বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: করোনার কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা এখন ঝুঁকির মুখে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানা বন্ধ থাকার পাশাপাশি পরিবহন যোগাযোগেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। করোনার এ সময় ইকমার্সের জন্য ছিল সুদিন। কিন্তু সম্প্রতি এ খাতে দেখা দিয়েছে নানা অস্থিরতা। এ অবস্থায় কেমন চলছে দারাজ বাংলাদেশের কার্যক্রম?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: অনলাইনে কেনাকাটার মাত্রা বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় দারাজ। এখন ডিজিটাল যুগ, ফলে আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসার কাজকে সহজ করে তোলা। সেটা গ্রাহকদের দিক থেকে যেমন, ব্যবসায়ীদের দিক থেকেও তা–ই। ৫০ জন ক্রেতা নিয়ে সাত বছর আগে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। বর্তমানে ক্রেতাসংখ্যা ৪০ হাজার। চার বছর ধরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ১০০ শতাংশের বেশি। করোনা মহামারি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ঠিক। তাতে আমরাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। আবার এই মহামারি সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। যেমন, আমরা স্বচ্ছভাবে চলছি এবং গ্রাহক ও বিক্রেতারা আমাদের মার্কেটপ্লেসের প্রতি আস্থা রেখেছেন।

প্রথম আলো: গ্রাহকেরা আপনাদের ওপর কীভাবে আস্থা রেখেছেন?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: শুরুর দিকে আমাদের দৈনিক ক্রয় আদেশ (অর্ডার) ছিল ৫০টি। এখন তা দৈনিক এক লাখ। ২০১৫ সালে আমরা একটু রক্ষণশীল ছিলাম। সমস্যাও ছিল। গ্রাহক, এমনকি ক্রেতাদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বিষয়গুলো বোঝাতে হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধি হতে থাকে। বলা যায় ২০১৬ সাল ছিল আমাদের জন্য মোড় ঘোরানোর বছর। ঢাকা নিউমার্কেটকেন্দ্রিক ৪৩টি মার্কেট রয়েছে। এসব মার্কেটে আমাদের ৩৫০ জন লোক ঠিক করা ছিল শুধু বোঝানোর জন্য। ডিজিটাল বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত থাকার কারণে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের বোঝানোর কাজটা সহজ ছিল।

প্রথম আলো: দারাজ কি লোভনীয় অফার দেয় না?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে আমাদের ব্যবসাপদ্ধতি ভিন্ন। হ্যাঁ, অফার আমরাও দিই। তবে সীমিত আকারে। অফারের সঙ্গে মূলত প্রচারণা (ক্যাম্পেইন) জড়িত থাকে। বড় আকারের ‘ক্যাশব্যাক’ পদ্ধতি আমাদের নেই।

প্রথম আলো: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণাও রয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই দারাজের পণ্য নিম্ন মানের। এ বিষয়ে কী বলবেন?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: আমাদের পণ্য বিলির (ডেলিভারির) হার ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ। বাকি ৬ থেকে ৭ শতাংশ বিলি না হওয়ার কারণ কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা নিজেরাই। তাঁরা অনেক সময় ক্রয় আদেশ বাতিল করেন। পণ্য বিলির পুরো বিষয়টি নিয়ে যদি একটু বলি, কিছু ক্ষেত্রে ক্রয় আদেশ আসার পর আমরা বিক্রেতাদের জানিয়ে দিই। বিক্রেতারা নির্ধারিত দামে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেন। মানের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক সময় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাকাও ফেরত দেওয়া হয় গ্রাহকদের। আমাদের অবশ্য আরেকটা পদ্ধতি আছে।

প্রথম আলো: সেটা কী?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: সেটা হচ্ছে বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে আমরা আগে নিজেদের পণ্যাগারে (ওয়্যারহাউস) রাখি। এরপর প্যাকেজিং করে নিজ দায়িত্বে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিই। এ ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণ আমরাই করি। পৌঁছানোর কাজে যুক্ত রয়েছে দারাজের ৩৫০টি গাড়ি। আর ঢাকায় আছে ২০টি প্যাকেজ স্টেশন। অনেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। নিয়ম হচ্ছে, আমাদের কাছে আগে অভিযোগ করা। এরপর অধিদপ্তরে যাওয়া। কিছু গ্রাহক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও দেন।

প্রথম আলো: ২০১৮ সালে চীনের আলিবাবা গ্রুপ দারাজ কিনে নেওয়ার পর তার কতটা প্রভাব পড়েছে আপনাদের কর্মকাণ্ডের ওপর?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: দারাজে আলিবাবা এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। কারণ, আলিবাবার একটা বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আলিবাবা গ্রুপ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে দারাজে। আমরা মনে করি, এ ব্যবসাটা স্বল্প সময়ের জন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ যদি বলি, ৫০০ কোটি বা ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কেউ একটা হাসপাতাল করলেন। প্রথম বা দ্বিতীয় বছরেই তিনি মুনাফা করে মূলধন উঠিয়ে ফেলবেন, তা তো সম্ভব নয়। আমরা একটা লম্বা সময়কে মাথায় রেখে এ ব্যবসায় নেমেছি।

প্রথম আলো: ই–কমার্স খাতের ব্যবসায় কারা নেতৃত্বে আছে এখন? অন্যদের প্রতি কোনো বার্তা আছে আপনার?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: এ খাতের বাজার আমাদের দখলে আছে ৭০ শতাংশ। হলফ করে বলতে পারি, এ খাতের ব্যবসায় শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে হলে ১৫ বছরের ধৈর্য নিয়ে আসতে হবে। আমাদের যেমন দৈনিক ক্রয়াদেশ এখন এক লাখ। তবু লোকসানে আছি। এই ক্রয়াদেশ দৈনিক ১০ লাখ না হলে ব্রেক ইভেনে (লাভ-লোকসান সমান) আসা সম্ভব হবে না। অন্যদের প্রতি আমার সাফ বার্তা হচ্ছে, এ ব্যবসায়ে নিজস্ব বিনিয়োগ লাগবে। গ্রাহকের টাকায় ব্যবসা করলে দীর্ঘ মেয়াদে টেকা যাবে না।

প্রথম আলো: আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: তার আগে বর্তমান পরিকল্পনা বলে নিই। দেশের ১৩০টি গ্রামে আমরা কেন্দ্র করছি। মোবাইল সেটআপ এবং ওয়াইফাই জোন থাকবে এতে। যাদের মোবাইল নেই কিন্তু দারাজে ক্রয়াদেশ দিতে চান, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এসব কেন্দ্র করছি। দেশের অন্তত ৫ হাজার গ্রামে আমরা এই ব্যবস্থা চালু করতে চাই। ই–কমার্স এখনো শহরকেন্দ্রিক। গ্রামে ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে হবে। বর্তমানে ছয় হাজার কর্মী রয়েছে দারাজের। আগামী নভেম্বরের মধ্যে আরও আড়াই হাজার কর্মী নেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ১৫ বছর পর এ দেশের ঘরে ঘরে পণ্য পৌঁছে দেবে দারাজ।

প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন