বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশান্তিতে স্পা

default-image

কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকাই বুঝি এ যুগের নির্মম সত্য। নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখছেন কি? নিজের প্রশান্তির দারুণ এক মাধ্যম হতে পারে স্পা। এমনটাই বললেন হারমোনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। মাসে অন্তত একবার তো বটেই, সম্ভব হলে ১৫ দিন অন্তর স্পাতে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘গাড়ি যেমন কিছুদিন অন্তর সার্ভিসিং করানোর প্রয়োজন পড়ে, তেমনি মানবদেহের সার্ভিসিং যেন এই স্পা।’ আরও বলছিলেন, কর্মোদ্যম বাড়ে, এমন সেবা গ্রহণে তৈরি হয় ইতিবাচক মানসিকতা। স্পায় একটি ‘সামগ্রিক’ সেবা পাওয়া যায় বলেই জানালেন তিনি।

করোনাকালে আর্থসামাজিক বিপর্যয়ে কেটেছে অস্থির সময়, হয়তো মেলেনি বন্ধুদের নিয়ে হইহল্লা করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। এমন সময়ে স্নায়বিক চাপ কমানোর দারুণ উপায় হতে পারে স্পা। দেহ-মন-আত্মার সমন্বয় ঘটাতে স্পাতে দক্ষ হাতের সেবা নিতে পারেন উষ্ণ তেল, লেবু, নিমপাতার মতো নানা আয়ুর্বেদিক উপকরণ দিয়ে। শরীর হালকা অনুভব করবেন। পাথরের ব্যবহারেও পাবেন আয়েশ। দেহের আকুপ্রেশার পয়েন্টগুলোকে মাথায় রেখে সেবা দেওয়া হয় হারমোনি স্পায়। ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন হয়ে থাকে ভিন্ন রকম। তবে বিন্নি চালের ‘নবোঢ়া খিজি’ সেবা নিতে পারেন যে কেউ, এতে ত্বকের দাগ-ছোপ দূর হয়ে যায়। ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে, তেমনি আবার মানসিক চাপও কমে। ‘চক্রধারা’য় চলে যায় চুল পড়ার সমস্যা, এতেও কমে মানসিক চাপ। ‘শিরোধারা’ স্নায়ুর জন্য উপকারী। রূপচর্চাকেন্দ্রগুলোতে নিজের সমস্যা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন, কোন ধরনের সেবা আপনার উপযোগী।

স্পাতে উপশম

default-image

ক্লান্তি উপশম তো বটেই, স্পায় হতে পারে নানাবিধ ব্যথার উপশমও। ভেতর থেকে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করে স্পা। স্পাতে মন ও শরীর হয়ে ওঠে সতেজ। ব্রণ বা মেলাসমার মতো সমস্যার জন্য যেমন সেবা রয়েছে, তেমনি সমাধান রয়েছে চুল পড়ারও। শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে মেদ জমে থাকলে সেটির সমাধান পেতে পারেন ড্রাই কাপিংয়ে। হার্বস আয়ুর্বেদিক ক্লিনিকের আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমি জানালেন এমনটাই। হাতে তৈরি তেল ও অন্যান্য আয়ুর্বেদিক উপকরণ ব্যবহার করা হয় সেখানে।

ভিন্নতা পরিবেশে

default-image

সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান জানালেন, স্পার পরিবেশটাই একেবারে অন্য রকম। নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে মুগ্ধতা জাগানো প্রকৃতির ছন্দ থেকে নেওয়া মিষ্টি শব্দে আসে ভিন্ন আমেজ। পাখির ডাক কিংবা জলধারার শব্দ; কোমল, সুরেলা আওয়াজ থাকে স্পাতে। থাকে সুঘ্রাণের আবেশ। শান্ত, সমাহিত ও আয়েশি এই পরিবেশে যেকোনো সেবা গ্রহণই বেশ আরামদায়ক। প্রচণ্ড চাপ বা ধকল সয়ে যাঁদের জীবনের পথে চলতে হয় প্রতিনিয়ত, তাঁদের জন্য বেশ উপযোগী। স্পাতে কিছু বিশেষায়িত সেবাও রয়েছে। যেমন বডি স্ক্রাবিং।

প্রতি মাসেই এক-দুবার এই সেবা নেওয়া হলে ত্বকের বিভিন্ন অংশের রঙে আর দৃশ্যমান পার্থক্য থাকে না, ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। আবার কেবল পায়ের থাই মালিশেই সতেজ হয়ে ওঠে পুরো শরীর। হাত-পা আর চুলের জন্যও সেবা রয়েছে। প্যারাফিন মোমের বিশেষায়িত ব্যবহারে হাত ও পায়ের ত্বক হয়ে ওঠে কোমল। বিশেষ ধরনের স্নানেরও সুযোগ রয়েছে সেখানে। এরই একটি দুধ, গোলাপের পাপড়ি ও অন্যান্য উপকরণের সমন্বয়ে এক স্নান—ক্লিওপেট্রা বাথ। সুগন্ধি তেল কিংবা খানিক উষ্ণতার প্রয়োগও হয় সেখানে, বিশেষ সেবায় মেদও কমে। কিছু মালিশ নিতে পোশাক বদলানোরও প্রয়োজন পড়ে না।

জেনে রাখা ভালো

default-image

সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্রগুলোতে প্রচলিত সেবার চাইতে স্পাতে একটু বেশি সময় প্রয়োজন হয়। সে রকম প্রস্তুতি ও সময় নিয়েই যাওয়া ভালো স্পাতে। কোনো কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্পাতে গিয়ে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে থাকতে পারে নিষেধাজ্ঞা। গর্ভাবস্থায় কিংবা শরীরের কোনো হাড় ভেঙে গিয়ে থাকলে নির্দিষ্ট কোনো ভঙ্গিতে থাকাটা অসুবিধাজনক হতে পারে, তাই সেসব সেবা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন