অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার কাজের অনুপ্রেরণার বড় একটা জায়গা নকশা।
অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার কাজের অনুপ্রেরণার বড় একটা জায়গা নকশা। ছবি: কবির হোসেন

প্রকাশনার শুরু থেকেই নকশার ভক্ত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। দিন দিন সে ভালোবাসা বেড়েছে, কমেনি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নকশার বিশেষ আয়োজনে সেই ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার কথা জানালেন শবনম ফারিয়া।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো প্রকাশের প্রথম দিন থেকেই আমাদের বাড়ির সদস্য। পরিবারের সবাই আমরা প্রথম আলো পড়ি। ছোটবেলা থেকে আমি নকশার নিয়মিত পাঠক। নকশা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। আমার বাবা সরকারি চাকরি করতেন। তাঁর চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে আমাদের। ঢাকার বাইরে থেকে ফ্যাশনের চলতি ধারায় কী চলছে, সেটা জানা কিছুটা অসম্ভব। জানতে পারতাম নকশা পড়ে। ঢাকায় আসতাম মাসে একবার। তখন কেনাকাটা করতাম। নকশা থেকে আমি নিয়েছি অনেক। এ যেন পুরোটাই একতরফা মুনাফা সম্পর্ক।

default-image

পেশাগত জীবনে মোড় থাকে কয়েকটা। যেমন আমি এটা করতে চাই। বিলবোর্ডে আমার ছবি দেখতে চেয়েছিলাম। পূরণ হয়েছে। ইচ্ছে ছিল যদি মডেলিং করি, তাহলে নকশার প্রচ্ছদে আমার ছবি আসবে। আমার চেয়ে আমার মায়ের আগ্রহ এবং শখ দুটোই বেশি ছিল। আমার মা প্রথম থেকেই নকশা অনুসরণ করেন। পড়ে তোশকের নিচে রেখে দেন। কত যে নকশা রাখা আছে, সেটার কোনো হিসাব নেই।

নকশার জন্য প্রথম শুট করি ২০১৩ সালে। ‘গয়নাও কাপড়ের তৈরি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ ‘গরম চা এখন চাই’ প্রকাশিত হয়েছে এ বছরই, লকডাউনের মধ্যে। নকশায় ছবি আসা মানে সারা দিন ফোনে শুভেচ্ছা পাওয়া। আমার মায়ের কাছে, আমার কাছে। ‘তৃপ্তির (আমার ডাকনাম তৃপ্তি) ছবি দেখলাম আজকে’, মাকে জানায় সবাই। আমি একটা গয়নার শুট করেছিলাম। ওটা করার পর কত ফোন পেয়েছি, কত মেসেজ পেয়েছি, হিসাব নেই।

বিজ্ঞাপন

আমার বয়স যখন ৫-৬ বছর, তখন মায়েরা অপেক্ষা করতেন সানন্দা ম্যাগাজিনের। পূজার সময় যে-ই সানন্দা আসত, সেটি দেখে সারা বছরের শাড়ির চলতি ধারা বুঝতে পারতেন। ৪-৫ বছর পর আমি যখন বড় হলাম, বুঝলাম নকশায় শাড়ির ছবি আসা মানে এটাই চলতি ধারা। নকশা চেষ্টা করে তার সবচেয়ে ভালোটি দেওয়ার। কারণ এর কাছাকাছি কিছু নেই, যেটার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অনেকাংশেই আমি নকশার ওপর নির্ভর করি।

প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতায় আমি বিচারক হয়েছিলাম। ভালো অভিজ্ঞতা ছিল আমার জন্য। আমার মা অনেক আচার বানান। এটি আমাদের বাসার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা খাদ্য। আমি প্রতিযোগিতায় আচার খেতে খেতেই মাকে ফোন দিয়েছিলাম, তোমারও এখানে আচার পাঠানো দরকার ছিল। আমিই সবচেয়ে ছোট ছিলাম বিচারকদের মধ্যে। বড়দের সঙ্গে বিচারক হতে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি অনেক কিছু।

default-image

ফ্যাশনে কখন, কোন ধারা চলতি, নকশা দেখে বুঝতে পারি। নকশায় এটা এসেছে তার মানে এটাই এখন জনপ্রিয়। আমি ১৩-১৪ বছর বয়স থেকেই ফ্যাশন অনুসরণ করি। যখন যেই ধারা থাকে, আমাকে সেটাই বানাতে হবে। নকশায় একবার দেখলাম খাটো কামিজের সঙ্গে বেলবটম প্যান্ট এসেছে। সব কাপড় বাদ। লম্বা কামিজগুলো মাকে দিয়ে বলেছিলাম, আমাকে এগুলোও কেটে ছোট করে দাও।

নকশায় আমার বেশির ভাগ ফটোশুট করা হয়েছে কাপড় ও গয়নার ওপর। কাপড়ের গয়নার একটা শুট করেছিলাম। সেটা আমার খুব প্রিয়— ‘শাড়ি, চুড়ি, গয়না আরও কত বায়না’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া ‘নতুন ধারার গয়না অনলাইনে’ প্রতিবেদনটির শুটটিও ভালো ছিল। পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আমরা ছবি তুলেছিলাম।

আমি যখন মডেলিং শুরু করি, সেটা কেউ চায়নি। কারও ইচ্ছা ছিল না যে এই পেশায় আসব। বাধা দিত না, কিন্তু খুশিও ছিল না বিষয়টি নিয়ে। তবে পত্রিকায় ছবি এলে দেখতাম যে সংগ্রহ করছেন। তখন বুঝলাম যে এটা পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেওয়া। বাবা খুব খুশি হতেন। বলতেন, ‘আমার মেয়ের ছবি এসেছে।’ এখন পর্যন্ত নকশার কোনো শুটের জন্য নেতিবাচক মন্তব্য পাইনি কারও কাছ থেকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নকশা সংগ্রহে রাখি মেয়েদের জন্য

নার্গিস আক্তার, শবনম ফারিয়ার মা

নকশার রেসিপি, ফ্যাশন—সবকিছুই ভালো লাগে। পোশাকের নকশাগুলো সংগ্রহে রাখি মেয়েদের জন্য। নতুন নতুন রান্না দেখলেও বাড়িতে করে ফেলতাম। আমার স্বামী ও আমি দুজনেই ভোজনবিলাসী ছিলাম। তোশকের নিচে জমতে জমতে বেশি হয়ে গেলে চলে যেত আবার ফাইলে। প্রথম থেকেই নকশা জমাতাম। যেহেতু মফস্বলে থাকতাম, এগুলোই আমাদের সম্বল ছিল। এখনো সকালে চা আর পত্রিকা একসঙ্গে না পেলে ভালো লাগে না। ফারিয়ার ছবি নকশায় ছাপা হলে অনেক ফোন পাই পরিবার, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে। করোনার এই সময়টাতেও পত্রিকা রাখছি আমরা। সকালটা পত্রিকা পড়েই কাটে।

অনুলিখন: রয়া মুনতাসীর

মন্তব্য পড়ুন 0