বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: দেশে এসির বাজার কত বড়? সেখানে আপনাদের অবস্থান কেমন?

নুর এ আলম: আমাদেহিসাবে বাংলাদেশের আবাসিক (রেসিডেনসিয়াল) ও বাণিজ্যিক (কমার্শিয়াল) এসির বাজার বর্তমানে বছরে প্রায় চার লাখ সেট। এর বাইরে দেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার্শিয়াল এইচভিএসি সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে। আশার দিক হচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই এসির বাজারের আকার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অধিকাংশ এসি দেশেই উৎপাদন হয়, বাকিগুলোর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কোম্পানি গ্লোবাল ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশে সংযোজন করে থাকে।

এলিট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এক থেকে আড়াই টন পর্যন্ত আবাসিক এসি (স্প্লিট ও পোর্টেবল) এবং দেড় টন থেকে পাঁচ টন পর্যন্ত বাণিজ্যিক এসি (সিলিং, ক্যাসেট, ডাক্ট, ফ্লোর স্ট্যান্ডিং) তৈরি করি। এ ক্ষেত্রে ইনভার্টার, নন ইনভার্টার, কুলিং অনলি ও হিটিং অ্যান্ড কুলিংসহ সব ধরনের প্রযুক্তির এসিই উৎপাদন করে। মিডিয়া ও এলিট দুটো ব্র্যান্ড মিলিয়ে আমরা দেশের বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ এসি উৎপাদন করি। আমাদের এসির দাম সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা।

প্রথম আলো: দেশের হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?

নুর এ আলম: আমার স্বপ্নটা খুব সিম্পল। যে রকম তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আমরা সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত, তেমনি হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের রপ্তানিকারক হাব হিসেবেও বাংলাদেশকে দেখতে চাই আমরা। মাত্র ১০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠানও যদি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এসিসহ হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাতেও আমরা আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হব।

প্রথম আলো: গ্রাহকদের অনেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে পছন্দ করেন। এ পরিস্থিতি পাল্টাতে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

নুর এ আলম: এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেশে উৎপাদিত পণ্যের মান ভালো হলেও আমরা ক্রেতাদের মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দিতে পারিনি। দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৮ সালে আমরা জাপানি কোম্পানি প্যানাসনিকের নিজস্ব গবেষক ও মাননিয়ন্ত্রক (কিউসি) দল দিয়ে কারখানা নিরীক্ষা করিয়েছি। তখন প্যানাসনিকের প্রকৌশলীরা আমাদের পণ্যের মান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। অথচ দেশের অনেক ক্রেতা প্রায় এক লাখ টাকা দিয়ে প্যানাসনিকের এসি কিনলেও তার অর্ধেক দামে এলিটের এসি কিনতে দ্বিধাবোধ করেন। আমি এটিকে মূলত আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কমিউনিকেশন ব্যর্থতা বলে মনে করি। এই জায়গায় আরও কাজ করতে হবে আমাদের।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন