ্যম থেকে আপনি পড়ছেন, সেটা যেন নির্ভরযোগ্য হয়। আমি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং নির্ভরশীল ওয়েবসাইট থেকে জানার চেষ্টা করি।’

এই সময়ে প্রত্যেক মায়ের নিজের প্রতি সময় দেওয়া উচিত বলে অনুভব করছেন পিয়া। ‘এমন একটা সময়, না চাইলেও ২৪ ঘণ্টা বিষয়টি মাথায় ঘোরে। সারাক্ষণ একটা বিষয় মাথায় ঘুরতে থাকলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়। মানসিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখার জন্য আরামের প্রয়োজন। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করা, বই পড়া, একসঙ্গে ছবি দেখার মতো বিষয়গুলো উপভোগ করা উচিত।’ সন্তান হওয়ার পর সময়টা আর পাওয়া যাবে না। তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে।

একই সঙ্গে সঙ্গী, মানে স্বামীর সহযোগিতা এ সময় খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন পিয়া জান্নাতুল। তিনি এবং তাঁর স্বামী ফারুক হাসান একসঙ্গে অনেক সময় কাটান। সিনেমা দেখেন, সময়টা দুজনে আরও নানাভাবে উপভোগ করেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

কাজে বাইরেও যাচ্ছেন

পিয়াকে এখনো বাইরে বের হতে হচ্ছে কাজে। মাস্ক আর স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখেন সব সময়। মানুষের কাছ থেকে চেষ্টা করেন দূরে থাকতে। আইনজীবীর পোশাকের বাইরে আরাম পান এমনটা বেছে নিচ্ছেন। লম্বা বা খাটো ফ্রক ধাঁচের পোশাক বানিয়ে নিয়েছেন। হিল পরলেও ব্লক হিল পরছেন। যাতে শারীরিকভাবে কোনো চাপবোধ না করেন। অনেকে পিয়াকে বলেন, ‘মোটা হয়ে যাচ্ছ।’ পিয়ার জবাব, ‘এই সময়ে একটু ওজন বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। না বাড়াটাই বরং অস্বাভাবিক। তবে আপনি একে কীভাবে নিচ্ছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ফিট রাখার জন্য যা করা দরকার, সেটা করুন। এ ক্ষেত্রে কাছের সবার সহায়তা দরকার।’

সন্তান হওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় শারীরিক শক্তি কমে যায়। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে পরিবর্তন চলে আসে শরীরে। বিষণ্নতাও ভর করে মনে। তবে মানসিকভাবে ইতিবাচক আর শক্ত থাকা প্রয়োজন। মা হতে যাচ্ছেন, এ কারণে সবকিছু বাদ দেওয়ার কিছু নেই। এই বোধ পরবর্তী সময়ে ইতিবাচক সহায়তা করবে বলেই মনে করেন পিয়া জান্নাতুল।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0