চলতি ধারার কাটে টিউনিক (বাঁয়ে)। সিঁদুরে লাল আরামদায়ক জর্জেট কাপড়ের ওপর আলপনা ধাঁচের ফুলেল নকশা। গোল গলা, ল্যান্টার্ন হাতা। উঁচু–নিচু ছাঁটে কাটা হেম আর পিনটাকের কাজ।
শাড়িতে নকশিকাঁথার ভারী কাজ(ডানে)। ব্লাউজের কাটে নতুনত্ব। বিপরীত রং ও নকশার কাপড়ে তৈরি হাতাকাটা  ব্লাউজ। ফ্রিল এনেছে নাটকীয়তা।
চলতি ধারার কাটে টিউনিক (বাঁয়ে)। সিঁদুরে লাল আরামদায়ক জর্জেট কাপড়ের ওপর আলপনা ধাঁচের ফুলেল নকশা। গোল গলা, ল্যান্টার্ন হাতা। উঁচু–নিচু ছাঁটে কাটা হেম আর পিনটাকের কাজ। শাড়িতে নকশিকাঁথার ভারী কাজ(ডানে)। ব্লাউজের কাটে নতুনত্ব। বিপরীত রং ও নকশার কাপড়ে তৈরি হাতাকাটা ব্লাউজ। ফ্রিল এনেছে নাটকীয়তা। মডেল: আন্নি ও সায়রা, পোশাক: লা–রিভ, শািড়: টাঙ্গাইল শািড় কুটির, ব্লাউজ: ভারমিলিয়ন, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, স্টাইলিং: বিপাশা রায়, ছবি: কবির হোসেন

করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবার বেড়ে যাওয়ায় এ বছরও বাংলা নববর্ষের উদ্‌যাপন হয়তো ঘরোয়াভাবেই করতে হবে। তাতে কি? পোশাকে থাকতে পারে উৎসবমুখরতা। লাল–সাদার বাইরে এখন নানা রঙে রঙিন বৈশাখের বৈশাখীয়ানা ।

বিজ্ঞাপন

জোরালো কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া না গেলেও বৈশাখের পোশাকের রং হিসেবে লাল-সাদাই বেশি দেখে আসছি। ধীরে ধীরে সেই চিত্রেও দেখা গেছে বদল। লাল-সাদার পাশাপাশি অন্য রংগুলোও বৈশাখী পোশাকে জায়গা করে নিচ্ছে। এর একটি বড় কারণ পোশাকটি যেন এক দিনের জন্য সীমাবদ্ধ না হয়ে থাকে। সারা বছরই যেন পরা যায়। আর পোশাকে যেন থাকে উৎসবের আবহ। সে ঘরেই হোক কিংবা বাইরে। সাদা শাড়িতে লাল পাড় কিংবা সাদা কামিজের সঙ্গে লাল ওড়না, নকশার এই ভাবনাতেও চলে এসেছে পরিবর্তন। নকশায় দেশীয় উপাদানের ব্যবহার হচ্ছে নানাভাবে।

default-image

করোনার প্রকোপ বাড়ায় গতকাল ৫ এপ্রিল শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের লকডাউন। জনসমাগম, বাইরের অনুষ্ঠানাদি, পর্যটনকেন্দ্রগুলো কয়েক দিন আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ বছরও পয়লা বৈশাখ মানে বাংলা নববর্ষের উদ্‌যাপন জাঁকজমকভাবে হবে না। গত বছরের মতোই ঘরোয়া উদ্‌যাপনের মাধ্যমে দিনটি হয়তো কেটে যাবে।

বাংলা নববর্ষের এক মাসের ব্যবধানে হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উদ্‌যাপন।দুটি বড় উৎসব কাছাকাছি সময়ে হওয়ার কারণে পোশাকেও দেখা যাচ্ছে এর প্রভাব।নকশায় থাকবে চিরচেনা রূপের বাইরের কারুকাজ।মানসিকভাবে বৈশাখের আমেজ ধারণ করা এবং সেটা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনাটাই এবার যেন আসল।তবে পোশাক সবসময়ই উৎসবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।ঘরোয়া আয়োজনেও রঙিন পোশাক থাকতে পারে।বরং এবার সেটাই বেছে নেওয়া হোক।কিছুটা সময়ের জন্য হলেও মন ডুবে থাক টেপা পুতুল কিংবা গ্রামীণ কোনো নকশার মধ্যে।নকশির সুই-সুতার ফোঁড়ে মনে গেঁথে নিতে পারেন বছরের প্রথম দিনটির ভালো লাগার কিছু মুহূর্ত।

default-image
বিজ্ঞাপন

এবার পোশাকের রংগুলোতে প্রাধান্য পাচ্ছে আরাম। ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, বৈশাখ আর ঈদ পাশাপাশি হওয়ায় পোশাকে রঙের ব্যবহারও সেভাবে হয়েছে। লালের বদলে মেরুন, কচি পাতা সবুজের পাশাপাশি জলপাই রং, বাদামি, বেগুনি, নীল টোনের মধ্যে সাদা ও লেবু রং ইত্যাদি রংগুলো রাঙাবে পোশাককে। বৈশাখের প্রখর রোদে এই রংগুলোই আরাম দেবে।

default-image
default-image

নানা কাট দেখা যাবে পোশাকে। ঢোলা শার্ট এবার চলতি ধারায় বেশ থাকবে। পাতলা কাপড়ের দুই স্তর (ডাবল লেয়ার) থাকবে। হেম লাইনে উঁচু–নিচু কাট। ব্যাগি, ধুতি, ঢোল, ডিভাইডার কাটের প্যান্টে আরাম পাওয়া যাবে। হালকা রঙের ব্যবহার বেশি হবে। জ্যামিতিক নকশার কাজও থাকবে অনেক। প্যাচওয়ার্ক, অ্যাপ্লিক, টাইডাই, বাটিক, ব্লক—সবই আছে মাধ্যম হিসেবে। শাড়ির ওপরেও থাকবে এসব কাজ।

বৈশাখ ঘিরে ফ্যাশন হাউসগুলোর কমবেশি প্রস্তুতিও আছে। বাজার কিংবা দোকান বন্ধ থাকলেও সব হাউসেরই অনলাইনে বেচাকেনার ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলেই ঘরে বৈশাখ উদ্‌যাপনের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন এখন থেকেই।

default-image
নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন