বিজ্ঞাপন

পোড়া মাটিতে তৈরি ও রঙিন কলস আমাদের গ্রাম বাংলার স্বাক্ষর বহন করে। ইতিহাস থেকে জানা যায় আড়াই হাজার বছর আগেও মানুষ পানি রাখতে ব্যবহার করত মাটির কলসি।

পরবর্তী সময়ে মাটির বদলে কাঁসা, পিতল; আরও পরে অ্যালুমিনিয়ামের কলসিও দেখা যায়। আর এখন তো পানি রাখার জন্য কলসির জায়গা নিয়ে নিয়েছে ফিল্টারের জার। কিন্তু মাটির গুণ তো আর পাওয়া গেল না। তাই মাটির কলস আর ফিল্টারের মিশেলে ব্যবহার করা যায় মাটির ফিল্টার।

মাটির কলসের আধুনিক রূপ মাটির ফিল্টার। গঠনের পরিবর্তন হলেও গুণাগুণ একই রকম পাওয়া যাবে। আর ব্যবহারও সহজ। পানি ঢেকে রাখার জন্য ফিল্টারের ওপরে দেওয়া থাকে মাটির ঢাকনা। যাকে সরা বলা হয়। আর সহজে পানি নেওয়ার জন্য থাকে কল। এই গরমে ফ্রিজের পানির বিকল্প হতে পারে মাটির ফিল্টারের পানি।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই মাটির রয়েছে নানা রকম গুণাগুণ। প্লাস্টিকের চেয়ে মাটির পাত্রে পানি খেলে শরীরের বিপাক বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া পেটের যেকোনো সমস্যা যেমন গ্যাস্ট্রিক, আলসারের মতো সমস্যা কমায় মাটির পাত্রের পানি। পানির সব থেকে ভালো গুণ হলো এটি পচে না। অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি হলে তা অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। তাই মাটির পাত্রে পরিষ্কার ফুটানো পানি রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না বরং ব্যাকটেরিয়া শোষণ করে। এ ছাড়া মাটির ফিল্টারে পানির ক্ষারও বাড়ে না। তবে মাটির ফিল্টার স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সপ্তাহে ১ বার অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। গরমে অনেকেই ঠান্ডা পানি খেয়ে থাকে কিন্তু ফ্রিজের ঠান্ডা পানির রয়েছে অনেক ক্ষতিকর দিক। সে ক্ষেত্রে মাটির ফিল্টার থেকে ঠান্ডা পানিও পাওয়া যাবে আবার ক্ষতিও হবে না।

মাটির ফিল্টারগুলো বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। তবে ৪ লিটার থেকে শুরু করে ১২ লিটার পর্যন্ত ফিল্টারই ব্যবহার করা সহজ। অনলাইনভিত্তিক পেজ সওদা কাজ করছে পরিবেশবান্ধব মাটির সামগ্রী নিয়ে। পটুয়াখালীর বাউফল গ্রাম থেকে তৈরি করে আনা হয় মাটির ফিল্টারগুলো। ৬ লিটার, ৮ লিটার ও ১২ লিটার পর্যন্ত ফিল্টার এখানে পাওয়া যায়।

default-image

সওদার স্বত্বাধিকারী আফনান আলম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। প্রায় ২ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী নিয়ে তিনি অনলাইনে কাজ করছেন। তিনি বলেন, মাটির ফিল্টার প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে। পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে ঠান্ডা রাখার জন্যই মূলত মাটির ফিল্টার ব্যবহার হয় আর অন্য সব উপকার তো আছেই। তবে মাটির ফিল্টারে ২ দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এতে পানিতে শেওলা জমে যাবে। মাটির ফিল্টার সাবান দিয়ে ঝামেলা ছাড়া সহজেই পরিষ্কার করা যায়। তবে ধোয়ার পর সাবান ভালোভাবে দূর করতে হবে। কারণ বন্ধ জায়গা বলে এতে সহজেই সাবানের গন্ধ জমে যাবে। মাটির ফিল্টার ভেঙে না গেলে অনেক বছর পর্যন্ত ব্যবহার সম্ভব। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব মাটির ফিল্টারের কদর ২ বছরে অনেকটাই বেড়েছে। ৬ লিটার ও ৮ লিটার মাটির ফিল্টারের ক্রেতাই এখন বেশি। এ ছাড়া সাধারণ ফিল্টারের থেকে দেখতেও সুন্দর হওয়ায় মাটির ফিল্টার ঘরের যেকোনো জায়গাতেই সাজানো যায়।

মাটির ফিল্টারের সাইজ অনুসারে অনলাইন পেজে এর দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন