default-image

বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে আপনি কর দিয়েছেন। কিন্তু কর কার্যালয় আপনার দেওয়া হিসাব মানছে না। বাড়তি কর দাবি করছেন কর কর্মকর্তারা। এ নিয়ে কর আপিলাত কিংবা আদালতে মামলাও হয়েছে। দিনের পর দিন আপনি করের ঝামেলা শেষ করতে পারছেন না। কিন্তু আপনি চাইলেই আদালতের বাইরে এর সমাধান করতে পারেন। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সুযোগ নিতে পারেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এমন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রেখেছে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেখানে আপনার কর মামলাটি আছে (আপিল কর্তৃপক্ষ বা আদালত), সেখান থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি দেওয়ার পর এনবিআরের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন আপিল কর্তৃপক্ষ বা আদালতে জমা দিতে হবে। সেই আবেদন ফরমে আপনার নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), কর অঞ্চল ও সার্কেলের নাম, বিবেচ্য কর বছর, আয়কর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, করদাতার দাবির পক্ষে যুক্তি—এসব তথ্য দিতে হয়। প্রয়োজনে আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিতে হবে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনের ৫টি অনুলিপি আদালত বা আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

করদাতার কাছ থেকে আবেদন পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়ে দেবেন আদালত বা আপিল কর্তৃপক্ষ। এরপর এনবিআর তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে পাঠাবে। কমিশনার একজন উপকমিশনার ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্ব দেবেন। যত দিন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় থাকবে, তত দিন আদালতে মামলাটি স্থগিত থাকবে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করতে করদাতাকে সহায়তা করার জন্য এনবিআরের চার সদস্যবিশিষ্ট সহায়তাকারী প্যানেল আছে। এই প্যানেলে তিনজন এনবিআরের সাবেক সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একজন প্রতিনিধি আছেন।
মনে রাখবেন, আবেদন করার সময় আবেদন ফি হিসেবে ৫০০ টাকা দিতে হবে। আর যত টাকা আয়কর নিয়ে বিরোধ আছে, তত টাকার ৫ শতাংশ সহায়তাকারীর ফি হিসেবে জমা দিতে হবে। যেমন ১ লাখ টাকার সমপরিমাণ আয়কর নিয়ে বিরোধ থাকলে ৫ হাজার টাকা সহায়তাকারীর ফি হিসেবে জমা দিতে হবে।

তবে সহায়তাকারীর ফি সর্বনিম্ন আড়াই হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা বেঁধে দিয়েছে এনবিআর। তবে আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ক্ষেত্রে বিরোধীয় করের ১০ শতাংশ জমা দেওয়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযোজ্য নয়।

মনে রাখবেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোনো সমাধান হলে তা মানা বাধ্যতামূলক নয়। তখন আবার প্রচলিত ব্যবস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথম বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু হয়। পরের ৬ বছরে ৯৪৬টি আয়কর বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব নিষ্পত্তির সঙ্গে ১০ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা জড়িত। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে যতটি কেস নিষ্পত্তি হয়েছে, এর মধ্যে ৫৯৭টির সঙ্গে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আংশিকভাবে একমত হয়েছে ১৫০টি কেসের ক্ষেত্রে। আর ১৯৯টি কেসে একমত হতে পারেননি কেউ।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন