default-image

বসন্ত আসার আগেই সেদিন শুনতে পেলাম কোকিলের কূজন। প্রতিবেশীর বাড়ির আমের ডালে ফুটেছে মুকুল। বসন্ত এল বলে। পঞ্জিকার হিসাবে ফাল্গুন মাস শুরু হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে, সেদিন আবার বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপনের চল। তাই দিবসভিত্তিক উদ্‌যাপনে আগ্রহীরা নানারকম আয়োজন করছেন দিনটি সামনে রেখে। ফাল্গুন আর ভালোবাসার রঙে নিজেদের সাজাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

‘রঙ রূপও বটে, রূপকও বটে।’প্রমথ চৌধুরী লিখে গিয়েছেন সেই কবে! একালেও বিশ্বজুড়ে রঙের রূপ আর রূপক দারুণ সমাদৃত।

উৎসব-আয়োজনে পোশাকের রং অনেকাংশেই রূপক। বসন্ত-উৎসবেও রঙের প্রচলন তাই বাসন্তী আর হলুদ রংকে ঘিরে। সঙ্গে থাকে কচি পাতার সবুজ ছোঁয়া। হলদে কিংবা সবুজের মধ্যেও অবশ্য থাকে বৈচিত্র্য, একই রঙের নানা ‘শেড’ ব্যবহৃত হয় আজকাল। তবে রঙের ক্ষেত্রে এ বছর এসবের পাশাপাশি সাদা কিংবা ম্যাজেন্টাও থাকছে। তেমনি ভালোবাসা দিবসের প্রচলিত লাল রঙের বাইরেও গোলাপ ফুলের মিষ্টি গোলাপি রং (পিঙ্ক রোজ), আকাশরাঙা গোলাপের রং (স্কাই টোন রোজ) কিংবা উজ্জ্বল বেগুনি (ভাইব্রেন্ট পার্পল) রংও উঠে এসেছে ভালোবাসা দিবসের পোশাকে। এমনটাই জানা গেল ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বৈচিত্র্যে অনন্য

ক্লাবহাউসের ডিজাইনার আদনান বলেন, ‘মহামারি পরিস্থিতিতে আমরা অনেক উৎসবই উদ্‌যাপন করতে পারিনি প্রায় এক বছর ধরে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই এই উৎসব দুটি সামনে রেখে বৈচিত্র্যের সম্ভার এনেছে ক্লাবহাউস, দীর্ঘদিনের কঠিন এই সময় পার করে এসে সবাই যাতে উৎসবে যোগ দিতে পারেন, সেই দিকটিও মাথায় রেখেছি। দামটা থাকছে নাগালের মধ্যেই।’

কচিপাতা ও শর্ষে ফুলের বিভিন্ন শেড থাকছে তাঁদের ফাল্গুনী আয়োজনে। ফুলেল বা ‘ফ্লোরাল’ মোটিফটাকে একটু আধুনিক ধারায় উপস্থাপন করতে ‘ব্লুমিং ফ্লাওয়ার’ মোটিফ ব্যবহার করেছেন তাঁরা। মেয়েদের জন্য এমব্রয়ডারি করা জর্জেটের সিঙ্গেল কুর্তি আর ছেলেদের জন্য স্ক্রিনপ্রিন্টে নকশা করা ভিস্কাস কাপড়ের পাঞ্জাবি রয়েছে তাঁদের এথনিক পোশাকের মধ্যে। বাঙালি ছাড়াও যাঁরা বসন্তকে মাথায় রেখে বেছে নেন পোশাক-পরিচ্ছদ, সেই ভিনদেশিদের ধারা আনা হয়েছে তাঁদের ‘ফিউশন অ্যান্ড ওয়েস্টার্নাইজড’ পোশাকে। ক্রোসেট ও ভিসকস কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি আরামদায়ক এসব পোশাকে থাকছে বিভিন্ন রঙের প্যাস্টেল শেড।

default-image

ভালোবাসা দিবসের আয়োজনে

মেয়েদের জন্য ক্লাবহাউসে থাকছে সামু সিল্কের পোশাকে ভিক্টোরিয়ান ফুলের ছাপা নকশা। থাকছে নানা রঙের শেড। পাশ্চাত্য ধারার টপ বেছে নিতে পারেন। ছেলেদের জন্য কোটা সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবিতে থাকছে বিভিন্ন রঙের প্যাস্টেল শেড। চাইলে ভিক্টোরিয়ান প্রিন্টের কাজ করা তসর সিল্কের কটি পরতে পারেন পাঞ্জাবির সঙ্গে। সাবলিমিশন প্রিন্টের ব্যবহারও রয়েছে তাঁদের পোশাকে। কেউ আবার অফিসে পরে যেতে পারেন ভিন্নধারার শেডে করা ভালোবাসা দিবসের শার্ট, যা পরে অফিস সেরে ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ছেলে ও মেয়েদের জন্য নানান ধরনের প্রিন্ট ব্যবহার করে কিছু টি-শার্ট এনেছেন তাঁরা, যাতে লেখা থাকছে নানা মজার মজার কথা বা ‘বার্তা’। ‘লাভ লাইন’-নামের এসব টি-শার্টের একটিতে রিফ্লেক্টিভ প্রিন্টও রয়েছে। ভালোবাসার কথা লেখা ডেনিমের ক্যাপও রয়েছে তাঁদের আয়োজনে।

বিজ্ঞাপন
default-image

একই দিনে দুই উৎসব

রঙ বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার অনিমা আহমেদ বলেন, যাঁরা দিবসভিত্তিক পোশাক পছন্দ করেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে ফ্লোরাল থিমেই ভালোবাসা দিবসের পোশাক এনেছেন তাঁরা। এ ধরনের একটি পোশাক দুটি আলাদা উৎসবেরই রূপক। আবার কেউ চাইলে একই দিনে দুই ধরনের পোশাক পরতে পারেন। দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরাল মোটিফ থাকলই না হয় নানা শেডের হলুদে, সঙ্গে থাকতে পারে মিষ্টি কমলা, লাল, টিয়া, ম্যাজেন্টা রং, বিকেলের পর পরতে পারেন লাল, অফ হোয়াইট রঙের ভালোবাসা দিবসের পোশাক। তাঁদের আয়োজনে রয়েছে হাফ সিল্ক ও সুতির শাড়ি, সুতির সিঙ্গেল কামিজ, থ্রি পিস, লিনেনের টপ। হাতের কাজ, ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্টে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুলেল নকশা। ছেলেদের জন্য শার্ট, টি-শার্ট এবং সুতি আর লিনেনের পাঞ্জাবি। ছেলেদের পোশাকে হালকা বাদামি, পেস্ট, সাদা, চাঁপা সাদার সঙ্গে রাখা হয়েছে খানিকটা হলুদের ছোঁয়া। এ ছাড়া ‘কাপল’ বা যুগ্ম পোশাকও থাকছে।

default-image

উৎসব-রাঙা দিন হোক নিরাপদ

সারা লাইফস্টাইল লিমিটেডের ফ্যাশন ডিজাইনার শামীম রহমান জানালেন, বাসন্তী, হলুদ, লেবু হলুদের পাশাপাশি বেবি পিঙ্ক, ম্যাজেন্টা, এমনকি সাদা রংও রয়েছে মেয়েদের জন্য ফাল্গুনের আয়োজনে। সুতি, ভিসকস, জর্জেট কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে মেয়েদের পোশাকে। ছেলেদের জন্য সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি আর শার্ট এনেছেন তাঁরা। রয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। পোশাকে দেশীয় মোটিফ, ফ্লোরাল মোটিফ, বিমূর্ত নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁরা ডিজিটাল প্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, কারচুপি আর এমব্রয়ডারিতে।

ভালোবাসা দিবসের আয়োজনে প্রায় এ ধরনের পোশাকই এনেছেন তাঁরা। তবে রঙের ধারাটা আলাদা। লাল-সাদার ব্যবহার তো রয়েছেই। মেয়েদের পোশাকে মেরুন আর ম্যাজেন্টা রংও থাকছে। ‘কাপল’ বা যুগ্ম টি-শার্টও রয়েছে। তিন-স্তরবিশিষ্ট ‘কাপল’ মাস্কও রয়েছে তাঁদের আয়োজনে।

মন্তব্য করুন