default-image

এই বুঝি শীত এল! এমনই এক আবহাওয়া চলছে কয়েক দিন ধরে। শীতের ভাবগতি ঠিকঠাক না থাকলেও বাজার নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে শীতপোশাক। ছেলেদের শীতপোশাকের বাজারে এবারও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে জ্যাকেট। জ্যাকেট একদিকে যেমন শীত পাহারা দেয়, অন্যদিকে ফ্যাশনের দিক থেকেও কম যায় না। তাই তরুণদের কাছে শীত তাড়াতে জ্যাকেটই প্রিয় অনুষঙ্গ।

রাজধানীর বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে জ্যাকেটের বাজার। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসছে নতুন নতুন ডিজাইনের জ্যাকেট। যেহেতু এখনো সেভাবে শীতের প্রকোপ পড়েনি, তাই সামার জ্যাকেট বা হালকা ধরনের জ্যাকেটের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া ডেনিম জ্যাকেট, লেদার জ্যাকেট, হাতাকাটা জ্যাকেটও বেছে নিচ্ছেন অনেক ক্রেতা।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইলরের ডিজাইনার মিরাজ তাজ জানালেন, বাংলাদেশের শীতকালের কথা মাথায় রেখে হালকা ওজনের স্টাইলিশ ট্র্যাকার স্যুট নিয়ে এসেছেন তাঁরা। এই জ্যাকেটগুলোর বাইরের আবরণে প্যারাস্যুট কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

ফ্যাশন ব্র্যান্ড সারা লাইফস্টাইলের ডিজাইনিং বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক শামীম রহমান জানান, এ বছর জ্যাকেটের রঙের ক্ষেত্রে লাল, হলুদের মতো উজ্জ্বল রংগুলো প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ছেলেদের সব সময়ের পছন্দ কালো আর নেভি ব্লু রঙের জ্যাকেট তো আছেই।

বোম্বার জ্যাকেট, উইন্ড ব্রেকার, ভেস্ট, টুপিওয়ালা জ্যাকেট ছাড়াও মোটরবাইকচালকদের জন্য তাঁরা এনেছেন বাইকার জ্যাকেট। যা একই সঙ্গে বাতাস প্রতিরোধ করবে আবার ভেতরে উষ্ণতাও ধরে রাখবে বলে জানান তিনি।

কিছুটা ভারী ধরনের জ্যাকেট যাঁদের পছন্দ, তাঁদের জন্য রয়েছে চামড়ার জ্যাকেট। গরুর ও ভেড়ার চামড়ার জ্যাকেটের পাশাপাশি বাজারে রয়েছে পিইউ বা কৃত্রিম চামড়ার জ্যাকেট।

ফ্যাশন হাউস ডিমান্ডের প্রধান ডিজাইনার রাসেল মাহমুদ জানালেন, দেখতে আকর্ষণীয় ও দাম কিছুটা কম হওয়ায় আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম চামড়ার জ্যাকেটগুলো তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এবারের শীতে জ্যাকেটের রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রংগুলো দেখা যাবে বেশি।

default-image

এদিকে ডেনিম জ্যাকেটের পাশাপাশি আবার চল শুরু হয়েছে কর্ড জ্যাকেটের। জ্যাকেটের পাশাপাশি কর্ডের শার্টও এনেছে ক্লাবহাউস। ফ্যাশন হাউসটির প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার ফারজানা খানম বলেন, ‘একসময় কর্ডের প্যান্টের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। আমরা সেই ভাবনা থেকেই এবার কর্ডের জ্যাকেট ও শার্ট এনেছি। এই জ্যাকেটগুলো তরুণ ও মধ্যবয়স্ক, উভয়ের জন্যই বেশ মানানসই।’

এ ছাড়া হালকা শীতে তরুণদের কাছে হাতাকাটা জ্যাকেটগুলোও বেশ জনপ্রিয়। ফুল হাতা কিংবা হাফহাতা এক রঙের টি-শার্টের ওপর হাতাকাটা জ্যাকেটগুলো দারুণ মানিয়ে যায়।

যেহেতু করোনাকাল তাই বাইরে থেকে বাসায় ফিরে জ্যাকেট ধোয়ার কাজটাও করতে হবে। সারা লাইফস্টাইলের ডিজাইনার শামীম বলেন, চামড়ার জ্যাকেট ছাড়া অন্য ট্রেন্ডি জ্যাকেটগুলো, যেমন বোম্বার, ডেনিম বা কর্ড কাপড়ের জ্যাকেট খুব সহজেই হাতে এবং ওয়াশিং মেশিনের সাহায্যে ধুয়ে ফেলা যায়। আর ভেতরের অংশে প্যাড বা ফোমবিহীন জ্যাকেটগুলো খুব দ্রুতই রোদে শুকিয়ে যায়।

কোথায় পাবেন

ঢাকার নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা, পিংক সিটি, রাপা প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার, নর্থ টাওয়ার, পুলিশ প্লাজা, পলওয়েল কারনেশন, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন জায়গায় ছেলেদের বাহারি ডিজাইনের জ্যাকেট মিলবে।

দামদর

জ্যাকেটের ডিজাইন, কাপড়ের মান ও ব্র্যান্ডভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। প্যারাস্যুট কাপড়ের বোম্বার জ্যাকেটগুলো পাবেন দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। কৃত্রিম চামড়ার জ্যাকেটের দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে। চাইলে ঢাকার রায়েরবাজার থেকে ফরমাশ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের চামড়ার জ্যাকেট বানিয়ে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বেশি পড়বে। ডেনিম আর কর্ডের জ্যাকেটগুলো পেয়ে যাবেন এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। একই দামের মধ্যে মিলবে ফ্যাশনেবল হাতাকাটা জ্যাকেটগুলো। কিছুটা দামদর করে পোশাক কিনতে চাইলে ঢুঁ মারতে পারেন নন-ব্র্যান্ড ও পাইকারি পোশাকের মার্কেটগুলোতে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন