default-image

সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুতি ছিল না। দোকানপাট খুলে দিলেও এখন তেমন ক্রেতা নেই। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। ক্রেতারাও খরচ করতে দ্বিধান্বিত, আগামী দিনগুলোতে কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তবে এবার কৃষিপণ্যের ভালো ফলন হয়েছে। এর প্রভাব কী পড়ে, তা আগামী দু-এক মাসে বোঝা যাবে।

যা-ই হোক, সরকার মোটরসাইকেল উন্নয়ন নীতিমালা বেশ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে করেছে। কিন্তু এটা করা হয়েছিল অনেকটা অনুমানের ভিত্তিতে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন উৎপাদনকারীকে স্বীকৃতি পেতে একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও চেসিস তৈরি করতে হবে বলে বলা হয়েছে। ১০০ সিসির মোটরসাইকেলে যেটা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলে অন্য একটি যন্ত্রাংশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটা থেকে অন্যটি বদলানোর ক্ষেত্রে কী হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। বড় সমস্যা হলো, সংজ্ঞা তৈরি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। ব্যাখ্যা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বন্দরে পণ্য পড়ে থাকে। মোটরসাইকেলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা দরকার।

বিজ্ঞাপন

এটি ছাড়া আরও তিনটি বিষয়ে কাজ করা দরকার। প্রথমত, দেশে মোটরসাইকেলের সহযোগী শিল্প বা ভেন্ডর তৈরি হচ্ছে না। দেশে মোটরসাইকেলের বাজার পাঁচ লাখের। এই ছোট বাজারে একটি যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করলে তা লাভজনক হবে না। এ ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে, সমন্বয় করতে হবে। প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং ব্যক্তিগত সহজলভ্য যানবাহন নিশ্চিত করতে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংক এখনো মোটরসাইকেল কিনতে ঋণ দেওয়া নিরাপদ মনে করে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল করতে পারে। মোটরসাইকেল নীতিমালায় এটা আছে।

তৃতীয়ত, মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজ সরকারি উদ্যোগ ও বেসরকারি উদ্যোগে হতে পারে। এখন কিন্তু কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। একজন আরেকজনের কাছ থেকে শেখে। লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও বিকেন্দ্রিকীকরণ করা দরকার। যেসব সড়কে সম্ভব, সেখানে মোটরসাইকেল লেন করা দরকার। যাঁরা পুরো সময় রাউড শেয়ারিংয়ে নিয়োজিত, তাঁদের প্রশিক্ষণ ও ড্রেস কোডের আওতায় আনা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
প্র বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন