সুন্দর কিংবা সুগন্ধি ফুল ঘরে এনে দেবে ভিন্নমাত্রার সতেজভাব। ফুলদানি ছাড়াও নান্দনিকভাবে ফুল সাজানো যায়।
সুন্দর কিংবা সুগন্ধি ফুল ঘরে এনে দেবে ভিন্নমাত্রার সতেজভাব। ফুলদানি ছাড়াও নান্দনিকভাবে ফুল সাজানো যায়। কৃতজ্ঞতা: গুলসান নাসরীন চৌধুরী, ছবি: খালেদ সরকার

ফুল সাজাতে পারেন যে কোনো ছন্দে। যে কোনো পাত্রে। আপনার মনের প্রতিফলন ঘটুক ফুলের সৌন্দর্যে।

বিজ্ঞাপন

মনখারাপের সময় ঘরে সাজানো একগুচ্ছ ফুল দেখে মন ভালো হয়ে যায় একমুহূর্তে। ছোট্টবেলা থেকে দেখেছি, ঘরে একগুচ্ছ রজনীগন্ধা সাজানো একটা স্বচ্ছ পাত্রে। এমনটা রাখেন অনেকেই। সময়ের বিবর্তনে নান্দনিক আয়োজনে যোগ হয়েছে নানা অনুষঙ্গ। ফুল সাজানোর ধরন-ধারণেও এসেছে বদল।

ফুল সাজাতে ফুলদানি যে লাগবেই, তা কিন্তু নয়। কাচের পুরোনো বোতল হতে পারে আপনার ফুলদানি। টমেটো সস শেষ হওয়ার পর সেই বোতলটাই না হয় ধুয়ে, শুকিয়ে রেখে দিলেন ফুল সাজানোর জন্য। ঝাঁজরি, পুরোনো জগ, কেটলি কিংবা ভিন্ন ধাঁচের যেকোনো পাত্রই হতে পারে ফুলদানি। ঘরে নানাভাবে রাখা যায় ফুল।

রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের প্রধান ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলসান নাসরীন চৌধুরী জানালেন ভিন্ন ধারায় ফুল সাজানোর এমনই নানা উপায়।

চারপাশ থেকে দেখুন ফুল

default-image

ফুলদানিতে রাখা অনেক ফুল—চারদিক থেকেই দেখা যায়। এটিকে রাখতে পারেন বসার ঘরের মাঝখানের টেবিলে। ঘরে ঢোকার সময়ই চোখে পড়বে, আবার টেবিলের চারপাশে সাজানো সোফায় বসলেও চোখ জুড়াবে এমন ফুলে। এমন ফুল রাখতে পারেন খাবার টেবিলের মাঝখানে কিংবা এক পাশে। ঘরের প্রতিটা দিক থেকেই এই ফুলগুচ্ছের সৌন্দর্যের ছটা চোখে পড়বে।

default-image
বিজ্ঞাপন

বাড়িতে ঢুকেই ফুলের সুবাস

default-image

বাড়ির প্রবেশদ্বারে বড় ফুলদানিতে রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা, গ্ল্যাডিওলাস কিংবা বড় ডাঁটির অন্য কোনো ফুল সাজাতে পারেন; শুধু ডালিয়া ফুলও রাখতে পারেন। সেখানে যদি শোপিসের তাক থাকে, তাহলে তাতেও সাজাতে পারেন ছোট্ট ফুল-পাতা। বিছানার পাশের ছোট টেবিলে, শোবার ঘরের এক কোণে এমনভাবে ফুল রাখতে পারেন, যাতে সামনে থেকেই ফুলের পাপড়িগুলো সুন্দরভাবে দেখা যায়। কারণ, এসব ক্ষেত্রে ফুলের পেছনের দিকটা দেয়াল বা টেবিল দিয়ে ঢাকা পড়ে যায়।

default-image

ফুলের বৈচিত্র্যময় পাত্র

default-image

রান্নাঘরের জানালা কিংবা কোনো তাকে ফুল সাজাতে ফুলদানিটা হতে পারে পুরোনো কোনো জগ, চায়ের মগ, কেটলি, চিনির পাত্র (সুগার পট), দুধের পাত্র (মিল্ক পট) কিংবা সিরামিক বা ইস্পাতের কোনো পাত্র, অর্থাৎ রান্নাবান্নাসংশ্লিষ্ট ঘরসংক্রান্ত কোনো পাত্র। সুগন্ধি বা অন্য প্রসাধনী ব্যবহার শেষে সেটির কৌটার মুখ কেটে তাতেও ফুল রাখতে পারেন। মাটি, টেরাকোটা, কাচ বা সিরামিকের কারুকাজ করা ফুলদানিও নিতে পারেন। একই জায়গায় কাছাকাছি ধরনের কয়েকটি পাত্রকে (বিভিন্ন উচ্চতার) ফুলদানির ‘সেট’ বানানো যায়। সাধারণ পাত্রে পানিতে ফুল সাজিয়ে পাত্রটিকে হোগলাপাতা বা পাটির ঝুড়ি, বাক্স কিংবা চৌকো ফ্রেমজাতীয় কোনো কিছুতে রাখা যায়। কাছাকাছি রঙের একাধিক জাতের ফুলও রাখতে পারেন। পাতাগুলো হতে পারে বৈচিত্র্যময়। ফার্ন বেছে নিতে পারেন। গোলাপের সঙ্গে হয়তো গোলাপপাতা না রেখে অন্য কোনো পাতা রাখলেন। ফুলের ডালের উচ্চতায় তফাত রেখেও আনতে পারেন নান্দনিকতা। গাছের মতো ছড়িয়ে দিতে পারেন ফুলদানির ফুল-পাতা। কোনো ঘরে হয়তো কাচের ফুলদানি ঝুলিয়ে দিয়েই আনা হলো বৈচিত্র্য। ছোট্ট সাদা ফুল (‘জিপসি’ ফুল বলে পরিচিত) ছড়িয়ে রাখতে পারেন অন্যান্য ফুলের সঙ্গে।

default-image
নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন