কোম্পানির কার্যক্রম পর্যালোচনাকারী ওয়েবসাইট কমপেয়ারেবলি সম্প্রতি তার নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে কর্মপরিবেশের সংস্কৃতিতে বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশ করেছে। এতে কর্মীদের পাওয়া বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও কর্মজীবনের ভারসাম্য ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, সর্বোত্তম কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে প্রথম স্থান পেয়েছে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি মাইক্রোসফট। ২০২১ সালের মার্চ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সারা বিশ্বের ৭০ হাজার কোম্পানির তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। কমপেয়ারেবলির ওয়েবসাইটে দেওয়া ওই সব কোম্পানির কর্মীদের মতামত ও রেটিংয়ের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

কমপেয়ারেবলি ওয়েবসাইট কোম্পানিগুলোর বেতন, ক্ষতিপূরণ, সুযোগ-সুবিধা, আচার-ব্যবহার, কর্মজীবনের ভারসাম্য, পেশাগত উন্নয়নসহ ২০টি ইতিবাচক বিষয়ে তুলনামূলক পর্যালোচনার ভিত্তিতে সর্বোত্তম কর্মপরিবেশসম্পন্ন সেরা কোম্পানিগুলোকে বাছাই করেছে। এ পর্যালোচনায় অবশ্য সেই সব কোম্পানিকেই বিবেচনা করা হয়েছে, যাদের কর্মিসংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

কমপেয়ারেবলির পর্যালোচনায় এবারও বিশ্বের সেরা কোম্পানি নির্বাচিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি মাইক্রোসফট। বিল গেটস ও পল অ্যালেন ১৯৭৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মাইক্রোসফট কম্পিউটার সফটওয়্যার, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, পিসি (পারসোনাল কম্পিউটার) ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন করে। বর্তমানে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন সত্য নাদেলা। আর মাইক্রোসফটের মোট কর্মীসংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজারের বেশি।

দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের শতবর্ষী বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস (আইবিএম) করপোরেশন। চার্লস র​্যানলেট ফ্লিন্ট ১৯১১ সালে এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন আইবিএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আছেন অরবিন্দ কৃষ্ণ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট চার লাখ কর্মী কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এটি মূলত ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন, যেটি ইন্টারনেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্যসেবা বাজারজাত করে থাকে। গুগলের উল্লেখযোগ্য পণ্যসেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনলাইন বিজ্ঞাপন, ক্লাউড কম্পিউটিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হার্ডওয়্যার ইত্যাদি। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এ কোম্পানি। এখন সিইও হিসেবে আছেন সুন্দর পিচাই। বর্তমানে গুগলের কর্মীসংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার।

কমপেয়ারেবলির তালিকায় সেরা দশে থাকা বাকি কোম্পানিগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের। কোম্পানিগুলো হচ্ছে—প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট (চতুর্থ), প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার (পঞ্চম), শিক্ষাপ্রযুক্তি কোম্পানি চেগ (ষষ্ঠ), প্রযুক্তি কোম্পানি কনসেনট্রিক্স (সপ্তম), প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিংসেন্ট্রাল (অষ্টম), ক্রেডিট রিপোর্টিং বা ঋণমান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান এক্সপেরিয়ান (নবম) এবং সুগন্ধিসহ ত্বক পরিচর্যা, মেকআপ ও চুল পরিচর্যার পণ্যসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টি লডার কোম্পানিজ (দশম)।

গত বছরের মতো এবারও মাইক্রোসফট, হাবস্পট, আইবিএম, রিংসেন্ট্রাল তালিকার শীর্ষ দশের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এ সম্পর্কে কমপেয়ারবলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাসন নাজর সিএনবিসিকে বলেন, ​‘এসব কোম্পানির সাফল্যের প্রধান কারণ হলো, তারা মহামারিকালে একদিকে কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ নমনীয় রেখেছে, অন্যদিকে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

চেগ, আইবিএম, এলসেভিয়ারসহ তালিকার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর কর্মীরা জানান, তাঁরা বৈচিত্র্যময় ও ন্যায়সংগত কাজের পরিবেশ পেয়েছেন। এ জন্য তাঁরা কোম্পানির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। কনসেনট্রিক্সের একজন কর্মচারী কমপেয়ারেবলির ওয়েবসাইটে লিখেছেন, এ ধরনের উদ্যোগগুলো কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিকে আরও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও আনন্দদায়ক’ করে তুলেছে।

সূত্র: সিএনবিসি ও উইকিপিডিয়া

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন