default-image

করোনার এই ধাক্কা অপ্রত্যাশিত। আমরা ভেবেছিলাম, করোনার সংকট কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থার দিকে যাচ্ছি। আমরা যখন সুদিনের বাতাস পাচ্ছিলাম, তখন দেশে করোনা পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। এটি হঠাৎ করেই হয়েছে। ৮-১০ দিনের মধ্যেই সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এটির জন্য আমরা একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।

বর্তমানের সঙ্গে এক বছর আগের পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছর প্রায় একই সময় সারা বিশ্ব লকডাউনে গিয়েছিল। আমরাও যখন লকডাউনে গেলাম এবং কারখানা বন্ধ রাখলাম, তখন কিন্তু বিদেশি ক্রেতাদের একধরনের সহানুভূতি পেয়েছিলাম। তবে এখনকার পরিস্থিতি খুবই জটিল। কারণ, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ যখন খারাপ হয়ে গেল, তখন আমাদের ক্রেতা দেশ ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা অতটা খারাপ না। মহামারির সংক্রমণ কমাতে সরকারের শিল্পকারখানা খোলা রেখে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় কারখানার ভেতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকেরা বেশি সংখ্যায় সংক্রমিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। সেটি হলে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ব আমরা। কারণ, ক্রেতাদের দেশে পরিস্থিতি ভালোর দিকে রয়েছে। আমাদের প্রতিযোগী দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশেও লকডাউন নেই। ফলে ব্যবসা চলমান রাখতে প্রতিযোগী দেশগুলোতে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিতে পারেন ক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

গত বছর যখন করোনা সংক্রমণ পিকে ছিল, তখন আমরা কারখানা খুলেছি। সবার চেষ্টায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয়, গতবার এই সময়ে আমরা যতটুকু সচেতন ছিলাম, এবার সামগ্রিকভাবে সেটি কম। সংক্রমণ কমাতে লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। দ্রুত লকডাউন শেষে সবকিছু খুলে দেওয়ার আগেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে। লকডাউনের সময় শিল্পের কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য পরিবহনে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তৈরি পোশাকশিল্পে গতবারের মতো সরকারের সহায়তা লাগবে কি না, সেটি বলার মতো সময় এখনো আসেনি। কারণ, কারখানা চালু আছে। তবে মানসিকভাবে একটি প্রস্তুতি থাকা দরকার। আশা করি, সরকারের সেই প্রস্তুতি রয়েছে।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন