বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জীবনধারায় শরৎ-ছোঁয়া

ভাদ্রের তালপাকা গরম আর আশ্বিন মাসের ভোরের হালকা হিম ভাব, শরতের অনন্য আপন বৈচিত্র্য। বৃষ্টিও নামে কখনো। বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাবও থাকে। তাই হাত-পা ঢাকা পোশাকই বেছে নিন। নিজের ঘরের মশা নাহয় নিয়ন্ত্রণ করেছেন, বাইরের পুরো এলাকা তো আর আপনার অধীনে নেই। তাই সতর্কতাটুকু আবশ্যক। পরিপাটি থাকতে পারেন এভাবেই-প্রকৃতিকে পোশাকে ধারণ করে, উদাসী আবেগের পরশ মেখে। ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটের প্রধান নির্বাহী খালিদ মাহমুদ খান জানালেন তেমনটাই। শরতের কাশফুল কিংবা মেঘ উঠে আসতে পারে প্রকৃতির রূপ হিসেবে। প্রকৃতি থেকেই নেওয়া সাদা-কালো-ধূসর-নীল-আকাশি রঙের নানা রকম সমন্বয়ে হতে পারে শরতের পোশাক। আঁচল কিংবা পোশাকের কোনো একটি অংশে থাকতে পারে প্রকৃতির ছাপ।

default-image

এই তো সেদিন হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম, শিউলি ফুল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট গয়নায়। পথের পাশের ছোট্ট পরিসরেও তবে খুঁজে পাওয়া যায় শরৎ-ছোঁয়া! তবে ফরমাশ করে আনিয়ে নিতে চান কি এমন কিছু? সেই সুযোগও রয়েছে বটে। ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোগ মুনিরা’স কালেকশনের স্বত্বাধিকারী সিরাজুম মুনিরা জানালেন, বিগত বছরে শিউলি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কাঠ দিয়ে শিউলি ফুল তৈরি করে সেই ফুল নিয়ে এসেছিলেন গলার মালা, কানের দুল, হাতের চুড়িতে। শিউলির সাদা-কমলার ছোঁয়ায় করেছেন কড়ির গয়নাও। কড়ি আর কাপড়ের সমন্বয়ে করা চুড়িও করিয়ে নিতে পারেন শরতের রং দিয়ে। চাইলে তাঁর থেকে শিউলি ফুল আঁকিয়ে নেওয়া যাবে টিপ কিংবা আংটিতে।

মনের সময়

default-image

শরৎ নাকি বিষণ্নতার কাল। ষড়্ঋতুর বৈচিত্র্যের এই দেশে প্রকৃতিতে বিষণ্নতার জায়গা কোথায় বলুন? গগনশিরীষ, ছাতিম আর বকফুলের কাল শরৎ। নগরপ্রান্তে পত্রিকার পাতা ওলটাতে গিয়ে এগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর মনে হচ্ছে? শহুরে জীবনের পথের বাঁকেও থাকতে পারে সত্যিকারের শিউলির সুমিষ্ট ঘ্রাণের আবেশ। শৈশবের ভোরে ঘুম ভেঙে ঝুড়ি হাতে নিয়ে খানিক পথ পেরিয়ে শিউলি কুড়াতে যাওয়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। ফুলগুলোকে সতেজ রাখার প্রয়াসে ফ্রিজেও রেখেছি। এমন ছেলেমানুষির কথা জেনে কি পাঠক হেসে ফেললেন? শিউলির বোঁটা থেকে রং তৈরির প্রয়াসও যে ভোলার নয়। শরৎ ঘিরে এমন দারুণ স্মৃতি হয়তো রয়েছে আপনার ঝুলিতেও। তারুণ্যের আবেগে ভোরের শিউলি কুড়িয়ে ঝুড়ি হাতে ক্লাসরুমে ঢোকার দিনটার কথাও মনে পড়ছে, সে তো এই ‘কাঠখোট্টা’ রাজধানী শহরেই। শহর ছাড়িয়ে একটু দূরেই কিন্তু কাশফুলের রাশি আছে আজও। ঢাকার বসুন্ধরা ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাশফুলের শুভ্রতা। ফুরফুরে মনে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন