এক ছাদের নিচে সব পণ্য, মানা হয় স্বাস্থ্যবিধিও—তাই অনেকে সুপারশপে কেনাকাটা করতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে।
এক ছাদের নিচে সব পণ্য, মানা হয় স্বাস্থ্যবিধিও—তাই অনেকে সুপারশপে কেনাকাটা করতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে।ছবি: কবির হোসেন

নির্বিঘ্নে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার জন্য শহুরে জীবনে দিন দিন বাড়ছে সুপারশপের জনপ্রিয়তা। কেনাকাটায় ঝামেলা এড়ানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে সুপারশপে সাশ্রয় হয় সময়ের। তাই মানুষের কাছে নির্ভরতার অপর নাম হয়ে উঠেছে এই সুপারশপগুলো।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন ফেরদৌসী শম্পা। সুপারশপের নিয়মিত ক্রেতা তিনি। বলছিলেন, ‘বাজার বা সাধারণ দোকানে গেলে যেমনটা দেখা যায়, সহজেই প্রয়োজনীয় পণ্যটি হয়তো হাতের নাগালে পাই না। সুপারশপের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। খুব সহজেই প্রয়োজন বুঝে বিক্রেতারা পণ্যগুলো চোখের সামনে তুলে ধরে।’

এ ছাড়া কাঁচাবাজারের মানুষের ভিড়, নোংরা পরিবেশ—সবকিছুই কেনাকাটায় বিঘ্ন ঘটায়। কিন্তু সুপারশপের পরিবেশ একেবারেই উল্টো। এখানে পরিচ্ছন্ন নিরাপদ পরিবেশে সবাই মিলে নির্বিঘ্নে বেছে নিতে পারেন তাঁদের পছন্দের পণ্য।

সুপারশপের এই ধারণা এখন আর আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। বড় বড় ব্র্যান্ড সুপারশপ তো আছেই, এ ছাড়া এখন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট সুপারশপ। কাঁচাবাজার, মাছ, মাংস, চাল, ডাল, আদা, রসুন, আলু, পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি শ্যাম্পু, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো গ্রোসারি পণ্যও মিলছে এসব সুপারশপে। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি সুপারশপেই আলাদাভাবে থাকছে ক্রোকারিজ, শিশুপণ্য আর শুকনা খাবারের জোন। কোনো কোনো সুপারশপে আবার থাকছে পোশাক, জুতা, কসমেটিকসের মতো লাইফস্টাইল পণ্যের পসরাও।

একই সঙ্গে একই ছাদের নিচে সবকিছু মিলে যায়, আবার খুব দ্রুত সময়ে কেনাকাটাও করা যায়। পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশও সুপারশপের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘বাড়ির ছোট শিশুটিকে নিয়েও অনায়াসে এখানে এসে কেনাকাটা করতে পারি। যেটা হয়তো কাঁচাবাজারের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত সুপারশপে কেনাকাটা করি।’—বলেন ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা রাবেয়া রাবু। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও সুপারশপের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ বলে মনে করেন অনেক ক্রেতাই। মানুষ সবকিছুতেই এখন একটু স্বাচ্ছন্দ্য আর আরামের খোঁজ করে। যেমন সারা দিন অফিস শেষে গরমে কাঁচাবাজারে ঘেমে–নেয়ে বাজার করাটা বেশ অস্বস্তিকরই বটে। এ জন্য সুপারশপেই নিয়মিত কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন বলে জানান মিরপুরের বাসিন্দা আহমেদ রিয়াজ। ‘অনেক সময় অফিস শেষ হতে হতে রাত হয়ে যায়। তখন বাজারে গিয়ে ভালো বা ফ্রেশ জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না। সুপারশপে সেই ঝামেলা থাকে না। সব সময়ই সব ধরনের পণ্যের বিপুল মজুত থাকে এই শপগুলোতে। যে কারণে প্রয়োজনীয় পণ্যটি না পাওয়ার শঙ্কা থাকে না ক্রেতাদের।’—এমনটাই বলছিলেন আহমেদ রিয়াজ।

করোনার এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করা, হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার বিষয়টি প্রতিটি সুপারশপ কঠোরভাবে ক্রেতাদের মানতে বাধ্য করছে। যে কারণে ক্রেতাদেরও সুপারশপগুলোর প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে দিন দিন। সময়োপযোগী নানা নতুন নতুন সেবাও সংযুক্ত হচ্ছে সুপারশপগুলোয়। হোম ডেলিভারি বা বাড়ি গিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এখন সুপারশপগুলোর নতুন এক জনপ্রিয় সেবা। সুপারশপ স্বপ্নর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান বলছিলেন, করোনার এই সময়ে স্বপ্ন তার ক্রেতাদের জন্য শুরু করেছে হোম ডেলিভারি সেবা। এই সেবার মাধ্যমে একজন ক্রেতা ঘরে বসে ফোনের মাধ্যমে স্বপ্ন থেকে তার প্রয়োজনীয় পণ্যটি অর্ডার করতে পারবেন। এরপর স্বপ্ন থেকে পণ্যটি সরাসরি চলে যাবে তাঁর বাসায়। চাইলে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমেও ক্রেতারা দেখে তাঁদের প্রয়োজনীয় পণ্যের ফরমাশ দিতে পারবেন। ‘আসলে অনেকে ই–কমার্সের সঙ্গে হোম ডেলিভারির বিষয়টি এক করে ফেলেন। তবে দুটি বিষয় কিন্তু এক নয়। এখনো অনেকের কাছে অনলাইন কেনাকাটার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আবার অনেকেই আছেন অনলাইনে যাঁরা যুক্ত নন, তাঁদের কথা ভেবেই স্বপ্ন ফোনে হোম ডেলিভারি ব্যবস্থা চালু করেছে।’ এই সেবা তাঁদের নতুন সংযোজন হলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ভবিষ্যতে এই সেবার সঙ্গে ক্রেতাদের সুবিধার্থে আরও নানা সেবা যুক্ত হবে বলে জানালেন সাব্বির হাসান।

বিজ্ঞাপন

সুপারশপের কেনাকাটায় বিশেষ সুবিধা

এই সময়ে প্রায় সব সুপারশপেই কমবেশি সব ধরনের কেনাকাটায় দিচ্ছে বিশেষ সুবিধা। কোনো কোনো সুপারশপে থাকছে ফ্রি হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা। থাকছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাশব্যাকের অফার। সুপারশপ আগোরায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক কার্ডে থাকছে নানা ধরনের ক্যাশব্যাক অফার। ক্রেতারা এই সব ব্যাংকের কার্ডে কেনাকাটায় পাবেন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। এ ছাড়া আগোরার প্রতিটি আউটলেট থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে ১০০০ টাকার কেনাকাটায় থাকছে ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা। এদিকে লকডাউনের সময়ে সুপারশপ মীনা বাজার ক্রেতাদের দিচ্ছে বিশেষ সেবা। মীনা বাজারের অ্যাপ মীনাক্লিক ডাউনলোড করে আপনার দরকারি পণ্য অর্ডার করলেই পাবেন ফ্রি ডেলিভারির সুবিধা। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। এদিকে সুপারশপ স্বপ্নতে সারা বছর কেনাকাটার ওপর ক্রেতাদের জন্য থাকছে পয়েন্ট সেবার আয়োজন। ১০০ টাকার কেনাকাটায় ক্রেতারা ১ পয়েন্ট করে পাবেন। এভাবে ৭৫ পয়েন্ট হলে যেকোনো কেনাকাটায় ক্রেতারা পাবেন ৭৫ শতাংশ ছাড়। এ ছাড়া পণ্যভিত্তিক কার্ড সুবিধা শুরু করতে যাচ্ছে সুপারশপ স্বপ্ন।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন