বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শুরু হয়েছিল সিরামিকের পণ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মরণচাঁদ পালের তৈরি সিরামিকের সামগ্রী বিক্রি করা হতো রঙে। এই মৃৎশিল্পীর শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাসভবন হোয়াইট হাউসেও সংরক্ষিত আছে। সেই বিক্রির টাকা দিয়ে আবার নতুন করে সিরামিকের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হতো। ক্রমেই বাড়ে এর চাহিদা।

১৯৯৫ সালে সিরামিকের পাশাপাশি আসে শাড়ি। তবে পণ্যের দিক থেকে রঙের সত্যিকারের সাফল্য আসে পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবি আসার পর তত দিনে শত শত তাঁতি প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন রঙের সঙ্গে। ২০১০ সাল জাতীয় জাদুঘরে রংধনু শিরোনামে আয়োজন করা হয় এক প্রদর্শনীর। সাধারণ মানুষ আর শিল্পবোদ্ধা—দুই শ্রেণিরই মন কেড়ে নেয় পোশাকগুলো।

বিশ্বরঙের পোশাকে মোটিফ হিসেবে উঠে এসেছে শখের হাঁড়ি, মুখোশ, নকশি পাখা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলার পটচিত্র, পঞ্জিকা, বাংলা সিনেমার পোস্টার, পানামনগর, কান্তজির মন্দিরের টেরাকোটা, রিকশা পেইন্টিংসহ আরও নানা কিছু। বাংলার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মিশেলে ফ্যাশনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিশ্বরঙ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়া ও কানাডায় এই ফ্যাশন হাউসের পণ্যের প্রদর্শনী হয়েছে।

মহামারিকালেও তাঁতিদের কাজ থামায়নি বিশ্বরঙ। অনলাইন পরিষেবার মাধ্যমে ছোট করে হলেও চলেছে বিশ্বরঙের কর্মকাণ্ড। ২৭ বছরের পথচলায় বিশ্বরঙের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব সাহা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বরঙ সব সময় শিকড়ের কাছে ফেরা সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাসী। আমরা আমাদের স্থানীয় কারিগর, তাঁতি, সূচিশিল্পী ও কারুশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করি। আনন্দময় ও স্মৃতিময় এই পথচলায় বিশ্বরঙ পরিবারের সবাইকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা আর অভিনন্দন।’

নকশা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন