default-image

প্রথমেই আসি কেন সংক্রমণ বাড়ল? স্বাস্থ্যবিধি মানতে যেসব জনসচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা ভেঙে পড়েছিল। জনসচেতনতায় ক্লান্তির ভাব চলে আসছিল। তাই ধাক্কাটি দ্রুত এসেছে। সংক্রমণ রোধের ব্যবস্থাও আমরা মোটামুটি জানি। আবার লকডাউনের মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশের কার্যকর হয় না, এটা বাস্তবতা। ইতালি, চীন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে লকডাউন কার্যকর করতে পেরেছে। কারণ, তাদের হাতে সেই কৌশল ও প্রযুক্তি আছে।

এ দেশে লকডাউনের মতো সবকিছু বন্ধ করে দিলে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের জীবিকার ওপর চাপ আসে, সেটা আমরা দেখেছি। এমন অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টিকা প্রদান—এসব বিষয়কেই মূল কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে নিতে হবে। টিকা প্রদান কার্যক্রমকে ভাইরাসের গতির আগে নিয়ে যেতে হবে। তা না পারলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

এ দেশে লকডাউন দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। কারণ, লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারব না। লকডাউন দেওয়া হলো, কিন্তু সংক্রমণের সুযোগ থাকল। তাহলে আমরা ১৫ দিন শুধু ঘরে বসে থাকব। এতে অর্থনীতির ক্ষতিটাই হয়ে যাবে। তাই এবারের সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির গতি অনিশ্চিত। আমরা শুধু বলতে পারি, কী করতে হবে। কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলে দিনমজুর, সেলুনকর্মী, পরিবহনকর্মী, রেস্তোরাঁকর্মী—এমন শ্রেণি প্রথম ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, মানুষ এসব খাতের সেবা নিতে আসবে না। পরের ধাপে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে। এমনিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে। আগামী তিন–চার মাসে রপ্তানি আগের মতো অবস্থায় যাবে না। এ ছাড়া ছোট ব্যবসায়ীরা আবার বিপদের মধ্যে পড়ে যাবেন।

পোশাক রপ্তানিতে আরেক ধরনের সমস্যা আছে। উন্নত দেশগুলো টিকা দেওয়ার কাজটি সেরে ফেলছে। ফলে তাদের অর্থনীতির গতি ৃফিরে আসছে। অদূর ভবিষ্যতে পোশাকের চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সে চাহিদা পূরণ করতে পারব কি না, সন্দেহ আছে।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন