default-image

শুরুর দিকে গ্রামের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিলাম। বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাংকগুলো শাখা করতে চায় না। এ জন্য এটিএম বুথ ও ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর মাধ্যমেও খুব বেশি মানুষের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। বেশ খরচের বিষয়ও আছে। তাই বিকল্প চ্যানেল হিসেবে কেনিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১১ সালের মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছিলাম, যা রকেট নামে পরিচিত। আমরা ব্যাংকের সব ধরনের সেবা রকেটের মাধ্যমে দিতে চেয়েছিলাম। চা-নাশতা খাওয়ার টাকাও যাতে নগদ টাকার পরিবর্তে রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়, তা চেয়েছিলাম। তখন গ্রামে মোবাইলে ফ্লেক্সি লোডের টাকা দিয়ে কেনাকাটা হতো। তাই মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে সহজেই কেনাকাটা হবে, এটাই বাস্তবতা ছিল।

আমরা এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো, প্রবাসী আয় গ্রহণ, কেনাকাটা, ছোট ছোট খরচ ও ছোট ঋণ বিতরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অন্য সেবাদাতারা এদিকে নজর না দিয়ে শুধু টাকা পাঠানোর দিকে গুরুত্ব দেন। ফলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি এখন ডাকঘর ও কুরিয়ার সার্ভিসের টাকা পাঠানো সেবার বিকল্প হয়ে গেছে, অন্যদিকে তেমন নজর নেই।

বিজ্ঞাপন

এরপরও রকেটের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে টাকা জমা ও উত্তোলনই ৬০ শতাংশ। বাকিটা বেতন–ভাতা, পরিষেবা বিল, বিল গ্রহণ, সরকারি ভাতা ও প্রবাসী আয় বিতরণ। টাকা পাঠানো ও গ্রহণ ছাড়াও এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন প্রদান, বিক্রির টাকা সংগ্রহ, ভাতা প্রদান রকেটের মাধ্যমে হচ্ছে। আর গ্রামের মানুষকে পুরোপুরি ব্যাংকিং সেবায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছি। এর মাধ্যমে আমানত গ্রহণ, টাকা পাঠানোর পাশাপাশি ঋণ বিতরণও হচ্ছে। এতে পুরোপুরি ব্যাংকিংয়ের স্বাদ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন