default-image

প্র-বাণিজ্য: করোনার শুরুর দিকে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সামিরা আহসান: বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের মার্চে। তার আগের মাসে আমি জার্মানিতে অ্যাম্বিয়েন্ত নামের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলাম। তো আমাদের স্টল যে জোনে ছিল, সেখানে চীনা অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের স্টল ছিল। যেহেতু চীন থেকে মহামারি ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছিল, তাই ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক ক্রেতাই আমাদের জোনে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে করে আমরা পুরোনো ক্রেতাদের দেখা পেলেও নতুন কাউকে পাইনি। তখনই বুঝতে পারি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সাল কঠিন যাবে। সাধারণত প্রদর্শনী থেকে ফেরার পর মার্চ থেকে ক্রয়াদেশ আসতে থাকে। তবে করোনার কারণে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দেননি। দেশে লকডাউন শুরু হওয়ার পর আমরা কারখানা ও কার্যালয় বন্ধ করে দিই। তবে সময়মতো কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছি। কোনো কর্মী ছাঁটাই করিনি।

প্র-বাণিজ্য: ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করলেন কবে? বর্তমান পরিস্থিতি কী?

সামিরা আহসান: করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর মে মাস থেকে ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করি। তখন কর্মীদের ওভারটাইম করিয়ে পণ্য পাঠাই। সেই পণ্য ছিল ক্রিসমাসের। তবে ইউরোপের দেশগুলো তখন পুরোদমে লকডাউনে চলে যায়। ফলে ক্রেতারা পণ্য বিক্রি করতে পারেননি। বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম আমরা। কারণ, ক্রেতাদের কাছে পণ্যের মজুত রয়ে গেছে। অন্যদিকে করোনার কারণে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হচ্ছে না। আবার বিশ্বজুড়ে মহামারি ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে। ফলে নতুন ক্রয়াদেশ খুব বেশি আসছে না। ক্রেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও কিছুদিন না গেলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

প্র-বাণিজ্য: সরকার তো রপ্তানি খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। আপনি কি সেখান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন?

সামিরা আহসান: আমার ঋণের প্রয়োজন ছিল। তবে আবেদন করিনি। কারণ, ঋণ বিষয়টি আমি কেন জানি ভয় পাই। এখনো ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যাংকঋণ নিইনি।

প্র-বাণিজ্য: তাহলে করোনার শুরুতে কর্মীদের বেতন কীভাবে দিলেন? আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মী কত?

সামিরা আহসান: আমাদের কর্মীর সংখ্যা ৩০-৩৫ জন। নিজের পুঁজি থেকেই কর্মীদের বেতন দিয়েছি। ঈদের বোনাস দিয়েছি।

প্র-বাণিজ্য: করোনা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাওয়া যাবে, এমন আশার কথা কেউ শোনাতে পারছে না। তো বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের মতো ছোট প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন?

সামিরা আহসান: করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হবে বলেই মনে হচ্ছে। ফলে টিকে থাকতে আমাদের সরকারের প্রণোদনা লাগবে। তবে ব্যাংকঋণ নয়, আমি সরকারের কাছে অন্যভাবে সহায়তা চাইব। সরকারের তরফ থেকে যদি ক্রয়াদেশ পেতে কিছুটা সহযোগিতা করা যায়, তাহলে ছোট উদ্যোক্তারা বেশি উপকৃত হবেন। কারণ, শুধু ঋণ নিলে তো হবে না, কাজ লাগবে। কাজ না থাকলে ঋণ নিলে বিপদ হবে আরও বড়। যেভাবেই হোক, ঋণ তো পরিশোধ করতে হবে। আমরা পাট ও চামড়াজাত পণ্য ও টেরাকোটা রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ১৫-২০ শতাংশ নগদ সহায়তা পেতাম। এখন সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নগদ সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন।

প্র-বাণিজ্য: ক্রয়াদেশ পেতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

সামিরা আহসান: কারা পণ্য রপ্তানি করে, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেটি জানে। অন্যদিকে বিদেশে থাকা আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানেন, কারা পণ্য কেনেন। ফলে দূতাবাসগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকার ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্রয়াদেশ পেতে সহায়তা করতে পারে। এটি ভালোভাবে করা গেলে দেশ উপকৃত হবে।

প্র-বাণিজ্য: করোনায় তো একধরনের শিক্ষা সবারই হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসায় সেই শিক্ষা কীভাবে কাজে লাগাবেন?

সামিরা আহসান: এত দিন শুধু রপ্তানি করেছি। এবার দেশীয় বাজারের দিকেও আমরা নজর দেব। অভ্যন্তরীণ বাজার সম্ভাবনাময় হলেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলোর প্রধান একটি হচ্ছে—সস্তা চীনা পণ্য। অনেক ক্রেতার কাছেই পণ্যের মানের চেয়ে মূল্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ক্রেতাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া অনলাইনের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। সেটি কাজে লাগিয়ে আমরা অনলাইনে পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছি।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন